ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা বাঁচাতে অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে: আবদুস সালাম নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সরকারের অন্য কারও মধ্যে পরিবর্তনের ছাপ নেই: মঞ্জু শিক্ষাক্ষেত্রে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট তারেক রহমান সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী ব্রাজিলকে ‘আমরা ভয় পাই না’ হাকিমি রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই: প্রধানমন্ত্রী অলিগার্কদের ধ্বংস করা বিএনপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: সিএমপি কমিশনার ‘ইতিহাস যখন সঠিকভাবে কথা বলে, বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হয়’:তথ্য মন্ত্রী

‘সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন বলে জানিয়েছেন জাজান প্রদেশের ফারাসান দ্বীপের গভর্নর হাসান বিন হোসাইন আল-হাজিমি।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার (৫ মার্চ) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের ফারাসান দ্বীপের গভর্নর হাসান বিন হোসাইন আল-হাজিমির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। সেখানে গভর্নর তার কার্যালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত যিনি ফারাসান দ্বীপ পরিদর্শনে এসেছেন। এটি এ দ্বীপবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার, সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সেদেশে বসবাসরত ২৩ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ হতে গভর্নরকে শুভেচ্ছা জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এর আওতায় পর্যটনের বিষয় উল্লেখ করে ফারাসান দ্বীপের সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক নিদর্শন ও সৌন্দর্য্য এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশেও সেন্টমার্টিনসহ এরূপ বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে মর্মে উল্লেখ করে দু’দেশের পর্যটন কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটক বিনিময়ের প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সৌদি আরবে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগে আগ্রহের বিষয়টি গভর্নরকে অবহিত করেন। অনুরুপভাবে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।

ফারাসান দ্বীপের গভর্নর সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ উল্লেখ করে এর অর্জনে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি তার পক্ষ থেকে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়েমেন থেকে হুতি মিলিশিয়া কর্তৃক এ অঞ্চলে বারবার আক্রমণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গভর্নর জানান, ফারাসান দ্বীপ এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি অনন্য সুন্দর দ্বীপ। এ অঞ্চলে ছোট বড় ২শ’টির অধিক দ্বীপ রয়েছে যার মধ্যে তিনটি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে। এ দ্বীপে প্রায় ৯০ হাজার বছর পূর্বে মানুষের বসবাস শুরু হয়। আফ্রিকার পাশে এবং লোহিত সাগরে অবস্থিত হওয়ায় ভারত এবং দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে আফ্রিকা ও আরব অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে এ দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দ্বীপটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়, রোমান সময় থেকেই এটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। ফারাসান দ্বীপ মতি, আকিকসহ অন্যান্য মূল্যবান রত্ন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

গভর্নর আরও জানান, প্রায় ১ হাজার ৪শ’ বর্গ কি.মি. দীর্ঘ এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

বৈঠক শেষে দু’টি ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। রাষ্ট্রদূত ফারাসান দ্বীপের কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এস এম আনিসুল হক ও রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বাঁচাতে অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে: আবদুস সালাম

‘সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন’

আপডেট সময় ১২:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন বলে জানিয়েছেন জাজান প্রদেশের ফারাসান দ্বীপের গভর্নর হাসান বিন হোসাইন আল-হাজিমি।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার (৫ মার্চ) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের ফারাসান দ্বীপের গভর্নর হাসান বিন হোসাইন আল-হাজিমির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। সেখানে গভর্নর তার কার্যালয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত যিনি ফারাসান দ্বীপ পরিদর্শনে এসেছেন। এটি এ দ্বীপবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের দিন। এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকার, সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সেদেশে বসবাসরত ২৩ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ হতে গভর্নরকে শুভেচ্ছা জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এর আওতায় পর্যটনের বিষয় উল্লেখ করে ফারাসান দ্বীপের সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক নিদর্শন ও সৌন্দর্য্য এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশেও সেন্টমার্টিনসহ এরূপ বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে মর্মে উল্লেখ করে দু’দেশের পর্যটন কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটক বিনিময়ের প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সৌদি আরবে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগে আগ্রহের বিষয়টি গভর্নরকে অবহিত করেন। অনুরুপভাবে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।

ফারাসান দ্বীপের গভর্নর সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ উল্লেখ করে এর অর্জনে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি তার পক্ষ থেকে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়েমেন থেকে হুতি মিলিশিয়া কর্তৃক এ অঞ্চলে বারবার আক্রমণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

গভর্নর জানান, ফারাসান দ্বীপ এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি অনন্য সুন্দর দ্বীপ। এ অঞ্চলে ছোট বড় ২শ’টির অধিক দ্বীপ রয়েছে যার মধ্যে তিনটি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে। এ দ্বীপে প্রায় ৯০ হাজার বছর পূর্বে মানুষের বসবাস শুরু হয়। আফ্রিকার পাশে এবং লোহিত সাগরে অবস্থিত হওয়ায় ভারত এবং দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে আফ্রিকা ও আরব অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে এ দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দ্বীপটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়, রোমান সময় থেকেই এটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। ফারাসান দ্বীপ মতি, আকিকসহ অন্যান্য মূল্যবান রত্ন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

গভর্নর আরও জানান, প্রায় ১ হাজার ৪শ’ বর্গ কি.মি. দীর্ঘ এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

বৈঠক শেষে দু’টি ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। রাষ্ট্রদূত ফারাসান দ্বীপের কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল এস এম আনিসুল হক ও রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান উপস্থিত ছিলেন।