ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সপরিবারে করোনা মুক্ত বিটিভির মহাপরিচালক

আকাশ বিনোদন ডেস্ক: 

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরও কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল। সপরিবারে এই অভিনেতা এখন করোনা মুক্ত হয়েছেন।

গত ২ মে হারুন-অর-রশীদের করোনা পরীক্ষা পজিটিভ আসে। তবে তাদের শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

রোববার (১৮ মে) রাতে হারুন-অর-রশীদ সপরিবারে করোনা মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়েছেন। তাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঘরে থেকে কী কী চিকিৎসা তিনি নিয়েছেন তাও তুলে ধরেছেন।

হারুন-অর-রশীদ ফেসবুকে লেখেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে সবার দোয়ায় আমাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টেও কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। করোনাকে মোকাবিলা করতে আমরা সাহস হারাইনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, বাসায় থেকে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছি। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেয়েছি। খেয়েছি এন্টিবায়োটিক ‘এজিথ্রেমাইসিন’ (৫দিন, দৈনিক ১টা করে) প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন ডি (২০০০ এমজি), দু’বেলা ২টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট (৬০ এমজি করে) এবং পানিতে গুলিয়ে প্রতিদিন ১ টি করে ভিটামিন সি (CavixC)। আমাদের জ্বর, কাশি এবং ছিল খাবারে অরুচি। সামান্য শ্বাসকষ্ট হলেও হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা বাসায় সম্ভব না। আল্লাহর রহমতে আমাদের ৩ জনের মধ্যে কারোরই শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া ছিল না।
তিনি আরো লেখেন, আমি আমার ব্লাডসুগার কন্ট্রোলে রেখেছি। ব্যায়াম করেছি। এবং রোদ গায়ে মেখেছি। প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময় গরম পানি খেয়েছি এবং খাচ্ছি। গরম পানি দিয়ে দিনে ৩/৪ বার গারগেল করেছি। নানা উপাচার মিশিয়ে নাকেমুখে গরম পানির ভাপ নিয়েছি।

স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে হারুন-অর-রশীদ লেখেন, আমার স্ত্রী নাহীদ সুলতানা নিজের কোভিড-১৯ অসুস্থ্যতাকে উপেক্ষা করে একেবারে একা (আমাদের বাসায় কাজের লোক নেই ২৫ মার্চ থেকে) আমাদের সেবা-যত্ন করেছে। নানা ধরনের মিশ্রণ, ক্বাথ বানিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। লেবুপানি, ফল, ফলের জুস, তুলসী পাতা, আদা, কালোজিরা, মধু, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে সে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক রাখতে যা যা করা সম্ভব করেছে, করছে। পরিষ্কার রাখছে ঘরবাড়ি। আমাদের একমাত্র কন্যা নিকিতা নন্দিনী নিজে কোভিড-১৯ রোগী হয়েও বাসার অনেক কাজ করেছে। ঘর জীবাণুমুক্ত রেখেছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) যথাসময়ে অতি নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের কোভিড-১৯ টেস্ট, প্রথম ও দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্ট করে আমাদেরকে করোনামুক্ত সনদ দিয়েছে। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সপরিবারে করোনা মুক্ত বিটিভির মহাপরিচালক

আপডেট সময় ১১:১৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

আকাশ বিনোদন ডেস্ক: 

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরও কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল। সপরিবারে এই অভিনেতা এখন করোনা মুক্ত হয়েছেন।

গত ২ মে হারুন-অর-রশীদের করোনা পরীক্ষা পজিটিভ আসে। তবে তাদের শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন।

রোববার (১৮ মে) রাতে হারুন-অর-রশীদ সপরিবারে করোনা মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়েছেন। তাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঘরে থেকে কী কী চিকিৎসা তিনি নিয়েছেন তাও তুলে ধরেছেন।

হারুন-অর-রশীদ ফেসবুকে লেখেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে সবার দোয়ায় আমাদের তিনজনের দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্টেও কোভিড-১৯ নেগেটিভ এসেছে। করোনাকে মোকাবিলা করতে আমরা সাহস হারাইনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, বাসায় থেকে ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছি। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেয়েছি। খেয়েছি এন্টিবায়োটিক ‘এজিথ্রেমাইসিন’ (৫দিন, দৈনিক ১টা করে) প্রতিদিন ১টি করে ভিটামিন ডি (২০০০ এমজি), দু’বেলা ২টি করে জিঙ্ক ট্যাবলেট (৬০ এমজি করে) এবং পানিতে গুলিয়ে প্রতিদিন ১ টি করে ভিটামিন সি (CavixC)। আমাদের জ্বর, কাশি এবং ছিল খাবারে অরুচি। সামান্য শ্বাসকষ্ট হলেও হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা বাসায় সম্ভব না। আল্লাহর রহমতে আমাদের ৩ জনের মধ্যে কারোরই শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়া ছিল না।
তিনি আরো লেখেন, আমি আমার ব্লাডসুগার কন্ট্রোলে রেখেছি। ব্যায়াম করেছি। এবং রোদ গায়ে মেখেছি। প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করেছি। সব সময় গরম পানি খেয়েছি এবং খাচ্ছি। গরম পানি দিয়ে দিনে ৩/৪ বার গারগেল করেছি। নানা উপাচার মিশিয়ে নাকেমুখে গরম পানির ভাপ নিয়েছি।

স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে হারুন-অর-রশীদ লেখেন, আমার স্ত্রী নাহীদ সুলতানা নিজের কোভিড-১৯ অসুস্থ্যতাকে উপেক্ষা করে একেবারে একা (আমাদের বাসায় কাজের লোক নেই ২৫ মার্চ থেকে) আমাদের সেবা-যত্ন করেছে। নানা ধরনের মিশ্রণ, ক্বাথ বানিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। লেবুপানি, ফল, ফলের জুস, তুলসী পাতা, আদা, কালোজিরা, মধু, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাইয়ে সে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিক রাখতে যা যা করা সম্ভব করেছে, করছে। পরিষ্কার রাখছে ঘরবাড়ি। আমাদের একমাত্র কন্যা নিকিতা নন্দিনী নিজে কোভিড-১৯ রোগী হয়েও বাসার অনেক কাজ করেছে। ঘর জীবাণুমুক্ত রেখেছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, দেশে এবং বিদেশে বসবাসকারী আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) যথাসময়ে অতি নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের কোভিড-১৯ টেস্ট, প্রথম ও দ্বিতীয় ফলোআপ টেস্ট করে আমাদেরকে করোনামুক্ত সনদ দিয়েছে। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই সবাইকে।