নিজে না চাইলে কাউকে জোর করে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

65

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে প্রত্যেকের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কেউ নিজে না চাইলে তাকে আরেকজন ‘জোর করে’ সুরক্ষা দিতে পারবে না।

লকডাউন শিথিল করা মানে অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করা নয় বলেও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “অদৃশ্য একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি। আমার সুরক্ষা আমার কাছে। এটি যদি অনুধাবন করতে না পারি আরেকজন তো জোর করে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন। লকডাউন শিথিল করা মানে এই নয়, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করব, অকারণে বের হব, জনসমাগম করব।

“অহেতুক ঘর থেকে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করায় করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে বেড়েছে। সবাইকে চিন্তা করতে হবে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানে জীবন-জীবিকা দুটিই রক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেখানে এখনও ডজন ডজন মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছে সেখানেও অনেক জায়গায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। আমার সুরক্ষা যদি আমি না নিই তাহলে কাউকে তো জোর করে নেওয়ানো সম্ভব নয়। তবে অহেতুক ঘোরাঘুরি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ও শনাক্ত রোগীদের মৃত্যু হার তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত রোগীর ৬ ভাগ, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত রোগীর ১৪ শতাংশ, বেলজিয়ামে শনাক্ত রোগীর ১৫ শতাংশ, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৩.২ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশের বেশি মারা যাচ্ছে।

“বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার এখন ১.৪ শতাংশ। সরকার শুরু থেকে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে মৃত্যু হার এখনও অনেক দেশের তুলনায় কম।”

প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অন্য অনেক দেশের মতো ‘ভেঙে পড়ে নাই’ বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “অনেকে অহেতুক সরকারের সমালোচনা করেন। আমাদের ব্যবস্থাপনা যদি ভালো না হত বা খারাপ হত তাহলে এই শনাক্ত রোগীর মৃত্যু হার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশেও বেশি হত। বরং আমাদের দেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন কম।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবন রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন, একই সাথে বাংলাদেশের মতো ১৭ কোটি মানুষের একটি উন্নয়নশীল দেশে দুই মাসের বেশি সময় সারা দেশের সমস্ত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ।

“দুই মাস ধরে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। এখনও একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি। দেশে প্রায় সাত কোটি মানুষ নানাভাবে সরকারের সহায়তার আওতায় এসেছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ পাবার অধিকার রাখেন।”

সাহসিকতার সাথে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাওয়ায় দেশের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান তথ্যমন্ত্রী।

চট্টগ্রামে নতুন চার কোভিড-১৯ হাসপাতাল

সভা শেষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, সরকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়েল হাসপাতাল, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করেছে।

“প্রয়োজন হলে আরও হাসপাতাল অধিগ্রহণ করবে সরকার। এছাড়া নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে অবস্থিত সিটি কমিউনিটি হলে তিনশ বেডের একটি আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হবে। এরপরও যদি আরও আইসোলেশন ইউনিটের প্রয়োজন হয় তাহলে চট্টগ্রামের শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্বলিত কমিউনিটি হলগুলোকে প্রয়োজনে আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তর করা হবে।”

বন্দর নগরীতে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য ‘দ্রুত সময়ের’ মধ্যে ১১টি বুথ স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সমন্বয় সভায় বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও পুলিশের প্রতিনিধিসহ ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয় বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এই কমিটি এসব হাসপাতাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করতে কী কী প্রয়োজন তা নির্ধারণ করবে। হাসপাতালগুলো আজ থেকেই সরকার অধিগ্রহণ করা শুরু করবে।

“আজই হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল অধিগ্রহণ করা হবে। আগামীকাল অথবা পরশু দিনের মধ্যেই বাকি সব হাসপাতাল অধিগ্রহণ করা হবে। রেলওয়ে হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে রেলওয়ের প্রতিনিধি সভায় জানিয়েছেন।”

এছাড়া সভায় শিপব্রেকার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের ১০০ বেডের হাসপাতালটিও করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে পারবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খানম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি প্রমুখ।