ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতির বিস্তার ঘটাবে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

‘বিদেশগামী বাংলাদেশিদের ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক’ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তটি একটি আত্মঘাতি পদক্ষেপ। প্রথমত: সনদ বা সার্টিফিকেট বিষয়টিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির ‘ডোর ওপেনার’। এই ধরনের সার্টিফিকেট বিতরণের উদ্যোগ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে বলে ধারনা করা যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার্টিফিকেট দেয়া হবে। তার মানে হচ্ছে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেটটি দেবে বাংলাদেশ সরকার।

এখন এর বিপদটি নিয়ে আলোচনা করি। ধরুন, কেউ করোনা পরীক্ষার জন্য সোমবার নমুনা জমা দিল। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই টেস্টের ফলাফল পেতে তাকে ৫ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ধরলাম, তিনি ৫ দিনের মাথায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ পেয়ে গেলেন। তার মানে হচ্ছে তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য ‘সরকারিভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত’ হলেন।
সোমবার নমুনা জমা দিয়ে ফেরার পথে কিংবা পরে যে কোনো সময় তিনি কোনো না কোনোভাবে যদি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন এবং তার দেহে ভাইরাস প্রবেশ করে, তা হলে ইনকিউবিশনের নিয়ম অনুসারে ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তার শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেবে। আবার সংক্রমিত হবার পরও অনেকের দেহে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।যদিও তার দেহে ভাইরাস ঢুকে গেছে। পাঁচ দিন পর তিনি যখন ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ হাতে পেলেন- ততক্ষণে তার দেহে ভাইরাস বাসা বেঁধে ফেলেছে, সেটি কিন্তু কেউ জানলো না, যার দেহে ভাইরাসটি ঢুকে পড়লো তিনি তো না ই, এমন কি টেস্টওয়ালারাও না।

এই সার্টিফিকেট নিয়ে তিনি যখন অন্যদেশে নামবেন, সেখানে যদি তার আবার টেস্ট হয়- তা হলে সেই টেষ্ট ‘পজিটিভ’ হবে। তা হলে তিনি যে ‘বৈধভাবে সরকার প্রদত্ত নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ নিয়ে বিদেশে গেলেন- সেই সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা কি? তখন কি বিদেশের টেষ্ট ভুয়া বলে পাড় পাওয়া যাবে? ইনকিউবিশনের টাইমটাকে যেহেতু ১৪ দিন পর্যন্ত ধরা হয়, বিদেশে যাওয়ার পরও তার মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার নাও দিতে পারে। কিন্তু ততক্ষণে তিনি আরো মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলবেন।

পৃথিবীর আর কোনো দেশে ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ দেয়া হয় কী না- নিশ্চিতভাবে তার কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই। অন্তত কানাডায় নাই। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এবং করোনা ভাইরাস বিস্তারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতিরই বিস্তার ঘটাবে, আর কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতির বিস্তার ঘটাবে

আপডেট সময় ১০:৫৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

‘বিদেশগামী বাংলাদেশিদের ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ বাধ্যতামূলক’ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তটি একটি আত্মঘাতি পদক্ষেপ। প্রথমত: সনদ বা সার্টিফিকেট বিষয়টিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির ‘ডোর ওপেনার’। এই ধরনের সার্টিফিকেট বিতরণের উদ্যোগ লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে বলে ধারনা করা যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে এই সার্টিফিকেট দেয়া হবে। তার মানে হচ্ছে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেটটি দেবে বাংলাদেশ সরকার।

এখন এর বিপদটি নিয়ে আলোচনা করি। ধরুন, কেউ করোনা পরীক্ষার জন্য সোমবার নমুনা জমা দিল। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই টেস্টের ফলাফল পেতে তাকে ৫ থেকে ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ধরলাম, তিনি ৫ দিনের মাথায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ পেয়ে গেলেন। তার মানে হচ্ছে তিনি বিদেশে যাওয়ার জন্য ‘সরকারিভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত’ হলেন।
সোমবার নমুনা জমা দিয়ে ফেরার পথে কিংবা পরে যে কোনো সময় তিনি কোনো না কোনোভাবে যদি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন এবং তার দেহে ভাইরাস প্রবেশ করে, তা হলে ইনকিউবিশনের নিয়ম অনুসারে ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তার শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেবে। আবার সংক্রমিত হবার পরও অনেকের দেহে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।যদিও তার দেহে ভাইরাস ঢুকে গেছে। পাঁচ দিন পর তিনি যখন ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ হাতে পেলেন- ততক্ষণে তার দেহে ভাইরাস বাসা বেঁধে ফেলেছে, সেটি কিন্তু কেউ জানলো না, যার দেহে ভাইরাসটি ঢুকে পড়লো তিনি তো না ই, এমন কি টেস্টওয়ালারাও না।

এই সার্টিফিকেট নিয়ে তিনি যখন অন্যদেশে নামবেন, সেখানে যদি তার আবার টেস্ট হয়- তা হলে সেই টেষ্ট ‘পজিটিভ’ হবে। তা হলে তিনি যে ‘বৈধভাবে সরকার প্রদত্ত নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ নিয়ে বিদেশে গেলেন- সেই সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা কি? তখন কি বিদেশের টেষ্ট ভুয়া বলে পাড় পাওয়া যাবে? ইনকিউবিশনের টাইমটাকে যেহেতু ১৪ দিন পর্যন্ত ধরা হয়, বিদেশে যাওয়ার পরও তার মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার নাও দিতে পারে। কিন্তু ততক্ষণে তিনি আরো মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলবেন।

পৃথিবীর আর কোনো দেশে ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ দেয়া হয় কী না- নিশ্চিতভাবে তার কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই। অন্তত কানাডায় নাই। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এবং করোনা ভাইরাস বিস্তারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ কেবল দুর্নীতিরই বিস্তার ঘটাবে, আর কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম