ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি রানার বিচার শুরু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে এমপি রানাসহ এ হত্যা মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হলো।

আদালত সূত্র জানায়, আসামি এমপি রানা এসময় আদালতে মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে দুটি আবেদন করেন। আদালত তা না মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

সকাল ১০টার দিকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইলে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ এমপি রানাকে আদালতে হাজির না করায় মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৮ বার পেছানো হয়েছিল।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আইন অনুযায়ী আসামি কারাগারে থাকলে তার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে হয়। ফারুক হত্যা মামলার আসামি আমানুর যেহেতু

কারাগারে রয়েছেন এবং অভিযোগ গঠনের তারিখগুলোতে অসুস্থতার কথা বলে হাজির করা হয়নি। তাই শুনানি সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ টাঙ্গাইলে কলেজপাড়া এলাকায় তার বাসার সামনে পাওয়া যায়।

ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্ত শুরু করে।

২০১৪ সালের আগস্টে এ মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হন। আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিতে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

এরপর থেকে আমানুর ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

আজ এমপি রানাসহ সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজার চাহিদার ভিত্তিতেই বিমানের বোয়িং কেনা: সিইও

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি রানার বিচার শুরু

আপডেট সময় ১২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে এমপি রানাসহ এ হত্যা মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হলো।

আদালত সূত্র জানায়, আসামি এমপি রানা এসময় আদালতে মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে দুটি আবেদন করেন। আদালত তা না মঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

সকাল ১০টার দিকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইলে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ এমপি রানাকে আদালতে হাজির না করায় মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৮ বার পেছানো হয়েছিল।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, আইন অনুযায়ী আসামি কারাগারে থাকলে তার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে হয়। ফারুক হত্যা মামলার আসামি আমানুর যেহেতু

কারাগারে রয়েছেন এবং অভিযোগ গঠনের তারিখগুলোতে অসুস্থতার কথা বলে হাজির করা হয়নি। তাই শুনানি সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ টাঙ্গাইলে কলেজপাড়া এলাকায় তার বাসার সামনে পাওয়া যায়।

ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্ত শুরু করে।

২০১৪ সালের আগস্টে এ মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার হন। আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিতে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

এরপর থেকে আমানুর ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

আজ এমপি রানাসহ সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।