ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।