ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গাড়িতে উঠিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যান এসপি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন মাদারীপুরের কালকিনি পৌর নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। তাকে গাড়িতে উঠিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোববার ভোর ৪টায় মশিউর রহমান সবুজ তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। সবুজ নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকারি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরই নিখোঁজ হন সবুজ। সবুজের সন্ধান দাবিতে তার সমর্থকরা থানা ঘেরাও করলে নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। সবুজ ফিরে আসায় তার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

মশিউর রহমান সবুজ বলেন, শনিবার বিকালে হঠাৎ এসপি (পুলিশ সুপার) আমাকে মোবাইল ফোনে কল করে দেখা করতে বলেন। তিনি থানার ওসিকে আমার কাছে পাঠান। তখন আমি ওসির কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার বিষয় নিয়ে এসপি আমার সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, আমি সরল মনে তার গাড়িতে উঠে এসপির অফিসে যাই। সেখানে যাওয়ার পর এসপি আমাকে তার গাড়িতে উঠিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে নিয়ে যান। তখন রাত প্রায় ৮টা বাজে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

মশিউর রহমান সবুজ বলেন, পরে আমি তাকে বলি আমি দলের কোনো পদে নেই। আমি তার কাছে কালকিনির বাস্তব চিত্র তুলে ধরি। পরে ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেন- তুমি আমার কথা শুনলে তোমাকে দলের ভালো অবস্থানে রাখা হবে। আমি তাকে বলি এলাকায় গিয়ে আমি কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাব।

সবুজ আরও বলেন, আমি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়িয়ে জনগণের কথায় নির্বাচন করব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পুলিশের গাড়িতে ওঠার পর সবুজ নিখোঁজের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে তার বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা শনিবার সন্ধ্যা থেকে থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালান বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা।

এ সময় নৌকার সমর্থকরা মিছিল করলে সবুজের সমর্থকদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ হয়। টানা তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা যায়।

সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দও শোনা গেছে। সংঘর্ষের সময় শতাধিক দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন কমপক্ষে ৬০ জন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয় কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন মৃধা বলেন, সবুজকে এসপি স্যার তার কাছে পৌঁছে দিতে বলেছেন। তাই আমি তাকে পৌঁছে দিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান বলেন, আমি ব্যস্ত থাকায় এ বিষয় কথা বলতে পারছি না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গাড়িতে উঠিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যান এসপি

আপডেট সময় ০৬:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন মাদারীপুরের কালকিনি পৌর নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজ। তাকে গাড়িতে উঠিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোববার ভোর ৪টায় মশিউর রহমান সবুজ তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। সবুজ নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকারি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরই নিখোঁজ হন সবুজ। সবুজের সন্ধান দাবিতে তার সমর্থকরা থানা ঘেরাও করলে নৌকার প্রার্থী এসএম হানিফের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। সবুজ ফিরে আসায় তার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

মশিউর রহমান সবুজ বলেন, শনিবার বিকালে হঠাৎ এসপি (পুলিশ সুপার) আমাকে মোবাইল ফোনে কল করে দেখা করতে বলেন। তিনি থানার ওসিকে আমার কাছে পাঠান। তখন আমি ওসির কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার বিষয় নিয়ে এসপি আমার সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, আমি সরল মনে তার গাড়িতে উঠে এসপির অফিসে যাই। সেখানে যাওয়ার পর এসপি আমাকে তার গাড়িতে উঠিয়ে ঢাকার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে নিয়ে যান। তখন রাত প্রায় ৮টা বাজে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

মশিউর রহমান সবুজ বলেন, পরে আমি তাকে বলি আমি দলের কোনো পদে নেই। আমি তার কাছে কালকিনির বাস্তব চিত্র তুলে ধরি। পরে ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেন- তুমি আমার কথা শুনলে তোমাকে দলের ভালো অবস্থানে রাখা হবে। আমি তাকে বলি এলাকায় গিয়ে আমি কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাব।

সবুজ আরও বলেন, আমি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়িয়ে জনগণের কথায় নির্বাচন করব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পুলিশের গাড়িতে ওঠার পর সবুজ নিখোঁজের সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে তার বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা শনিবার সন্ধ্যা থেকে থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালান বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা।

এ সময় নৌকার সমর্থকরা মিছিল করলে সবুজের সমর্থকদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ হয়। টানা তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা যায়।

সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দও শোনা গেছে। সংঘর্ষের সময় শতাধিক দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন কমপক্ষে ৬০ জন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয় কালকিনি থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন মৃধা বলেন, সবুজকে এসপি স্যার তার কাছে পৌঁছে দিতে বলেছেন। তাই আমি তাকে পৌঁছে দিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান বলেন, আমি ব্যস্ত থাকায় এ বিষয় কথা বলতে পারছি না।