ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

সরকার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সরকার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে বাস করছি। সরকার একটা দানবের মতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, গণতন্ত্রের যে সংগ্রাম তা ধ্বংস করে দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য এই সময় খোকার মতো সাহসী নেতৃত্বের বড় প্রয়োজন ছিল।

খোকার বর্ণাঢ্য জীবনকর্ম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (খোকা) আজীবন এক সংগ্রামী মানুষ। তার এই হঠাৎ করে চলে যাওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনেকখানি ব্যাহত করবে- এই কথা আমার বলতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকে তার সাহস, তার ধৈর্য, তার দেশপ্রেম আমাদের প্রয়োজন ছিল। তাই আসুন, আমরা সবাই আজ শুধু তাকে স্মরণ নয়, তার যে কাজ, তার যে পথ চলা, তার যে সংগ্রাম- তা সামনে নিয়ে আমরা তার মত সাহসিকতার সঙ্গে এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার চেষ্টা করি। সত্যিকার অর্থে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

একাত্তরের বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাদেক হোসেন খোকা ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় আলোচনা দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খোকার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। অনেক কথা হয়। তিনি কয়েকটা পরামর্শ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনি কখনও ধৈর্য হারাবেন না, বিএনপির যে সংগ্রাম, গণতন্ত্রের যে সংগ্রাম- এই সংগ্রাম একদিনে শেষ হবে না, বেশ একটা দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম। এতে সব মানুষ ও শক্তিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত না করলে আন্দোলন বেগবান হবে না। করোনাকালে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে এ মহামারীতে আক্রান্ত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

দেশ গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে- অভিযোগ করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সাদেক হোসেন খোকা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের অত্যন্ত কষ্ট লাগে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধে ফেরিওয়ালা বলে দাবি করে, তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বার বার হত্যা করছেন।

সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আগে-পরে, সামনে-পেছনে যে যাই বলুক, খোকাকে সত্যিকার অর্থে আমি ভালোবাসতাম। তার অনুপস্থিতি এখনও আমাকে পীড়া দেয়। বন্ধু হিসেবে আমাদের মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, এই সম্পর্কটা আমি এখন কারোর মধ্যে দেখি না।

আ স ম আবদুর রব গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা খোকার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আজকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেও নাই, দেখেনও নাই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ না হলে কনভেনশন ওয়ারে পাশের দেশের সীমানার মধ্য থেকে যুদ্ধ করলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। এই রাষ্ট্র আজ দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই রাষ্ট্রকে উদ্ধারের জন্য খোকার মতো মানুষের আজকে প্রয়োজন ছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

সরকার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সরকার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে বাস করছি। সরকার একটা দানবের মতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, গণতন্ত্রের যে সংগ্রাম তা ধ্বংস করে দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য এই সময় খোকার মতো সাহসী নেতৃত্বের বড় প্রয়োজন ছিল।

খোকার বর্ণাঢ্য জীবনকর্ম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (খোকা) আজীবন এক সংগ্রামী মানুষ। তার এই হঠাৎ করে চলে যাওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনেকখানি ব্যাহত করবে- এই কথা আমার বলতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকে তার সাহস, তার ধৈর্য, তার দেশপ্রেম আমাদের প্রয়োজন ছিল। তাই আসুন, আমরা সবাই আজ শুধু তাকে স্মরণ নয়, তার যে কাজ, তার যে পথ চলা, তার যে সংগ্রাম- তা সামনে নিয়ে আমরা তার মত সাহসিকতার সঙ্গে এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করার চেষ্টা করি। সত্যিকার অর্থে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

একাত্তরের বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচিত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাদেক হোসেন খোকা ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় আলোচনা দলটির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খোকার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। অনেক কথা হয়। তিনি কয়েকটা পরামর্শ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনি কখনও ধৈর্য হারাবেন না, বিএনপির যে সংগ্রাম, গণতন্ত্রের যে সংগ্রাম- এই সংগ্রাম একদিনে শেষ হবে না, বেশ একটা দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম। এতে সব মানুষ ও শক্তিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত না করলে আন্দোলন বেগবান হবে না। করোনাকালে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে এ মহামারীতে আক্রান্ত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

দেশ গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে- অভিযোগ করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সাদেক হোসেন খোকা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের অত্যন্ত কষ্ট লাগে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধে ফেরিওয়ালা বলে দাবি করে, তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বার বার হত্যা করছেন।

সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আগে-পরে, সামনে-পেছনে যে যাই বলুক, খোকাকে সত্যিকার অর্থে আমি ভালোবাসতাম। তার অনুপস্থিতি এখনও আমাকে পীড়া দেয়। বন্ধু হিসেবে আমাদের মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, এই সম্পর্কটা আমি এখন কারোর মধ্যে দেখি না।

আ স ম আবদুর রব গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা খোকার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আজকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেও নাই, দেখেনও নাই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ না হলে কনভেনশন ওয়ারে পাশের দেশের সীমানার মধ্য থেকে যুদ্ধ করলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। এই রাষ্ট্র আজ দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই রাষ্ট্রকে উদ্ধারের জন্য খোকার মতো মানুষের আজকে প্রয়োজন ছিল।