ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুই মাসে ২ সিরিজ জয় বাংলাদেশের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০ জার্মানিতে অপদস্থ রেজা পাহলভি, অভিযুক্ত আটক ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধীদলের ১০ জনের কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিশ্ব, আইইএ প্রধানের সতর্কবার্তা বনানীতে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটওভার ব্রিজে ধাক্কা, নিহত ২ ঢাকায় লোডশেডিং ১-২ ঘণ্টা আর গ্রামে ১৪ ঘণ্টা: সংসদে রুমিন ফারহানা সংসদে নারী আসনের সদস্যদের ভূমিকাও জরুরি: সেলিমা রহমান ছাত্রলীগ হামলা করত ‘জয় বাংলা’ বলে, শিবির শুরু করেছে ‘নারায়ে তাকবির’ বলে

সোনারগাঁওয়ে আতঙ্কের এক নাম ডাকাত হাবু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শান্তিরবাজারে আতঙ্কের এক নাম হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে হাবু ডাকাত।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মূলহোতা এ হাবু ডাকাত এবং তার বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাবু ডাকাত ও তার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে বারদীর শান্তিরবাজার এবং এর আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা হাবু ডাকাত ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো ফল পায়নি। এ ব্যাপারে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে ডাকাত হাবু ২০-২৫ জনের একটি বাহিনী তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।

এ বাহিনীর অত্যাচারে বারদী ইউনিয়নের পাইকপাড়া, গোয়ালপাড়া, মান্দারপাড়া, মসলেন্দপুর, নাকুরিয়াহাটি, চেঙ্গাকান্দি, নুনেরটেক, আলগীরচর, দলরদী, শেখেরচরসহ ১০ গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এ বাহিনী অন্যতম সদস্য হচ্ছে– মোতালেব, নূর আমিন, কবীর, সামি আক্তার, শাহজালাল, ডালিম, নূর মোহাম্মদ, দীন ইসলাম, আশিক, ফাহিম, ফালান মিয়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদ করায় হাবু ও তার ক্যাডার বাহিনী করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও গত সাড়ে তিন মাসে কমপক্ষে ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।

ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। গত ২৮ মে চাঁদার দাবিতে শান্তিরবাজারে নজরুল ইসলামের দোকান ভাঙচুর করে হাবিবুর রহমান হাবু ও তার লোকজন। হাবুর চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়া যুবক শাকিল ও উজ্জ্বলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতাবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া চলতি মাসের ১২ জুলাই শান্তিরবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু, জাফর, হোসেন, ফারুক মেম্বার, সানু মেম্বার ও সানাউল্লাহ সিন্ডিকেট আব্দুল মতিনের একটি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন।

ভুক্তভোগী আবদুল মতিনের পক্ষে আওয়ামী যুবলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ব্যবসায়ী ও ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কথা বলায় হাবু ডাকাতের নেতৃত্বে ১৮-২০ জনের একটি দল এলোপাতাড়িভাবে আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।

আহত আমিনুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনার পর আহত ওই ব্যক্তির বড় ভাই বাদী হয়ে হাবু ডাকাতকে প্রধান আসামি করে ও ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। গত ১৪ জুলাই হাবু ডাকাতের গ্ৰেফতার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

ডাকাত হাবুর বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার থানায় তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে।

মছলন্দপুর গ্রামের সেলিম, রফিকুল ও হালিমা বেগম জানান, সম্প্রতি হাবু ডাকাত ও তার বাহিনী এলাকার কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার পর এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করলে হাবু ও তার বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপরই হামলা চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা আরও জানায়, ডাকাত হাবু ইউপি সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বারদী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু একজন ডাকাত সর্দার। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ভূমিদস্যুতা, মারামারি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার মামলায় হাবু পলাতক রয়েছেন। হাবুকে গ্রেফতারের ব্যাপারে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও কাজ করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দুই মাসে ২ সিরিজ জয় বাংলাদেশের

সোনারগাঁওয়ে আতঙ্কের এক নাম ডাকাত হাবু

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শান্তিরবাজারে আতঙ্কের এক নাম হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে হাবু ডাকাত।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মূলহোতা এ হাবু ডাকাত এবং তার বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাবু ডাকাত ও তার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে বারদীর শান্তিরবাজার এবং এর আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা হাবু ডাকাত ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো ফল পায়নি। এ ব্যাপারে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মান্দারপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে ডাকাত হাবু ২০-২৫ জনের একটি বাহিনী তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।

এ বাহিনীর অত্যাচারে বারদী ইউনিয়নের পাইকপাড়া, গোয়ালপাড়া, মান্দারপাড়া, মসলেন্দপুর, নাকুরিয়াহাটি, চেঙ্গাকান্দি, নুনেরটেক, আলগীরচর, দলরদী, শেখেরচরসহ ১০ গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এ বাহিনী অন্যতম সদস্য হচ্ছে– মোতালেব, নূর আমিন, কবীর, সামি আক্তার, শাহজালাল, ডালিম, নূর মোহাম্মদ, দীন ইসলাম, আশিক, ফাহিম, ফালান মিয়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদ করায় হাবু ও তার ক্যাডার বাহিনী করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও গত সাড়ে তিন মাসে কমপক্ষে ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।

ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। গত ২৮ মে চাঁদার দাবিতে শান্তিরবাজারে নজরুল ইসলামের দোকান ভাঙচুর করে হাবিবুর রহমান হাবু ও তার লোকজন। হাবুর চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়া যুবক শাকিল ও উজ্জ্বলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতাবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া চলতি মাসের ১২ জুলাই শান্তিরবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু, জাফর, হোসেন, ফারুক মেম্বার, সানু মেম্বার ও সানাউল্লাহ সিন্ডিকেট আব্দুল মতিনের একটি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে একটি বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন।

ভুক্তভোগী আবদুল মতিনের পক্ষে আওয়ামী যুবলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ব্যবসায়ী ও ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কথা বলায় হাবু ডাকাতের নেতৃত্বে ১৮-২০ জনের একটি দল এলোপাতাড়িভাবে আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।

আহত আমিনুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনার পর আহত ওই ব্যক্তির বড় ভাই বাদী হয়ে হাবু ডাকাতকে প্রধান আসামি করে ও ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। গত ১৪ জুলাই হাবু ডাকাতের গ্ৰেফতার ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

ডাকাত হাবুর বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল, ককটেল বিস্ফোরণ, স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার থানায় তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে।

মছলন্দপুর গ্রামের সেলিম, রফিকুল ও হালিমা বেগম জানান, সম্প্রতি হাবু ডাকাত ও তার বাহিনী এলাকার কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার পর এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করলে হাবু ও তার বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপরই হামলা চালায় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা আরও জানায়, ডাকাত হাবু ইউপি সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বারদী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু একজন ডাকাত সর্দার। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ভূমিদস্যুতা, মারামারি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার মামলায় হাবু পলাতক রয়েছেন। হাবুকে গ্রেফতারের ব্যাপারে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও কাজ করছে।