ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন চেয়ারম্যানসহ ৯ ইউপি সদস্য ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

পৃথিবীর জলস্তর নিয়ে আরও বেশি বিপদের ছবি প্রকাশ করলো নাসা!

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে উষ্ণায়নের জন্য খুব দ্রুত হারে বরফ গলে যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার। এই হার বজায় থাকলে আগামী ৮০ বছর পর ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে সমুদ্রগুলোর। শুধু গ্রিনল্যান্ড আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার জন্যই আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তর প্রায় দেড় ফুট উঠে আসবে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গবেষকদল জানিয়েছে, এই হারে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে ২১০০ সালে পৃথিবীর সবক’টি সমুদ্রের জলস্তর ১৫ ইঞ্চিরও (৩৮ সেন্টিমিটার) বেশি উঠে আসবে। যা এ পর্যন্ত সব পূর্বাভাসের চেয়েই অনেক বেশি। অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ক্রায়োস্ফিয়ার’-এর বিশেষ ইস্যুতে এই পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। যা করা হয়েছে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের নেতৃত্বে ‘আইস শিট মডেল ইন্টার-কমপ্যারিজন প্রজেক্ট (আইএসএমআইপি৬)’-এর তথ্যের ভিত্তিতে।

গত বছর ‘ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)’-এর একটি বিশেষ রিপোর্টে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ২১০০ সালে আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তরের উচ্চতা-বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশই হবে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের খণ্ডগুলো গলে যাওয়ার জন্য।

আইপিসিসি-র ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছিল গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার জন্য ২০০০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে ৩.১ থেকে ১০.৬ ইঞ্চি (৮ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার)। আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার জন্য এই শতাব্দীতে সমুদ্রের জলস্তর উঠে আসবে ১.২ থেকে ১১ ইঞ্চি (৩ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার)।

প্রকল্পের মূল গবেষক বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি নোউইকি বলেছেন, ৮০ কি ১০০ বছর পর সমুদ্রের জলস্তর কতটা উঠে আসবে তা নির্ভর করবে খুব পুরু বিশাল বিশাল বরফের খণ্ড গুলো কী হারে গলে যাবে তার উপর। আর বরফের সেই সুবিশাল খণ্ড গুলোর প্রায় সবটাই আছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায়। এই বরফের খণ্ড গুলো গলে যাওয়া নির্ভর করছে উষ্ণায়নের উপর।’’

গবেষকরা জানিয়েছেন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার হার। কারণ পরিবেশের তাপমাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের পুরু বিশাল বিশাল বরফের খণ্ড গুলোর উপরের স্তর দ্রুত গলে যাচ্ছে। আর সমুদ্রের তাপমাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে চলায় গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র-লাগোয়া হিমবাহগুলোও গলতে শুরু করেছে।

পূর্বাভাস দিতে গিয়ে গবেষকরা হিসাবটা কষেছেন দু’রকম ভাবে। তারা দেখেছেন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার যদি এখনকার চেয়ে বেড়ে যায় তা হলে শুধু গ্রিনল্যান্ডের বরফের খণ্ড গুলো গলে যাওয়ার জন্যই ২১০০ সালে সমুদ্রগুলির জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ৩ ইঞ্চি (৯ সেন্টিমিটার)। আর সেই নির্গমন কিছুটা কম হলে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার জন্য ২১০০ সালে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ১.৩ ইঞ্চি (৩ সেন্টিমিটার)। এর আগের কোনও পূর্বাভাসেই এতটা বিপদের ছবি ফুটে উঠেনি।

এই গবেষণা ২০২২ সালে আইপিসিসি-র রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পৃথিবীর জলস্তর নিয়ে আরও বেশি বিপদের ছবি প্রকাশ করলো নাসা!

আপডেট সময় ০৬:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে উষ্ণায়নের জন্য খুব দ্রুত হারে বরফ গলে যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার। এই হার বজায় থাকলে আগামী ৮০ বছর পর ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে সমুদ্রগুলোর। শুধু গ্রিনল্যান্ড আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার জন্যই আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তর প্রায় দেড় ফুট উঠে আসবে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গবেষকদল জানিয়েছে, এই হারে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গললে ২১০০ সালে পৃথিবীর সবক’টি সমুদ্রের জলস্তর ১৫ ইঞ্চিরও (৩৮ সেন্টিমিটার) বেশি উঠে আসবে। যা এ পর্যন্ত সব পূর্বাভাসের চেয়েই অনেক বেশি। অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ক্রায়োস্ফিয়ার’-এর বিশেষ ইস্যুতে এই পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। যা করা হয়েছে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের নেতৃত্বে ‘আইস শিট মডেল ইন্টার-কমপ্যারিজন প্রজেক্ট (আইএসএমআইপি৬)’-এর তথ্যের ভিত্তিতে।

গত বছর ‘ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)’-এর একটি বিশেষ রিপোর্টে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ২১০০ সালে আমাদের সমুদ্রগুলোর জলস্তরের উচ্চতা-বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশই হবে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের খণ্ডগুলো গলে যাওয়ার জন্য।

আইপিসিসি-র ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছিল গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার জন্য ২০০০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে ৩.১ থেকে ১০.৬ ইঞ্চি (৮ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার)। আর অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার জন্য এই শতাব্দীতে সমুদ্রের জলস্তর উঠে আসবে ১.২ থেকে ১১ ইঞ্চি (৩ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার)।

প্রকল্পের মূল গবেষক বাফালো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি নোউইকি বলেছেন, ৮০ কি ১০০ বছর পর সমুদ্রের জলস্তর কতটা উঠে আসবে তা নির্ভর করবে খুব পুরু বিশাল বিশাল বরফের খণ্ড গুলো কী হারে গলে যাবে তার উপর। আর বরফের সেই সুবিশাল খণ্ড গুলোর প্রায় সবটাই আছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায়। এই বরফের খণ্ড গুলো গলে যাওয়া নির্ভর করছে উষ্ণায়নের উপর।’’

গবেষকরা জানিয়েছেন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার হার। কারণ পরিবেশের তাপমাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের পুরু বিশাল বিশাল বরফের খণ্ড গুলোর উপরের স্তর দ্রুত গলে যাচ্ছে। আর সমুদ্রের তাপমাত্রা উত্তরোত্তর বেড়ে চলায় গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র-লাগোয়া হিমবাহগুলোও গলতে শুরু করেছে।

পূর্বাভাস দিতে গিয়ে গবেষকরা হিসাবটা কষেছেন দু’রকম ভাবে। তারা দেখেছেন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার যদি এখনকার চেয়ে বেড়ে যায় তা হলে শুধু গ্রিনল্যান্ডের বরফের খণ্ড গুলো গলে যাওয়ার জন্যই ২১০০ সালে সমুদ্রগুলির জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ৩ ইঞ্চি (৯ সেন্টিমিটার)। আর সেই নির্গমন কিছুটা কম হলে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার জন্য ২১০০ সালে সমুদ্রগুলোর জলস্তর উঠে আসবে সাড়ে ১.৩ ইঞ্চি (৩ সেন্টিমিটার)। এর আগের কোনও পূর্বাভাসেই এতটা বিপদের ছবি ফুটে উঠেনি।

এই গবেষণা ২০২২ সালে আইপিসিসি-র রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।