ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলে দেবে মহাকাশ প্রযুক্তি, এখনি উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মহাকাশ প্রযুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারাকে বদলে দিতে পারে। মাল্টি- ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতির এক শতাংশের কম ভাগ পেলেও বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের চেয়ে বেশি উপার্জনের পথ উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং নীতিমালা তৈরিরও পরামর্শ দেন তারা।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে তারা এ মতামত দেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ‘মাল্টি- ট্রিলিয়ন মহাকাশ অর্থনীতি, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত’ শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন- কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার অধ্যাপক ড. ইকরাম হোসেন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) সাবেক মহাপরিচালক তৌহিদুর রহমান খান এবং হিউস্টনভিত্তিক দ্য ভার্চুয়াল আমেরিকান কোম্পানিজ এলএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান আলোচনায় যুক্ত হয়ে মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা এখন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতির আয়তন যদি ১ ট্রিলিয়ন ডলার হয়, বাংলাদেশ তার মাত্র ১ শতাংশ ভাগ পেলেও ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হবে, যা বর্তমানের প্রবাসী আয়ের পরিমানের চেয়েও বেশি।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে রকেট উৎক্ষেপণ পোর্ট তৈরি করে ভাড়া দেয়ার সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক জোনে রকেট এসেম্বলিং প্ল্যান্টও স্থাপন করা যায়।

শামীমুজ্জামান বলেন, আমরা এটিকে উচ্চাভিলাষ বা স্বপ্ন হিসেবে দেখছি না। এটিকে আমরা বাস্তব হিসেবেই ভাবতে চাই। ত্রিশ বছর আগে যখন বলা হতো, কম্পিউটার হচ্ছে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, তখনো অনেকে বলতেন বাংলাদেশ এগুলো পারবে না। সেটি কিন্তু এখন বাস্তবতা। বেসরকারিখাতের হাত ধরে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এসেছিলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেটার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাবেক মহাপরিচালক তৌহিদুর রহমান খান বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু দীর্ঘসূত্রতা বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনার খনি। ফলে নতুন কোনো ধরনের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগের আলোচনা উঠলে বিদেশি বা দেশি বিনিয়োগকারী পেতে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি সরকারের পাশাপশি বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং আগ্রহ দুই আছে,তবে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা থাকতে হবে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার অধ্যাপক ড. ইকরাম হোসেন মহাকাশ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর পাঠ্যসূচিতে এখনই মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যক্রম যুক্ত করা দরকার।

মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অর্থনীতিতে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে যেতে বলে উল্লেখ করে ড. ইকরাম হোসেন বলেন, আমেরিকা চীনই যে এই অর্থনীতির শীর্ষে রয়েছে তা নয়, প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানও ইতোমধ্যে মহাকাশ প্রযুক্তির খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছে। চীনের পাশাপাশি এই দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

’নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সম্ভাবনাময় মহাকাশ অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আরও বেশি আলোচনা হওয়া দরকার, যাতে জনগণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষযটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অতীতে সাবমেরিন কেবল প্রশ্নে সিদ্ধান্তহীনতায় জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যাপারে যেন অতীতের সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি বদলে দেবে মহাকাশ প্রযুক্তি, এখনি উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ

আপডেট সময় ১০:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মহাকাশ প্রযুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারাকে বদলে দিতে পারে। মাল্টি- ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতির এক শতাংশের কম ভাগ পেলেও বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের চেয়ে বেশি উপার্জনের পথ উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেছেন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং নীতিমালা তৈরিরও পরামর্শ দেন তারা।

কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে তারা এ মতামত দেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ‘মাল্টি- ট্রিলিয়ন মহাকাশ অর্থনীতি, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত’ শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন- কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার অধ্যাপক ড. ইকরাম হোসেন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) সাবেক মহাপরিচালক তৌহিদুর রহমান খান এবং হিউস্টনভিত্তিক দ্য ভার্চুয়াল আমেরিকান কোম্পানিজ এলএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান আলোচনায় যুক্ত হয়ে মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা এখন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতির আয়তন যদি ১ ট্রিলিয়ন ডলার হয়, বাংলাদেশ তার মাত্র ১ শতাংশ ভাগ পেলেও ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হবে, যা বর্তমানের প্রবাসী আয়ের পরিমানের চেয়েও বেশি।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ শামীমুজ্জামান বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে রকেট উৎক্ষেপণ পোর্ট তৈরি করে ভাড়া দেয়ার সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক জোনে রকেট এসেম্বলিং প্ল্যান্টও স্থাপন করা যায়।

শামীমুজ্জামান বলেন, আমরা এটিকে উচ্চাভিলাষ বা স্বপ্ন হিসেবে দেখছি না। এটিকে আমরা বাস্তব হিসেবেই ভাবতে চাই। ত্রিশ বছর আগে যখন বলা হতো, কম্পিউটার হচ্ছে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, তখনো অনেকে বলতেন বাংলাদেশ এগুলো পারবে না। সেটি কিন্তু এখন বাস্তবতা। বেসরকারিখাতের হাত ধরে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এসেছিলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেটার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাবেক মহাপরিচালক তৌহিদুর রহমান খান বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু দীর্ঘসূত্রতা বাদ দিলে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনার খনি। ফলে নতুন কোনো ধরনের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগের আলোচনা উঠলে বিদেশি বা দেশি বিনিয়োগকারী পেতে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি সরকারের পাশাপশি বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা এবং আগ্রহ দুই আছে,তবে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা থাকতে হবে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবার অধ্যাপক ড. ইকরাম হোসেন মহাকাশ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোর পাঠ্যসূচিতে এখনই মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যক্রম যুক্ত করা দরকার।

মহাকাশ প্রযুক্তি এবং অর্থনীতিতে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে যেতে বলে উল্লেখ করে ড. ইকরাম হোসেন বলেন, আমেরিকা চীনই যে এই অর্থনীতির শীর্ষে রয়েছে তা নয়, প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানও ইতোমধ্যে মহাকাশ প্রযুক্তির খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছে। চীনের পাশাপাশি এই দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

’নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সম্ভাবনাময় মহাকাশ অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আরও বেশি আলোচনা হওয়া দরকার, যাতে জনগণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষযটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অতীতে সাবমেরিন কেবল প্রশ্নে সিদ্ধান্তহীনতায় জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যাপারে যেন অতীতের সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।