ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

মোবাইলে প্রেম-বিয়ে করে সাড়ে ৮ লাখ টাকা গচ্চা প্রবাসীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মোবাইল ফোনে প্রেম ও বিয়ে করে প্রবাসী লতিফ ফকিরের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজির মোল্লা ও তার মেয়ে সীমার বিরুদ্ধে। টাকা হারিয়ে পাগলপ্রায় প্রবাসী লতিফ ফকির ও তার বিধবা মা হালিমা বেগম।

হয়ত টাকা ফেরত, নয়ত সীমাকে ছেলের বউ হিসেবে তার ঘরে আসার দাবি জানিয়েছেন লতিফের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম।

প্রতারণার শিকার কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার মৃত মো. জামিরের ছেলে।

কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী আসমা বেগমের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ উপজেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগড়াবাড়ি গ্রামের নাজির মোল্লার মেয়ে সীমার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে আমি নিয়মিত সীমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। এর মাঝে বিভিন্ন কারণ-অকারণে সীমা ও তার পরিবারকে আমি কয়েক লাখ টাকা দেই।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে সীমার সঙ্গে আমার বিয়ের কথা হয়। সেই অনুযায়ী সীমার বাড়িতে আমার মাসহ স্থানীয় কয়েকজন আত্মীয় ও মধ্যস্থতাকারী আসমা বেগমের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনে আমাদের বিয়ে হয়। ওই এলাকার কাজী হেদায়েত হোসেন আমাদের বিয়ে পড়ান।

লতিফ ফকির বলেন, বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে সব মিলিয়ে আমি আমার স্ত্রী ও শ্বশুরকে আট লাখ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছি। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে আমার শ্বশুর নাজির মোল্লার কাছে সাড়ে চার লাখ টাকা পাঠিয়েছি। বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমার স্ত্রীকে মোবাইল ফোন ও আংটি বানানোর জন্য এক লাখ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছি।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে বিয়ে হওয়ার কয়েক দিন পরই আমার স্ত্রী সীমা আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন সে আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। আমি ফোন দিলে আমাকে গালিগালাজ করে। প্রবাসে গায়ের রক্ত পানি করা টাকা আমার শ্বশুর ও স্ত্রীকে দিয়েছি। এখন সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমি টাকা ফেরত চাই, নয়ত সীমাকে চাই।

লতিফ ফকিরের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম বলেন, আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে সীমার সঙ্গে আমার ছেলে কাতার প্রবাসী লতিফ ফকিরের বিয়ে দিয়েছি। সীমা ও সীমার বাবা নাজির মোল্লাকে আমার সন্তান প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা দিয়েছে। এখন তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আমি আমার ছেলের টাকা ও ছেলের বউকে ফেরত চাই।

প্রতারণার বিষয়টি অস্বীকার করে সীমার বাবা নাজির মোল্লা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে লতিফ ফকিরের বিয়ের কথা চলছিল। এই কথা চালাচালির সময় লতিফ আমার মেয়ের জন্য প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার পাঠায়। পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়ায় আমরা সেই স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিয়ে দিয়েছি।

মোল্লারহাট থানার ওসি কাজী গোলাম কবির বলেন, প্রবাসী লতিফ ফকিরের মা হালিমা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। ঘটনাটি অন্য এলাকার। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

মোবাইলে প্রেম-বিয়ে করে সাড়ে ৮ লাখ টাকা গচ্চা প্রবাসীর

আপডেট সময় ১০:০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মোবাইল ফোনে প্রেম ও বিয়ে করে প্রবাসী লতিফ ফকিরের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নাজির মোল্লা ও তার মেয়ে সীমার বিরুদ্ধে। টাকা হারিয়ে পাগলপ্রায় প্রবাসী লতিফ ফকির ও তার বিধবা মা হালিমা বেগম।

হয়ত টাকা ফেরত, নয়ত সীমাকে ছেলের বউ হিসেবে তার ঘরে আসার দাবি জানিয়েছেন লতিফের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম।

প্রতারণার শিকার কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার মৃত মো. জামিরের ছেলে।

কাতার প্রবাসী লতিফ ফকির বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী আসমা বেগমের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ উপজেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগড়াবাড়ি গ্রামের নাজির মোল্লার মেয়ে সীমার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে আমি নিয়মিত সীমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলি। এর মাঝে বিভিন্ন কারণ-অকারণে সীমা ও তার পরিবারকে আমি কয়েক লাখ টাকা দেই।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে সীমার সঙ্গে আমার বিয়ের কথা হয়। সেই অনুযায়ী সীমার বাড়িতে আমার মাসহ স্থানীয় কয়েকজন আত্মীয় ও মধ্যস্থতাকারী আসমা বেগমের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনে আমাদের বিয়ে হয়। ওই এলাকার কাজী হেদায়েত হোসেন আমাদের বিয়ে পড়ান।

লতিফ ফকির বলেন, বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে সব মিলিয়ে আমি আমার স্ত্রী ও শ্বশুরকে আট লাখ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছি। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে আমার শ্বশুর নাজির মোল্লার কাছে সাড়ে চার লাখ টাকা পাঠিয়েছি। বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমার স্ত্রীকে মোবাইল ফোন ও আংটি বানানোর জন্য এক লাখ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছি।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে বিয়ে হওয়ার কয়েক দিন পরই আমার স্ত্রী সীমা আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন সে আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। আমি ফোন দিলে আমাকে গালিগালাজ করে। প্রবাসে গায়ের রক্ত পানি করা টাকা আমার শ্বশুর ও স্ত্রীকে দিয়েছি। এখন সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমি টাকা ফেরত চাই, নয়ত সীমাকে চাই।

লতিফ ফকিরের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগম বলেন, আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে সীমার সঙ্গে আমার ছেলে কাতার প্রবাসী লতিফ ফকিরের বিয়ে দিয়েছি। সীমা ও সীমার বাবা নাজির মোল্লাকে আমার সন্তান প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা দিয়েছে। এখন তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আমি আমার ছেলের টাকা ও ছেলের বউকে ফেরত চাই।

প্রতারণার বিষয়টি অস্বীকার করে সীমার বাবা নাজির মোল্লা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে লতিফ ফকিরের বিয়ের কথা চলছিল। এই কথা চালাচালির সময় লতিফ আমার মেয়ের জন্য প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার পাঠায়। পরবর্তীতে বিয়ে না হওয়ায় আমরা সেই স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিয়ে দিয়েছি।

মোল্লারহাট থানার ওসি কাজী গোলাম কবির বলেন, প্রবাসী লতিফ ফকিরের মা হালিমা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। ঘটনাটি অন্য এলাকার। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।