ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামি ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার বাদীর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনের নিষ্পত্তিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী এ আদেশ দেন।

বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলেও তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর নয়। শুধুমাত্র মানহানি সংক্রান্ত , যা জামিনযোগ্য। ফলে আসামিকে আগামি ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে বলা হল । আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিন মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাদী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়ীতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটানোর অভিযোগে সিএমএম আদালতে এই মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারী তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলাটিতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে আসামি খালেদা জিয়াকে ১১ জুন আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন বাদী।

এদিকে আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়াকে ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামি ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন আত্মসমর্পণ না করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার বাদীর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনের নিষ্পত্তিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী এ আদেশ দেন।

বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলেও তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর নয়। শুধুমাত্র মানহানি সংক্রান্ত , যা জামিনযোগ্য। ফলে আসামিকে আগামি ৫ অক্টোবর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে বলা হল । আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিন মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাদী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়ীতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা মানহানি ঘটানোর অভিযোগে সিএমএম আদালতে এই মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত তেজগাঁও থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারী তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলাটিতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে আসামি খালেদা জিয়াকে ১১ জুন আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন বাদী।

এদিকে আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন দন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো।’