ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

রক্ত দিয়ে প্রসূতি মাকে বাঁচালেন টহল পুলিশ

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ঠিক তিনটা। হিমেল হাওয়ার মাঝে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো চারিদিক। এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে হাসপাতালের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন লিজা আক্তার নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় কলাপাড়া থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় হাসপাতালের সামনে। তাদের জানানো হয় (এ পজেটিভ) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রুবেল মাদবর। কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত প্রদান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা। এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

ওই গৃহবধূর শাশুড়ি শামছুর নাহার বলেন, শুক্রবার রাত ১২ টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি ফুট ফুটে কন্যা সন্তান’র জন্ম দেয় লিজা আক্তার (১৮)। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জুনায়েদ খান লেলিন জানান, ওই রাতে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

কলাপাড়া থানা পুলিশের সদস্য রুবেল মাদবার জানান, ঘটনার রাতে আমাদের টিমের সাথে হাসপাতালের সামনে ছিলাম। এসময় একজন রক্তের সন্ধান করছিলেন। তার কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।