ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

সমালোচনার ভয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে বাজেট পাস করেছে : ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সমালোচনা এড়াতেই তড়িঘড়ি করে সরকার বাজেট পাস করেছে বলে মন্তব্য করে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে অনলাইন প্রেস কনফারেন্সে বাজেট প্রত্যাখ্যানের এই ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট পাস হয়েছে, সেটা অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট। যাকে অর্থনীতিবিদরা স্বপ্নবিলাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
তিনি বলেন, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত করার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এবারের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রত্যাশিত দীর্ঘ আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। মাত্র একদিন (২৩ জুন) বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে যা অকল্পনীয়। অথচ ভার্চুয়াল অধিবেশন চালিয়ে হলেও বাজেট আলোচনা দীর্ঘায়িত করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যেত।

বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেবার বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট। কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট। দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট। সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট। দেশের কর্মক্ষম বেকার মানুষকে এবং নতুন করে বেকার হওয়া মানুষকে বেকার রেখে দেয়ার বাজেট। এ বাজেট গরিব মানুষের সুবিধা কমিয়ে ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো বৃদ্ধির বাজেট।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অনুদান ব্যতীত ঘাটতি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ ঘাটতি ৫ শতাংশ। সংখ্যানির্ভর মোহাবিষ্ট এ বিরাট বাজেটের ৬৬ শতাংশ আসবে রাজস্ব আয় থেকে। যা একেবারেই অসম্ভব।

তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষক উপেক্ষিত থেকে গেছেন। অথচ এ করোনায় দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে এ কৃষি ও কৃষক। শুধু ভাতের সংস্থান করা নয়, সবজি, মাছ, ডিম, মুরগি, দুধ, মাংস ও ফল কোনো কিছুরই অভাব বোধ করতে দেয়নি যে খাত, গত বাজেটেও তার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অথচ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ছিল মাত্র ৪০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিএনপি সরকারের শেষ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খরচ বেড়েছে সাড়ে নয় গুণ। অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যয় হ্রাস করার যে ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে, তা তার একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত মাত্র।

তিনি আরও বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিরাট ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিল করার পদক্ষেপকে কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করা হয়েছে। অথচ এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই সব খেলাপিদের আবার নতুন ঋণ নেবার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, যেটা আবারও খেলাপি হবে। ব্যাংক খাত সংস্কার এবং ব্যাংক কমিশন গঠনের কিছুই বলা হয়নি বলে অভিযোগ তার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের

সমালোচনার ভয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে বাজেট পাস করেছে : ফখরুল

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সমালোচনা এড়াতেই তড়িঘড়ি করে সরকার বাজেট পাস করেছে বলে মন্তব্য করে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে অনলাইন প্রেস কনফারেন্সে বাজেট প্রত্যাখ্যানের এই ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট পাস হয়েছে, সেটা অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট। যাকে অর্থনীতিবিদরা স্বপ্নবিলাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। জনগণের কাছে ন্যূনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
তিনি বলেন, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত করার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এবারের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রত্যাশিত দীর্ঘ আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। মাত্র একদিন (২৩ জুন) বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে যা অকল্পনীয়। অথচ ভার্চুয়াল অধিবেশন চালিয়ে হলেও বাজেট আলোচনা দীর্ঘায়িত করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যেত।

বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেবার বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট। কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট। দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট। সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট। দেশের কর্মক্ষম বেকার মানুষকে এবং নতুন করে বেকার হওয়া মানুষকে বেকার রেখে দেয়ার বাজেট। এ বাজেট গরিব মানুষের সুবিধা কমিয়ে ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরো বৃদ্ধির বাজেট।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অনুদান ব্যতীত ঘাটতি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ ঘাটতি ৫ শতাংশ। সংখ্যানির্ভর মোহাবিষ্ট এ বিরাট বাজেটের ৬৬ শতাংশ আসবে রাজস্ব আয় থেকে। যা একেবারেই অসম্ভব।

তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষক উপেক্ষিত থেকে গেছেন। অথচ এ করোনায় দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে এ কৃষি ও কৃষক। শুধু ভাতের সংস্থান করা নয়, সবজি, মাছ, ডিম, মুরগি, দুধ, মাংস ও ফল কোনো কিছুরই অভাব বোধ করতে দেয়নি যে খাত, গত বাজেটেও তার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অথচ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ছিল মাত্র ৪০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিএনপি সরকারের শেষ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খরচ বেড়েছে সাড়ে নয় গুণ। অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যয় হ্রাস করার যে ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে, তা তার একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত মাত্র।

তিনি আরও বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিরাট ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিল করার পদক্ষেপকে কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করা হয়েছে। অথচ এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই সব খেলাপিদের আবার নতুন ঋণ নেবার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, যেটা আবারও খেলাপি হবে। ব্যাংক খাত সংস্কার এবং ব্যাংক কমিশন গঠনের কিছুই বলা হয়নি বলে অভিযোগ তার।