ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন কে করবে, না করবে- সেটি ইসি ও আদালতের বিষয় : রিজভী রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে, মতবিনিময়ে হেফাজত নেতারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে, নিহত ১ কাতার বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, এবার খরচ প্রায় শূন্য: তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলবে না: মোজতবা খামেনি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ঠোঁট-তালুকাটা শিশুদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ হচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবি, নিখোঁজ ২

ডুবন্ত বাসে জীবন্ত শিশুর হাত, ঝাঁপ দিলেন কনস্টেবল

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। এ সময় ঢাকা থেকে মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস অর্ধশত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলবে যাচ্ছিল। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ময়লা পানির খাদে পড়ে যায় বাসটি।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা যখন আশপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তখন সেই দুর্গন্ধযুক্ত ডোবার ময়লা পানিতে লাফ দেন পারভেজ মিয়া। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেন উদ্ধার তৎপরতা। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমেই তিনি ডুবন্তপ্রায় বাসটির জানালার সব কাঁচ ভেঙে দেন যেন যাত্রীরা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। এরপর নিজেই ডুবন্ত বাসটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করে আনেন সাত মাস বয়সী একটি শিশুকে। এরপর একে একে বের করে আনেন পাঁচ নারীসহ ১৫ যাত্রীকে।

আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এই স্লোগানকে যেন সত্যে পরিণত করলেন পারভেজ মিয়া। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে বেঁচে গেছে দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসের শিশুসহ অর্ধশত যাত্রী।

ডুবন্ত বাসটি থেকে এক শিশুর হাত দেখতে পেয়ে আর দেরি করেননি এই পুলিশ সদস্য। ঘটনা সম্পর্কে পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এক লোক আইসা বলতাছে, স্যার একটা বাস খাদে পড়ছে। তখন আমি দৌড়ে যাই। দৌড়ে যাওয়ার পর দেখি বাসটা আস্তে আস্তে পানির নিচে ডুবতেছে। তখন আর কোনোদিকে খেয়াল না করে আমি নিজেই…। সবাই তাকাইয়া আছে, আমি সবাইকে ডাকতেছি, ভয়ে নামতেছে না। তখন এক বাচ্চার হাত দেখতেছি উপরের দিকে তখন আমি মোবাইল মানিব্যাগ কার কাছে দিসি খেয়াল নাই, ঝাঁপায়ে পড়ছি। প্রথমে শিশুটাকে উদ্ধার করে পরে গ্লাসগুলা সব ভেঙে আস্তে আস্তে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী যারা ছিল ওদেরকে বের করে নিয়ে আসি।’

পারভেজের সাহসিকতা দেখে স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সবার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় বাসটির সব যাত্রীকে।

এই ঘটনায় সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কুমিল্লার হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পারভেজ মিয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য পারভেজের নাম সুপারিশ করবেন বলেনও জানান।

পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যেক সদস্যেরই এই ধরনের মানবিক গুণাবলী থাকা উচিত। কারণ, আমরা হলাম দুর্ঘটনাকবলিত জনগণের জন্য প্রথম তাঁর কাছে গিয়ে সেবা প্রদানকারী সদস্য। কাজেই পারভেজের এই কাজটা আমাদের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহিত করবে। এটা একটা গর্বের বিষয়। তাঁর কাছ থেকে যেন অন্য পুলিশ সদস্যরা যাতে উৎসাহিত হয় সেজন্য আমরা তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক প্রদানের সুপারিশ করব।’

