আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মানব ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে অনৈতিক কাজের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে এবার তার ছোট ভাই কাজী বদরুলকে তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন।
শনিবার কুয়েতের আরবি দৈনিক আল-রাইয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির ইংরেজি দৈনিক কুয়েত টাইমস।
কুয়েত টাইমসের খবরে বলা হয়, নতুন করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক বাংলাদেশি সাংসদ পাপুলের সঙ্গে অনৈতিক কাজে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে তার ছোট ভাই কাজী বদরুলকে তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন।
এদিকে পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার কুয়েতের দুই আইনপ্রণেতা সাদৌন হামদ এবং সালাহ খোরশিদ গতকাল জামিন পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানায় কুয়েত টাইমস।
গত ২৩ আগস্ট সাংসদ পাপুলের আটকাদেশ আরও এক মাস বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর আগে আরও চারবার পাপুলের আটকাদেশ বাড়ায় কুয়েতের সুপ্রিম কোর্ট।
ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কর্মকর্তারা গত ৬ জুন শহিদ ইসলামকে তার বাসা থেকে আটক করে। এরপর গোয়েন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ ইসলাম কুয়েতের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী লোকজনকে ঘুষ দিয়ে অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মেজর জেনারেল মাজেনসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়।
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির ধারণা।
কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সেবা খাত, নিরাপত্তা, নির্মাণ, আবাসন, পরিবহন, তেল শোধন প্রভৃতি খাতে কার্যক্রম রয়েছে মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের। কুয়েতের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ব্যবসায় রয়েছে তাদের।
পাপুলের বিরুদ্ধে ওঠা মানবপাচারের অভিযোগ তদন্ত হওয়ার বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় কুয়েত সিআইডির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কুয়েতি পত্রিকা আল কাবাস ও আরব টাইমস।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















