ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়: দুর্নীতি অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়সহ ৩ সংস্থাকে চিঠি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে মাস্ক ও পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুয়িপমেন্ট (পিপিই) কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিন সংস্থার কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সংস্থাটির জনসংযোগ (পরিচালক) কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

দুদকের মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এই চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক বরাবর প্রেরণ করে সংস্থাটি। দুদকের পাঠানো চিঠিতে তাদের কাছে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বারবর ইস্যু করা এই চিঠিতে মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার, আইসিইউ যন্ত্রপাতি, ভেন্টিলেটর, পিসিআর মেশিন, টেস্ট কিট কেনায় এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পগুলোর সব ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদকের একই চিঠিতে মেসার্স জেএমআইসহ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ও ২৬ মার্চ ২০২০ থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে যেসব ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে তাদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

একই চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের কাছেও সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়ার কথা জানানোর কধা জানায় দুদকের জনসংযোগ বিভাগ।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১০ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে থেকে এক জরুরি বৈঠকে করোনাকালে এম-৯৫ মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক সামগ্রী কেনায় অনিয়ম-দুর্নীতি-প্রতারণার অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সুরক্ষামূলক সামগ্রী কেনায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম গঠন করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এন-৯৫-এর মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করে কেন্দ্রীয় মেডিসিন স্টোর ডিপোর (সিএমএসডি) কর্তৃপক্ষ। সিএমএসডি থেকে দাবি করা হয়, তারা এন-৯৫ মাস্কের কোনো কার্যাদেশ জেএমআইকে দেয়নি।

একই বিষয়ে পরবর্তীতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের পরেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরপর দুর্নীতি তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। মাস্ক ও পিপিই কেনার অনিয়ম-দুর্নীতি সুনির্দিষ্ঠ কিছু অভিযোগ আমলে নিয়ে সুরক্ষা সামগ্রী কেনার বিষয়ে তদন্তে নামে সংস্থাটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমানকে ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জামায়াত আমিরের

সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়: দুর্নীতি অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়সহ ৩ সংস্থাকে চিঠি

আপডেট সময় ১১:৫১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে মাস্ক ও পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুয়িপমেন্ট (পিপিই) কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিন সংস্থার কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সংস্থাটির জনসংযোগ (পরিচালক) কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

দুদকের মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এই চিঠি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক বরাবর প্রেরণ করে সংস্থাটি। দুদকের পাঠানো চিঠিতে তাদের কাছে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বারবর ইস্যু করা এই চিঠিতে মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার, আইসিইউ যন্ত্রপাতি, ভেন্টিলেটর, পিসিআর মেশিন, টেস্ট কিট কেনায় এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পগুলোর সব ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদকের একই চিঠিতে মেসার্স জেএমআইসহ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ও ২৬ মার্চ ২০২০ থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে যেসব ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে তাদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

একই চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালকের কাছেও সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়ার কথা জানানোর কধা জানায় দুদকের জনসংযোগ বিভাগ।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১০ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে থেকে এক জরুরি বৈঠকে করোনাকালে এম-৯৫ মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক সামগ্রী কেনায় অনিয়ম-দুর্নীতি-প্রতারণার অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সুরক্ষামূলক সামগ্রী কেনায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম গঠন করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এন-৯৫-এর মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করে কেন্দ্রীয় মেডিসিন স্টোর ডিপোর (সিএমএসডি) কর্তৃপক্ষ। সিএমএসডি থেকে দাবি করা হয়, তারা এন-৯৫ মাস্কের কোনো কার্যাদেশ জেএমআইকে দেয়নি।

একই বিষয়ে পরবর্তীতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের পরেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরপর দুর্নীতি তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। মাস্ক ও পিপিই কেনার অনিয়ম-দুর্নীতি সুনির্দিষ্ঠ কিছু অভিযোগ আমলে নিয়ে সুরক্ষা সামগ্রী কেনার বিষয়ে তদন্তে নামে সংস্থাটি।