ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পায়রা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।