আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুরে স্বামীর সঙ্গে অন্য এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক সন্দেহে তাকে ডেকে এনে মারপিট ও চুল কেটে দেয়াসহ নগ্ন ছবি তুলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গাজীপুর সিটির সালনার কাথোরা এলাকার নির্যাতিতা ভিকটিম জানান, তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ফিরে নিজ বাসায় যেতে পারছেন না। লোক লজ্জা আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে বোনের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। নির্যাতিতার স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই গৃহবধূর স্বামী বাবুলের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৫ অক্টোবর বাসায় ফেরার পথে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে আট ঘণ্টা আটকে রাখেন। এ সময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেনের স্ত্রী ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে মাথার চুল কেটে পরনের কাপড় খুলে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এই ঘটনা কাউকে জানালে ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়।
ওইদিন বিকালে তাকে ছেড়ে দেয়ার পর স্বজনের সহযোগিতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় ওই ভিকটিম।
এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় বাবুলের স্ত্রী ফাহিমা আক্তারসহ পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ভিকটিমের ভাইয়ের চাকরির জন্য পরিবহন শ্রমিক নেতা বাবুলের সঙ্গে একবছর আগে পরিচয় হয়েছিল নির্যাতিতা ভিকটিমের। এ জন্য তিনি মাঝে মধ্যে বাবুলের অফিসে যেতেন। এতে বাবুলের স্বজনদের ধারণা হয়েছে যে, তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক হয়েছে।
ভিকটিম বলেন, বাবুলের সঙ্গে তার অন্য সম্পর্ক ছিল না। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করেই তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।
জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি উত্তর) মো. জাকির হাসান জানান, থানায় অভিযোগ দেয়ার পর এ ঘটনার প্রধান আসামি পরিবহন নেতা বাবুলের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তার সহযোগী শাহিদা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















