ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জাতিসংঘে চীনের বিরুদ্ধে জার্মানিসহ ৩৯ দেশের অসন্তোষ প্রকাশ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

এক দিকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩৯টি দেশ। অন্য দিকে চীন এবং তার সমর্থনকারী কিউবা, পাকিস্তানসহ আফ্রিকার এবং আরবের একাধিক রাষ্ট্র। জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ল বিশ্বের দুই অর্ধ। বিতর্কের কেন্দ্রে চীন। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে জার্মানি, যাতে আরও ৩৮ দেশের সমর্থন রয়েছে।

সেখানে চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে অনাচার থেকে শুরু করে তিব্বতে চীনের আগ্রাসন, হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চীনের মূল ভূখণ্ডে নাগরিকের অধিকার হরণ- বিবিধ বিষয়ে শি জিনপিংকে আক্রমণ করেছে জার্মানি।

তবে চীনকে এই সমস্ত বিষয়ে এই প্রথম আক্রমণ করছে না জার্মানি। মাত্র কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্টের সামনেই এই সমস্ত প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে জার্মানি যে প্রস্তাব পেশ করেছে তাতে সই করেছে বিশ্বের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যার মধ্যে অ্যামেরিকা, যুক্তরাজ্য আছে। রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ। এর আগে চীনের বিরুদ্ধে এতগুলো দেশ একজোট হয়নি।

স্বাভাবিক ভাবেই জার্মানির পদক্ষেপে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় চীন। ফলে জাতিসংঘে নিজেদের সমর্থন আদায়ে নেমে পড়ে তারা। সঙ্গে পেয়ে যায় পাকিস্তান, কিউবাসহ একাধিক আরব এবং আফ্রিকার দেশকে। এরপর তীব্র ভাষায় জার্মানিকে আক্রমণ করেন জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি।

তিনি বলেন, জার্মানি যা প্রস্তাব পেশ করেছে, তা ভিত্তিহীন। চীন তার নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করে না। জার্মানি যা বলছে, তা একান্তই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে চীন কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। উইঘুর মুসলিম, হংকং এবং তাইওয়ান নিয়ে গত কিছু দিন ধরে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় চীন।

একের পর এক দেশ এ বিষয়ে চীনের বিরোধিতা করছে। হংকংয়ে বিশেষ আইন বলবৎ করে প্রায় গোটা বিশ্বের বিরাগভাজন হয়েছেন শি জিনপিং। তাইওয়ান নিয়ে দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সম্প্রতি তাইওয়ান দিবস নিয়ে তাইওয়ানের সরকার ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। তা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন।

বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত বরাবর চীনের ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলেছে। ভারত যেন এমন কিছু না করে, যাতে সেই নীতির সঙ্গে আপস করা হয়। ভারতের পত্রপত্রিকা যেন এক চীন নীতি মেনে চলে।  ভারত জবাবে জানিয়েছে, দেশের সমস্ত পত্রপত্রিকা স্বাধীন ভাবে কাজ করে। সেখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জাতিসংঘে চীনের বিরুদ্ধে জার্মানিসহ ৩৯ দেশের অসন্তোষ প্রকাশ

আপডেট সময় ০৫:১০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

এক দিকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩৯টি দেশ। অন্য দিকে চীন এবং তার সমর্থনকারী কিউবা, পাকিস্তানসহ আফ্রিকার এবং আরবের একাধিক রাষ্ট্র। জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ল বিশ্বের দুই অর্ধ। বিতর্কের কেন্দ্রে চীন। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে জার্মানি, যাতে আরও ৩৮ দেশের সমর্থন রয়েছে।

সেখানে চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে অনাচার থেকে শুরু করে তিব্বতে চীনের আগ্রাসন, হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চীনের মূল ভূখণ্ডে নাগরিকের অধিকার হরণ- বিবিধ বিষয়ে শি জিনপিংকে আক্রমণ করেছে জার্মানি।

তবে চীনকে এই সমস্ত বিষয়ে এই প্রথম আক্রমণ করছে না জার্মানি। মাত্র কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্টের সামনেই এই সমস্ত প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে জার্মানি যে প্রস্তাব পেশ করেছে তাতে সই করেছে বিশ্বের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যার মধ্যে অ্যামেরিকা, যুক্তরাজ্য আছে। রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ। এর আগে চীনের বিরুদ্ধে এতগুলো দেশ একজোট হয়নি।

স্বাভাবিক ভাবেই জার্মানির পদক্ষেপে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় চীন। ফলে জাতিসংঘে নিজেদের সমর্থন আদায়ে নেমে পড়ে তারা। সঙ্গে পেয়ে যায় পাকিস্তান, কিউবাসহ একাধিক আরব এবং আফ্রিকার দেশকে। এরপর তীব্র ভাষায় জার্মানিকে আক্রমণ করেন জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি।

তিনি বলেন, জার্মানি যা প্রস্তাব পেশ করেছে, তা ভিত্তিহীন। চীন তার নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করে না। জার্মানি যা বলছে, তা একান্তই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে চীন কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। উইঘুর মুসলিম, হংকং এবং তাইওয়ান নিয়ে গত কিছু দিন ধরে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় চীন।

একের পর এক দেশ এ বিষয়ে চীনের বিরোধিতা করছে। হংকংয়ে বিশেষ আইন বলবৎ করে প্রায় গোটা বিশ্বের বিরাগভাজন হয়েছেন শি জিনপিং। তাইওয়ান নিয়ে দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সম্প্রতি তাইওয়ান দিবস নিয়ে তাইওয়ানের সরকার ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। তা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন।

বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত বরাবর চীনের ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলেছে। ভারত যেন এমন কিছু না করে, যাতে সেই নীতির সঙ্গে আপস করা হয়। ভারতের পত্রপত্রিকা যেন এক চীন নীতি মেনে চলে।  ভারত জবাবে জানিয়েছে, দেশের সমস্ত পত্রপত্রিকা স্বাধীন ভাবে কাজ করে। সেখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের নেই।