ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

‘বাতাস আইলে ভয়ে ঘুমাইতে পারি না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামী হারিয়েছেন ৪০ বছর আগে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে হারিয়েছেন এক মেয়ে গোলেনুরকে। বেঁচে থাকা একমাত্র মেয়ে হোসনেয়ারাকে নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস ৮৫ বছরের জয়নব বেগমের।

মাত্র এক হাত দূরে পায়রা নদী। ঘরের দিকে তাকালে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে গেল বাঁধ, এই বুঝি পলিথিন মোড়ানো ঘরটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পায়রা নদীতে। জয়নবের বসতভিটা ভাঙতে ভাঙতে কয়েক ভাঙা দিলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তার, আজও বাঁধের ওপরই বসবাস করছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় জয়নবের জীবনযাত্রা, বাঁধের ওপর ছোট একটি ঘর। তাও আবার কাঠের বা টিনের নয়। চাচ আর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। যে ঘরে বৃদ্ধ জয়নবের বসবাস। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে থাকেন পায়রা নদীর পাড় বেড়িবাঁধে। স্বামী আহম্মদ হাওলাদার মারা গেছেন ৪০ বছর আগে। দুই মেয়ের মধ্যে গোলেনুর বেগমও ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে দুই সন্তান রেখে মারা যান। গোলেনুরের স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন, সন্তানদের দেখাশুনা করেন না তিনি। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ জয়নব একমাত্র মেয়ে ও দুই নাতনিকে নিয়ে বেঁচে আছেন কোনো মতে। ৮৫ বছর পার করলে আজও মেলেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। ভিক্ষা আর মেয়ে ঝিয়ের কাজ করে যা পায় তা দিয়েই চলছে দিন।

কথা হয় জয়নব বেগমের সঙ্গে। নাম জিজ্ঞেস করতেই বলেন, মোর নাম জয়নব, মোর জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা হরতে পারেন আমনেরা। একজন সংবাদকর্মীর কাছে চাইলেই হয়তো অনেক কিছুই পেতে পারেন তাই একথা বলা।

জয়নব বলেন, বাবা যখন গায়ে শক্তি ছিল কাম করছি, শক্তি কইম্যা গেছে ভিক্ষা করি। এহন শরীর অসুস্থ, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিনা। কত বছর ধরে বেড়িবাঁধের উপর থাকেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ৩০ বছর ধইরা থাহি, স্বামীর কোনো জমি নাই। থাকার কোনো জায়গা নাই। ওয়াপদার ওপরই থাহি। নদীতে ওয়াপদা ভাঙে আর ভাঙে।

জয়নবের মেয়ে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, মায় কয়েকদিন ধইরা অসুস্থ, ওষুধ কেনারও টাহা নাই। ওয়াপদার ওপর থাহি, বাতাস আইলে ভয়ে ঘুমাইতে পারিনা। বড় বন্যা অইলে সাইক্লোন শেল্টারে যাই। অনেক কষ্ট কইরা বোনের রাইখা যাওয়া দুইডা মাইয়া বিয়া দিছি।

প্রতিবেশী জাকির হোসেন বলেন, জয়নব বেগম খুবই অসহায় দিন যাপন করছেন। ৮৫ বছর হলেও বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকায় আজও নাম ওঠেনি তার, এটি খুবই দুঃখজনক। আমরাও জয়নবকে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করি।

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সিদ্দিক গাজী বলেন, জয়নব বেগম খুবই অসহায় এবং কষ্টে দিন যাপন করছেন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পায় কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমরা বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগতভাবে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির

‘বাতাস আইলে ভয়ে ঘুমাইতে পারি না’

আপডেট সময় ০১:৫১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামী হারিয়েছেন ৪০ বছর আগে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে হারিয়েছেন এক মেয়ে গোলেনুরকে। বেঁচে থাকা একমাত্র মেয়ে হোসনেয়ারাকে নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর বসবাস ৮৫ বছরের জয়নব বেগমের।

মাত্র এক হাত দূরে পায়রা নদী। ঘরের দিকে তাকালে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে গেল বাঁধ, এই বুঝি পলিথিন মোড়ানো ঘরটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পায়রা নদীতে। জয়নবের বসতভিটা ভাঙতে ভাঙতে কয়েক ভাঙা দিলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তার, আজও বাঁধের ওপরই বসবাস করছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় জয়নবের জীবনযাত্রা, বাঁধের ওপর ছোট একটি ঘর। তাও আবার কাঠের বা টিনের নয়। চাচ আর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো। যে ঘরে বৃদ্ধ জয়নবের বসবাস। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে থাকেন পায়রা নদীর পাড় বেড়িবাঁধে। স্বামী আহম্মদ হাওলাদার মারা গেছেন ৪০ বছর আগে। দুই মেয়ের মধ্যে গোলেনুর বেগমও ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরে দুই সন্তান রেখে মারা যান। গোলেনুরের স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন, সন্তানদের দেখাশুনা করেন না তিনি। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ জয়নব একমাত্র মেয়ে ও দুই নাতনিকে নিয়ে বেঁচে আছেন কোনো মতে। ৮৫ বছর পার করলে আজও মেলেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। ভিক্ষা আর মেয়ে ঝিয়ের কাজ করে যা পায় তা দিয়েই চলছে দিন।

কথা হয় জয়নব বেগমের সঙ্গে। নাম জিজ্ঞেস করতেই বলেন, মোর নাম জয়নব, মোর জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা হরতে পারেন আমনেরা। একজন সংবাদকর্মীর কাছে চাইলেই হয়তো অনেক কিছুই পেতে পারেন তাই একথা বলা।

জয়নব বলেন, বাবা যখন গায়ে শক্তি ছিল কাম করছি, শক্তি কইম্যা গেছে ভিক্ষা করি। এহন শরীর অসুস্থ, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিনা। কত বছর ধরে বেড়িবাঁধের উপর থাকেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ৩০ বছর ধইরা থাহি, স্বামীর কোনো জমি নাই। থাকার কোনো জায়গা নাই। ওয়াপদার ওপরই থাহি। নদীতে ওয়াপদা ভাঙে আর ভাঙে।

জয়নবের মেয়ে হোসনেয়ারা বেগম বলেন, মায় কয়েকদিন ধইরা অসুস্থ, ওষুধ কেনারও টাহা নাই। ওয়াপদার ওপর থাহি, বাতাস আইলে ভয়ে ঘুমাইতে পারিনা। বড় বন্যা অইলে সাইক্লোন শেল্টারে যাই। অনেক কষ্ট কইরা বোনের রাইখা যাওয়া দুইডা মাইয়া বিয়া দিছি।

প্রতিবেশী জাকির হোসেন বলেন, জয়নব বেগম খুবই অসহায় দিন যাপন করছেন। ৮৫ বছর হলেও বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকায় আজও নাম ওঠেনি তার, এটি খুবই দুঃখজনক। আমরাও জয়নবকে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করি।

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সিদ্দিক গাজী বলেন, জয়নব বেগম খুবই অসহায় এবং কষ্টে দিন যাপন করছেন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পায় কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমরা বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগতভাবে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি।