ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

‘রাঘববোয়ালদের হাজার কোটি টাকা পাচারের সুযোগ সৃষ্টি হলো’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

একবছরে ২ শতাংশ খেলাপি ঋণ কিস্তিতে জমা দিয়ে ১০ বছরের যে সুবিধা পাওয়ার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে এটিকে গণবিরোধী পদক্ষেপ মন্তব্য করে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, এ সুবিধার মাধ্যমে রাঘববোয়ালদের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া  তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আয়করকে যেভাবে বিন্যাস করেছেন, সেটি আসলে আয়করের জাল বিস্তার করার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে পারতেন। এছাড়া গত একবছরে ২ শতাংশ খেলাপি ঋণ কিস্তিতে জমা দিয়ে ১০ বছরের যে একটা সুবিধা দেওয়া হয়েছে এটি গণবিরোধী একটি পদক্ষেপ। অথচ এটির জন্য অর্থমন্ত্রী কৃতিত্ব নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাঘববোয়ালদের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে বিদেশে পাচার করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটিকে আমি দেশবিরোধী এবং গণবিরোধী পদক্ষেপ বলে মনে করি। এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী তার ধর্ণাঢ্য বন্ধু ও ব্যবসায়ীদেরকে ব্যাংকের ঋণ আরও বিদেশে পাচার করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

‘এছাড়াও অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণকে আড়াল করার ব্যবস্থা করেছেন। এরমাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এনবিআরের কর সংগ্রহে এবারের যে ব্যর্থতা, এটি বাজেটে আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিলো’ যোগ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক।

৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব :

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আগামী বছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে বাজেটে, তা কোনোভাবে অর্জিত হবে না। এটি অতি আশাবাদী প্রাক্কলন। আগামী এক বছরে অর্থনীতির যে সংকুলনটা ঘটবে, এ প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবে সম্ভব না।

তবে স্বাস্থ্যখাত, সামাজিক নিরাপত্তা ও ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে একমত পোষণ করেন ড. মইনুল। এ পরিস্থিতিতে ঘাটতি বাজেট থাকাটা স্বাভাবিক বলে মত তার।

মইনুল বলেন, আগামী বছরে অর্থমন্ত্রী ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট রেখেছেন। এটি ঠিক আছে। এ ধরনের অবস্থায় ঘাটতি বাজেট দেওয়াটা স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যখাতে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন সেগুলো আরও বাড়তে পারলে ভালো হতো। সামাজিক নিরাপত্তার যে খরচ তিনি বাজেটে উল্লেখ করেছেন এগুলো দরকার হবে। এ খাতে আমি অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না।

‘কিন্তু তিনি আগামী বছরে ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকার যে বৈদেশিক ঋণ পাবেন বলে আশা করেছেন, এটিও আরেকটা অস্বাভাবিক প্রত্যাশা। এটির ধারে-কাছেও বাংলাদেশ যেতে পারবে না। এ ধরনের প্রাক্কলন শুভংকরের ফাঁকি দেওয়া’ বলেন দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ এই অর্থনীতিবিদ।

এটি বাজেট বক্তব্য হয়নি:

ড. মইনলু ইসলাম বলেন, গতবার বাজেট পেশ করার সময় ডেঙ্গু জ্বরের অজুহাত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পরে বাজেট পেশ করেন। এবার তিনি যেভাবে ডিজিটাল উপস্থাপনার নামে ঝড়ের গতিতে বাজেট পেশ করেছেন, এটি একটি ফাঁকিবাজি বলে আমার মনে হয়েছে।

‘কারণ বাজেট বক্তব্য জনগণ শুনবে। এ জন্য তথ্য-উপাত্তগুলো ভালোভাবে পেশ করতে হবে। কিন্তু তিনি ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে যেভাবে ঝড়ের গতিতে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা তালি দেওয়ারও সুযোগ হয়নি। এটি বাজেট বক্তব্য হয়নি’ বলেন মইনুল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