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। এ সময় ঢাকা থেকে মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস অর্ধশত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলবে যাচ্ছিল। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ময়লা পানির খাদে পড়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা যখন আশপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তখন সেই দুর্গন্ধযুক্ত ডোবার ময়লা পানিতে লাফ দেন পারভেজ মিয়া। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেন উদ্ধার তৎপরতা। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমেই তিনি ডুবন্তপ্রায় বাসটির জানালার সব কাঁচ ভেঙে দেন যেন যাত্রীরা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। এরপর নিজেই ডুবন্ত বাসটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করে আনেন সাত মাস বয়সী একটি শিশুকে। এরপর একে একে বের করে আনেন পাঁচ নারীসহ ১৫ যাত্রীকে। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এই স্লোগানকে যেন সত্যে পরিণত করলেন পারভেজ মিয়া। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে বেঁচে গেছে দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসের শিশুসহ অর্ধশত যাত্রী। ডুবন্ত বাসটি থেকে এক শিশুর হাত দেখতে পেয়ে আর দেরি করেননি এই পুলিশ সদস্য। ঘটনা সম্পর্কে পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এক লোক আইসা বলতাছে, স্যার একটা বাস খাদে পড়ছে। তখন আমি দৌড়ে যাই। দৌড়ে যাওয়ার পর দেখি বাসটা আস্তে আস্তে পানির নিচে ডুবতেছে। তখন আর কোনোদিকে খেয়াল না করে আমি নিজেই…। সবাই তাকাইয়া আছে, আমি সবাইকে ডাকতেছি, ভয়ে নামতেছে না। তখন এক বাচ্চার হাত দেখতেছি উপরের দিকে তখন আমি মোবাইল মানিব্যাগ কার কাছে দিসি খেয়াল নাই, ঝাঁপায়ে পড়ছি। প্রথমে শিশুটাকে উদ্ধার করে পরে গ্লাসগুলা সব ভেঙে আস্তে আস্তে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী যারা ছিল ওদেরকে বের করে নিয়ে আসি।’ পারভেজের সাহসিকতা দেখে স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সবার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় বাসটির সব যাত্রীকে। এই ঘটনায় সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কুমিল্লার হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পারভেজ মিয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য পারভেজের নাম সুপারিশ করবেন বলেনও জানান। পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যেক সদস্যেরই এই ধরনের মানবিক গুণাবলী থাকা উচিত। কারণ, আমরা হলাম দুর্ঘটনাকবলিত জনগণের জন্য প্রথম তাঁর কাছে গিয়ে সেবা প্রদানকারী সদস্য। কাজেই পারভেজের এই কাজটা আমাদের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহিত করবে। এটা একটা গর্বের বিষয়। তাঁর কাছ থেকে যেন অন্য পুলিশ সদস্যরা যাতে উৎসাহিত হয় সেজন্য আমরা তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক প্রদানের সুপারিশ করব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কে করবে, না করবে- সেটি ইসি ও আদালতের বিষয় : রিজভী

ডুবন্ত বাসে জীবন্ত শিশুর হাত, ঝাঁপ দিলেন কনস্টেবল

আপডেট সময় ০২:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। এ সময় ঢাকা থেকে মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস অর্ধশত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলবে যাচ্ছিল। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ময়লা পানির খাদে পড়ে যায় বাসটি।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা যখন আশপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তখন সেই দুর্গন্ধযুক্ত ডোবার ময়লা পানিতে লাফ দেন পারভেজ মিয়া। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেন উদ্ধার তৎপরতা। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমেই তিনি ডুবন্তপ্রায় বাসটির জানালার সব কাঁচ ভেঙে দেন যেন যাত্রীরা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। এরপর নিজেই ডুবন্ত বাসটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করে আনেন সাত মাস বয়সী একটি শিশুকে। এরপর একে একে বের করে আনেন পাঁচ নারীসহ ১৫ যাত্রীকে।

আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এই স্লোগানকে যেন সত্যে পরিণত করলেন পারভেজ মিয়া। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে বেঁচে গেছে দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসের শিশুসহ অর্ধশত যাত্রী।

ডুবন্ত বাসটি থেকে এক শিশুর হাত দেখতে পেয়ে আর দেরি করেননি এই পুলিশ সদস্য। ঘটনা সম্পর্কে পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এক লোক আইসা বলতাছে, স্যার একটা বাস খাদে পড়ছে। তখন আমি দৌড়ে যাই। দৌড়ে যাওয়ার পর দেখি বাসটা আস্তে আস্তে পানির নিচে ডুবতেছে। তখন আর কোনোদিকে খেয়াল না করে আমি নিজেই…। সবাই তাকাইয়া আছে, আমি সবাইকে ডাকতেছি, ভয়ে নামতেছে না। তখন এক বাচ্চার হাত দেখতেছি উপরের দিকে তখন আমি মোবাইল মানিব্যাগ কার কাছে দিসি খেয়াল নাই, ঝাঁপায়ে পড়ছি। প্রথমে শিশুটাকে উদ্ধার করে পরে গ্লাসগুলা সব ভেঙে আস্তে আস্তে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী যারা ছিল ওদেরকে বের করে নিয়ে আসি।’

