ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শেষবারে মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মঙ্গলবার মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এই তথ্য জানান। তারা জানান, স্থানীয় মগদের দিয়ে সেনাবাহিনী মাইকিং করাচ্ছে। এরপরই আগুন দেয়। মংডুর ম্যারুল্লা পাড়া এলাকার মো. শফি (৫৫) বলেন, ‘বাড়ি থেকে হেঁটে নাফ নদীর তীরে আসতে আমাদের একদিন লেগেছে। কোনও টাকা পয়সা ছিল না। আল্লাহর ওয়াস্তে মাছ ধরার নৌকায় পার করে দিয়েছে। আমাদের বাড়ি আগে পোড়ায়নি। সোমবার মগরা মাইকিং করে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এরপর সেনাবাহিনী আমাদের ঘর-বাড়িতে আগুন দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্ত্রী বেগম বাহার, ছয় মেয়ে ও তিন ছেলেসহ মোট ১১ জনকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমাদের কোনও আত্মীয়-স্বজন নেই বাংলাদেশে। সরকার যদি জায়গা দেয় থাকবো।’ মঙ্গলবার বিকালে মংডুর নলবনিয়া থেকে টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছেন জাহেদা বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মংডু পৌরসভার পাশেই আমাদের বাড়ি। সোমবার সকালে কয়েকশ’ সেনাবাহিনী আসে। এর আগে মগরা মাইকিং করে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘরের পেছনে আশ্রয় নেই। কিন্তু মগরা ঠ্যা ঠ্যা গুলি করতে থাকে। এরপর যে যেভাবে পেরেছি দৌড়ে পালিয়েছি।’

এই নারীর স্বামীর নাম মো. জোহা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন নলবনিয়ায়। বাংলাদেশে এসে এখনও কোনও সহযোগিতা পায়নি। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে তারা আশ্রয় নেবেন। মংডুর আংডাং এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন (৩৮) মঙ্গলবার একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। এজন্য আমরা চলে আসছি। মাইকিং করে সবাইকে বাড়ি ছাড়তে বলছে। এরপর আগুন ধরিয়ে দেয় মিলিটারি। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে এসেছি।’

তিনি আংডাং এলাকায় গাছ কাটার কাজ করতেন। মাঝিদের হাতে স্ত্রীর নাকফুল ও কানের দুল দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে এসেছেন। স্ত্রী নূরজাহান বেগম বলেন, ‘টাকা পয়সা ছিল না, কানের আর নাকের ফুল দিয়ে নাফ নদী পার হয়েছি। ছেলে মেয়েসহ মোট আটজন বাংলাদেশে এসেছেন।

মঙ্গলবার সকালও মংডুর নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় আগুন দিতে জ্বলতে দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপ থেকে দিনব্যাপী নৌকা গেছে রোহিঙ্গাদের আনতে। মংডুর নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে নৌকায় করে রোহিঙ্গা নিয়ে আসার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও বাধা দিচ্ছে না। নিরাপদেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলে আসতে পারছে মাছ ধরা নৌকাগুলো।

মিয়ানমার থেকে ঘাড়ে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে এক বৃদ্ধা রোহিঙ্গাকেমাছ ধরা নৌকায় আগুনের পরও থামেনি রোহিঙ্গা পারাপার। রোহিঙ্গাদের পার করায় গত রবিবার অন্তত ৬ থেকে ৭টি মাছধরা ট্রলারে আগুন দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু তারপরও রোহিঙ্গা পার করা কমেনি। প্রতিদিন রাতেই রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে। এমনকি দিনের বেলাতেও নাফ নদী পার হয়ে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

নাফ নদীর তীর ধরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা হেঁটে হেঁটে পাহারা দিলেও রোহিঙ্গা প্রবেশে তারা বাধা দিচ্ছে না। শাহপরীর দ্বীপের জেটির অদূরেই জেলেপাড়ায় ছোটছোট মাছধরা নৌকা থেকে রোহিঙ্গাদের নামতে দেখা যায়।

নারী রোহিঙ্গাদের পার করে দিয়ে পুরুষ অনেকই ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমার। নারীদের পার করে এনে শরণার্থী ক্যাম্পে রেখে অনেক রোহিঙ্গা পুরুষ একাধিকবার মিয়ানমারে যাওয়া আসার মধ্যে রয়েছে। তারা গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসছেন। অনেকেই আবার রেখে আসা গবাদি পশুর সন্ধানেও যাচ্ছেন।

আজাহার (৪০) নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমার স্ত্রী, সন্তান এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসছে। আমি সোমবার মিয়ানমারে গিয়েছিলাম। রাতে পাহাড়ে ছিলাম, মঙ্গলবার সকালে আবার এসেছি। আমার বাড়িঘর পুড়িয়েছে তা দেখে আসছি। অনেকের লাশ রাস্তায় পরে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার পর একসঙ্গে অনেককে কবর দেওয়া হচ্ছে। অনেক লাশ রাস্তায় পরে আছে। তরুণদের দেখলেই তারা হত্যা করে।’ রোহিঙ্গাদের অনেকেই মিয়ানমারের দালালদের কাছে তাদের গবাদি পশু রেখে আসে বলেও জানান তিনি।

