ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান ‘একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে’ বিএনপি সরকার কোনো সময় হারিয়ে যায় না: তথ্যমন্ত্রী সাবেক ডিসি সারওয়ারকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি অতীতের সরকার ভোট চুরি করত, এই সরকার ফল চুরি করেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

টিউশন ফি’তে ছাড় দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ে মানবিক হয়ে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শনিবার (২৭ জুন) এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘করোনায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বন্ধের মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি’র জন্য চাপাচাপি করছে- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সময়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া। ফি না পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগগুলো তাদের শিক্ষকদের কী করে বেতন দেবে? আর শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ টিউশনি করাতেন। এখন তো সব বন্ধ।

‘তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজেদের কিছুটা হলেও আগামী ক’মাস চলার মতো সামর্থ্য আছে, তাদের অনুরোধ করব- ফি কিস্তিতে হোক বা কিছু দিন বাদ দিয়ে পরে নেওয়া হোক, সেটি করতে পারলে ভালো। না হলে দেখেন কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সেটা চেষ্টা করবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তারা অন্যান্য ঋণের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। আমরাও সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারি।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে। কারণ কিছু না কিছু বেতন তো দিতে হবে। আপনার সন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে মানে তো সেই বেতন বন্ধ করে দেওয়া যায় না।

‘যেমন আপনি হয়ত কাজে যেতে পারছেন না, কাজ বন্ধ আছে, কিন্তু আপনি কি তার জন্য বেতন চাইবেন না? সরকারি হলে তো পুরো বেতনই পাচ্ছেন, সরকারি না হলে হয়তো বেতন কম দিচ্ছে। তাই যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনার সন্তানের ফি দেওয়া উচিত।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদি আপনার সামর্থ্য না থাকে সেক্ষত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও যদি কিছুটা ছাড় দিতে পারে, কিছুটা কিস্তিতে নিতে পারে, যতদূর সম্ভব উভয়পক্ষকেই আসলে মানবিক আচরণ করতে হবে। এটি এমন একটি সময় যখন আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা ভাবব, তেমনি আমাদের কিন্তু টিকে থাকবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনার সন্তানটিকে আপনি কোথায় ভর্তি করবেন? এবং সেটি সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি দুশ্চিন্তা নিশ্চয়ই।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদেরও চলতে হবে। এর মধ্যে যতটা সম্ভব আমাদের উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে এবং মানবিক আচরণ করে এই দুর্যোগের সময়টা আমাদের পার করতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানম।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইরাব সভাপতি মুসতাক আহমদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি সাব্বির নেওয়াজ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের একটা বালুর ওপরও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না: শফিকুর রহমান

টিউশন ফি’তে ছাড় দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ে মানবিক হয়ে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শনিবার (২৭ জুন) এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘করোনায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বন্ধের মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি’র জন্য চাপাচাপি করছে- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সময়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া। ফি না পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগগুলো তাদের শিক্ষকদের কী করে বেতন দেবে? আর শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ টিউশনি করাতেন। এখন তো সব বন্ধ।

‘তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজেদের কিছুটা হলেও আগামী ক’মাস চলার মতো সামর্থ্য আছে, তাদের অনুরোধ করব- ফি কিস্তিতে হোক বা কিছু দিন বাদ দিয়ে পরে নেওয়া হোক, সেটি করতে পারলে ভালো। না হলে দেখেন কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সেটা চেষ্টা করবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তারা অন্যান্য ঋণের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। আমরাও সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারি।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে। কারণ কিছু না কিছু বেতন তো দিতে হবে। আপনার সন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে মানে তো সেই বেতন বন্ধ করে দেওয়া যায় না।

‘যেমন আপনি হয়ত কাজে যেতে পারছেন না, কাজ বন্ধ আছে, কিন্তু আপনি কি তার জন্য বেতন চাইবেন না? সরকারি হলে তো পুরো বেতনই পাচ্ছেন, সরকারি না হলে হয়তো বেতন কম দিচ্ছে। তাই যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনার সন্তানের ফি দেওয়া উচিত।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদি আপনার সামর্থ্য না থাকে সেক্ষত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও যদি কিছুটা ছাড় দিতে পারে, কিছুটা কিস্তিতে নিতে পারে, যতদূর সম্ভব উভয়পক্ষকেই আসলে মানবিক আচরণ করতে হবে। এটি এমন একটি সময় যখন আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা ভাবব, তেমনি আমাদের কিন্তু টিকে থাকবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনার সন্তানটিকে আপনি কোথায় ভর্তি করবেন? এবং সেটি সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি দুশ্চিন্তা নিশ্চয়ই।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদেরও চলতে হবে। এর মধ্যে যতটা সম্ভব আমাদের উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে এবং মানবিক আচরণ করে এই দুর্যোগের সময়টা আমাদের পার করতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানম।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইরাব সভাপতি মুসতাক আহমদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি সাব্বির নেওয়াজ।