পারভেজের সাহসিকতা দেখে স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সবার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় বাসটির সব যাত্রীকে।

এই ঘটনায় সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কুমিল্লার হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পারভেজ মিয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য পারভেজের নাম সুপারিশ করবেন বলেনও জানান।

পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যেক সদস্যেরই এই ধরনের মানবিক গুণাবলী থাকা উচিত। কারণ, আমরা হলাম দুর্ঘটনাকবলিত জনগণের জন্য প্রথম তাঁর কাছে গিয়ে সেবা প্রদানকারী সদস্য। কাজেই পারভেজের এই কাজটা আমাদের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহিত করবে। এটা একটা গর্বের বিষয়। তাঁর কাছ থেকে যেন অন্য পুলিশ সদস্যরা যাতে উৎসাহিত হয় সেজন্য আমরা তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক প্রদানের সুপারিশ করব।’

গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। এ সময় ঢাকা থেকে মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস অর্ধশত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলবে যাচ্ছিল। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ময়লা পানির খাদে পড়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা যখন আশপাশের সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তখন সেই দুর্গন্ধযুক্ত ডোবার ময়লা পানিতে লাফ দেন পারভেজ মিয়া। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুরু করেন উদ্ধার তৎপরতা। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে প্রথমেই তিনি ডুবন্তপ্রায় বাসটির জানালার সব কাঁচ ভেঙে দেন যেন যাত্রীরা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। এরপর নিজেই ডুবন্ত বাসটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করে আনেন সাত মাস বয়সী একটি শিশুকে। এরপর একে একে বের করে আনেন পাঁচ নারীসহ ১৫ যাত্রীকে। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এই স্লোগানকে যেন সত্যে পরিণত করলেন পারভেজ মিয়া। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে বেঁচে গেছে দুর্ঘটনাকবলিত একটি যাত্রীবাহী বাসের শিশুসহ অর্ধশত যাত্রী। ডুবন্ত বাসটি থেকে এক শিশুর হাত দেখতে পেয়ে আর দেরি করেননি এই পুলিশ সদস্য। ঘটনা সম্পর্কে পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এক লোক আইসা বলতাছে, স্যার একটা বাস খাদে পড়ছে। তখন আমি দৌড়ে যাই। দৌড়ে যাওয়ার পর দেখি বাসটা আস্তে আস্তে পানির নিচে ডুবতেছে। তখন আর কোনোদিকে খেয়াল না করে আমি নিজেই…। সবাই তাকাইয়া আছে, আমি সবাইকে ডাকতেছি, ভয়ে নামতেছে না। তখন এক বাচ্চার হাত দেখতেছি উপরের দিকে তখন আমি মোবাইল মানিব্যাগ কার কাছে দিসি খেয়াল নাই, ঝাঁপায়ে পড়ছি। প্রথমে শিশুটাকে উদ্ধার করে পরে গ্লাসগুলা সব ভেঙে আস্তে আস্তে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী যারা ছিল ওদেরকে বের করে নিয়ে আসি।’ পারভেজের সাহসিকতা দেখে স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সবার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় বাসটির সব যাত্রীকে। এই ঘটনায় সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কুমিল্লার হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পারভেজ মিয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য পারভেজের নাম সুপারিশ করবেন বলেনও জানান। পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যেক সদস্যেরই এই ধরনের মানবিক গুণাবলী থাকা উচিত। কারণ, আমরা হলাম দুর্ঘটনাকবলিত জনগণের জন্য প্রথম তাঁর কাছে গিয়ে সেবা প্রদানকারী সদস্য। কাজেই পারভেজের এই কাজটা আমাদের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহিত করবে। এটা একটা গর্বের বিষয়। তাঁর কাছ থেকে যেন অন্য পুলিশ সদস্যরা যাতে উৎসাহিত হয় সেজন্য আমরা তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদক প্রদানের সুপারিশ করব।’