আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ আট বছর পর রবিবার স্বাক্ষরিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। চীনের নেতৃত্বে বিশ্ববাণিজ্যে মৌলিক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি দেশ বিশ্বের বৃহত্তম এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। খবর এএফপির।
রবিবার ভিয়েতনামে ৩৭তম আসিয়ান সম্মেলনের শেষ দিনে ভার্চুয়ালি এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়। যেখানে বাংলাদেশসহ আসিয়ান জোটের ১০টি দেশ ছাড়াও এই চুক্তিতে সই করেছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। তবে ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলার অজুহাতে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে নয়া দিল্লি।
২০১২ সালে প্রস্তাবিত এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয় গেল বছর। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় ভারত। নরেন্দ্র মোদির দাবি, ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপি ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।’
মালয়েশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী মোহামেদ আজমিন আলী বলেছেন, ‘গত আট বছর ধরে রক্ত, ঘাম আর চোখের জল ঝরিয়ে রবিবার আরসিইপি সইয়ের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত প্রস্তুত হয়েছি।’
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা অতিমারির কারণে বিকল হয়ে পড়া বৈশ্বিক অর্থনীতি আবারো চাঙ্গা হবে এই চুক্তির মাধ্যমে। শুল্ক কমিয়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি করে নতুন ই-কমার্স নীতি প্রণয়ন করাই হবে এই বাণিজ্যচুক্তির মূল লক্ষ্যে।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এনগুয়েন জুয়াম ফুক বলেন, ‘করোনা অতিমারির কারণে সরবরাহ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। সেই ক্ষত মেরামতের কাজ করবে এই বাণিজ্য চুক্তি।’
ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শক সংস্থা আইএইচএস মারকিটের এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ রাজিব বিশ্বাসকে এএফপিকে বলেন, ‘এই অঞ্চলে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের উদারীকরণে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হবে।’
এই চুক্তির ফলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে জোট এলাকায় মধ্যে একে একে অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক উঠে যাবে। টেলিযোগাযোগ, মেধা-সত্ত্ব, ব্যাংক এবং বীমার মত আর্থিক সেবা, ই-কমার্স এবং পেশাদারি সেবার মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও এই চুক্তির আওতায় থাকছে।
রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) নামে নতুন এই জোটের অর্থনীতির আয়তন বিশ্বের মোট জিডিপির ৩০ শতাংশ। ফলে, এই চুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবাধ বাণিজ্য এলাকা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র-ক্যানাডা এবং মেক্সিকোর মধ্যে যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল রয়েছে সেটি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের চেয়েও এশিয়ার নতুন এই বাণিজ্য অঞ্চলটির পরিধি বড় হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 