আজাহার বলেন, ‘অনেকে পরিবার নিয়ে আসার সময় গরু নিয়ে আসতে পারে না। গরু ছেড়ে বা জঙ্গলে বেঁধে রেখে আসে। কেউ দালালের কাছে রেখে আসে। সেগুলো পরবর্তীতে আনার জন্যই মিয়ানমার যায়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শেষবারে মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মঙ্গলবার মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এই তথ্য জানান। তারা জানান, স্থানীয় মগদের দিয়ে সেনাবাহিনী মাইকিং করাচ্ছে। এরপরই আগুন দেয়। মংডুর ম্যারুল্লা পাড়া এলাকার মো. শফি (৫৫) বলেন, ‘বাড়ি থেকে হেঁটে নাফ নদীর তীরে আসতে আমাদের একদিন লেগেছে। কোনও টাকা পয়সা ছিল না। আল্লাহর ওয়াস্তে মাছ ধরার নৌকায় পার করে দিয়েছে। আমাদের বাড়ি আগে পোড়ায়নি। সোমবার মগরা মাইকিং করে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এরপর সেনাবাহিনী আমাদের ঘর-বাড়িতে আগুন দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্ত্রী বেগম বাহার, ছয় মেয়ে ও তিন ছেলেসহ মোট ১১ জনকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমাদের কোনও আত্মীয়-স্বজন নেই বাংলাদেশে। সরকার যদি জায়গা দেয় থাকবো।’ মঙ্গলবার বিকালে মংডুর নলবনিয়া থেকে টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছেন জাহেদা বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মংডু পৌরসভার পাশেই আমাদের বাড়ি। সোমবার সকালে কয়েকশ’ সেনাবাহিনী আসে। এর আগে মগরা মাইকিং করে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘরের পেছনে আশ্রয় নেই। কিন্তু মগরা ঠ্যা ঠ্যা গুলি করতে থাকে। এরপর যে যেভাবে পেরেছি দৌড়ে পালিয়েছি।’

এই নারীর স্বামীর নাম মো. জোহা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন নলবনিয়ায়। বাংলাদেশে এসে এখনও কোনও সহযোগিতা পায়নি। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে তারা আশ্রয় নেবেন। মংডুর আংডাং এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন (৩৮) মঙ্গলবার একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। এজন্য আমরা চলে আসছি। মাইকিং করে সবাইকে বাড়ি ছাড়তে বলছে। এরপর আগুন ধরিয়ে দেয় মিলিটারি। জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে এসেছি।’

তিনি আংডাং এলাকায় গাছ কাটার কাজ করতেন। মাঝিদের হাতে স্ত্রীর নাকফুল ও কানের দুল দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে এসেছেন। স্ত্রী নূরজাহান বেগম বলেন, ‘টাকা পয়সা ছিল না, কানের আর নাকের ফুল দিয়ে নাফ নদী পার হয়েছি। ছেলে মেয়েসহ মোট আটজন বাংলাদেশে এসেছেন।

মঙ্গলবার সকালও মংডুর নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় আগুন দিতে জ্বলতে দেখা গেছে। শাহপরীর দ্বীপ থেকে দিনব্যাপী নৌকা গেছে রোহিঙ্গাদের আনতে। মংডুর নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে নৌকায় করে রোহিঙ্গা নিয়ে আসার সময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও বাধা দিচ্ছে না। নিরাপদেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলে আসতে পারছে মাছ ধরা নৌকাগুলো।

মিয়ানমার থেকে ঘাড়ে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে এক বৃদ্ধা রোহিঙ্গাকেমাছ ধরা নৌকায় আগুনের পরও থামেনি রোহিঙ্গা পারাপার। রোহিঙ্গাদের পার করায় গত রবিবার অন্তত ৬ থেকে ৭টি মাছধরা ট্রলারে আগুন দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু তারপরও রোহিঙ্গা পার করা কমেনি। প্রতিদিন রাতেই রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে। এমনকি দিনের বেলাতেও নাফ নদী পার হয়ে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

নাফ নদীর তীর ধরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা হেঁটে হেঁটে পাহারা দিলেও রোহিঙ্গা প্রবেশে তারা বাধা দিচ্ছে না। শাহপরীর দ্বীপের জেটির অদূরেই জেলেপাড়ায় ছোটছোট মাছধরা নৌকা থেকে রোহিঙ্গাদের নামতে দেখা যায়।

নারী রোহিঙ্গাদের পার করে দিয়ে পুরুষ অনেকই ফিরে যাচ্ছে মিয়ানমার। নারীদের পার করে এনে শরণার্থী ক্যাম্পে রেখে অনেক রোহিঙ্গা পুরুষ একাধিকবার মিয়ানমারে যাওয়া আসার মধ্যে রয়েছে। তারা গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসছেন। অনেকেই আবার রেখে আসা গবাদি পশুর সন্ধানেও যাচ্ছেন।

আজাহার (৪০) নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আমার স্ত্রী, সন্তান এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসছে। আমি সোমবার মিয়ানমারে গিয়েছিলাম। রাতে পাহাড়ে ছিলাম, মঙ্গলবার সকালে আবার এসেছি। আমার বাড়িঘর পুড়িয়েছে তা দেখে আসছি। অনেকের লাশ রাস্তায় পরে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার পর একসঙ্গে অনেককে কবর দেওয়া হচ্ছে। অনেক লাশ রাস্তায় পরে আছে। তরুণদের দেখলেই তারা হত্যা করে।’ রোহিঙ্গাদের অনেকেই মিয়ানমারের দালালদের কাছে তাদের গবাদি পশু রেখে আসে বলেও জানান তিনি।

আজাহার বলেন, ‘অনেকে পরিবার নিয়ে আসার সময় গরু নিয়ে আসতে পারে না। গরু ছেড়ে বা জঙ্গলে বেঁধে রেখে আসে। কেউ দালালের কাছে রেখে আসে। সেগুলো পরবর্তীতে আনার জন্যই মিয়ানমার যায়।’