‘রাঘববোয়ালদের হাজার কোটি টাকা পাচারের সুযোগ সৃষ্টি হলো’

আপডেট সময় ০৮:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

একবছরে ২ শতাংশ খেলাপি ঋণ কিস্তিতে জমা দিয়ে ১০ বছরের যে সুবিধা পাওয়ার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে এটিকে গণবিরোধী পদক্ষেপ মন্তব্য করে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, এ সুবিধার মাধ্যমে রাঘববোয়ালদের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া  তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আয়করকে যেভাবে বিন্যাস করেছেন, সেটি আসলে আয়করের জাল বিস্তার করার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে পারতেন। এছাড়া গত একবছরে ২ শতাংশ খেলাপি ঋণ কিস্তিতে জমা দিয়ে ১০ বছরের যে একটা সুবিধা দেওয়া হয়েছে এটি গণবিরোধী একটি পদক্ষেপ। অথচ এটির জন্য অর্থমন্ত্রী কৃতিত্ব নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাঘববোয়ালদের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে বিদেশে পাচার করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটিকে আমি দেশবিরোধী এবং গণবিরোধী পদক্ষেপ বলে মনে করি। এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী তার ধর্ণাঢ্য বন্ধু ও ব্যবসায়ীদেরকে ব্যাংকের ঋণ আরও বিদেশে পাচার করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

‘এছাড়াও অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণকে আড়াল করার ব্যবস্থা করেছেন। এরমাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এনবিআরের কর সংগ্রহে এবারের যে ব্যর্থতা, এটি বাজেটে আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিলো’ যোগ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক।

৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব :

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আগামী বছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে বাজেটে, তা কোনোভাবে অর্জিত হবে না। এটি অতি আশাবাদী প্রাক্কলন। আগামী এক বছরে অর্থনীতির যে সংকুলনটা ঘটবে, এ প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবে সম্ভব না।

তবে স্বাস্থ্যখাত, সামাজিক নিরাপত্তা ও ঘাটতি বাজেটের বিষয়ে একমত পোষণ করেন ড. মইনুল। এ পরিস্থিতিতে ঘাটতি বাজেট থাকাটা স্বাভাবিক বলে মত তার।

মইনুল বলেন, আগামী বছরে অর্থমন্ত্রী ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট রেখেছেন। এটি ঠিক আছে। এ ধরনের অবস্থায় ঘাটতি বাজেট দেওয়াটা স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যখাতে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন সেগুলো আরও বাড়তে পারলে ভালো হতো। সামাজিক নিরাপত্তার যে খরচ তিনি বাজেটে উল্লেখ করেছেন এগুলো দরকার হবে। এ খাতে আমি অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না।

‘কিন্তু তিনি আগামী বছরে ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকার যে বৈদেশিক ঋণ পাবেন বলে আশা করেছেন, এটিও আরেকটা অস্বাভাবিক প্রত্যাশা। এটির ধারে-কাছেও বাংলাদেশ যেতে পারবে না। এ ধরনের প্রাক্কলন শুভংকরের ফাঁকি দেওয়া’ বলেন দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ এই অর্থনীতিবিদ।

এটি বাজেট বক্তব্য হয়নি:

ড. মইনলু ইসলাম বলেন, গতবার বাজেট পেশ করার সময় ডেঙ্গু জ্বরের অজুহাত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পরে বাজেট পেশ করেন। এবার তিনি যেভাবে ডিজিটাল উপস্থাপনার নামে ঝড়ের গতিতে বাজেট পেশ করেছেন, এটি একটি ফাঁকিবাজি বলে আমার মনে হয়েছে।

‘কারণ বাজেট বক্তব্য জনগণ শুনবে। এ জন্য তথ্য-উপাত্তগুলো ভালোভাবে পেশ করতে হবে। কিন্তু তিনি ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে যেভাবে ঝড়ের গতিতে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা তালি দেওয়ারও সুযোগ হয়নি। এটি বাজেট বক্তব্য হয়নি’ বলেন মইনুল।