আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশে যখন করোনার সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখন বাংলাদেশ অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপন্থা গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটাকে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক। জীবন এবং জীবিকাকে একসাথে চালানো, অর্থনীতিকে নিশ্চল না করে রাখা, বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক গতিকে সচল রাখার যে কৌশল, সেই কৌশলটিই হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বাংলাদেশ বোধহয় বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা করোনার পিক সিজনের সময় সীমিতভাবে সবকিছু সচল রেখেছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে গত ২৬ এপ্রিল থেকে। বাংলাদেশের সরকারি অফিসগুলোকে সীমিত আকারে খোলা রাখা হয়েছে। বাজার-হাট, ব্যাংকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু থেকেই শিথিল ছিল। যার ফলে বাংলাদেশে যে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই ছুটি তেমনভাবে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের শুরুর দিক থেকে এই ছুটি আস্তে আস্তে শিথিল হতে থাকে এবং লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে জীবন এবং জীবিকার সন্ধানে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে এখন করোনার পিক আওয়ার হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এখন পর্যন্ত একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, পাশাপাশি অর্থনীতিকে বন্ধ না করে সচল রাখার উদ্যোগও অব্যহত রেখেছে। এই পদ্ধতি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ভেতরে অনেকে মনে করছে যে, এর ফলে আমাদের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। কিন্তু এখন আমরা বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখতে পাবো যে, বিশ্বের অনেক দেশই শেখ হাসিনার এই মডেলকে অনুসরণ করছে এবং শেখ হাসিনার এই ক্যালকুলেটিভ রিস্ক মডেলই এখন বিশ্ব গ্রহণ করতে চাইছে। তার সবথেকে বড় প্রমাণ হলো ইতালি। ইতালিতে যখন করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে, এর মধ্যে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী এটাকে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নামে অভিহিত করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন যে, এভাবে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে থাকা সম্ভব না। তারা আস্তে আস্তে অর্থনৈতিক জীবনকে সচল করার উদ্যোগ নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বভাবিক জীবনযাপন শুরু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সে দেশের অনেক অঙ্গরাজ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার দাবিতে জনগণ বিক্ষোভ করছে, রাস্তায় সমবেত হচ্ছে।
এর অর্থ হলো, বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তটি হুট করে নেয়নি, বরং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি নেয়ার পেছনে বাংলাদেশ সরকার কতগুলো বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখেছে। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণে যে মৃত্যুহার, তা একটি সহনীয় মাত্রায় রয়েছে এবং বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনা, হৃদরোগ বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এর থেকে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। তাই বাংলাদেশ এমন ঝুঁকি নিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিন্তা করা হয়েছে যে, উদীয়মান অর্থনীতির এই দেশটির অর্থনীতির সব চাকা যদি বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে একটি বড় সংখ্যক মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাবে। অনটন, দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা ইত্যাদি বাড়তে থাকবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যাবে। হয়তো করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, কিন্তু অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সহনীয় মাত্রায় না রাখলে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। বেকারত্ব, দারিদ্র, অভাব, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের দিকে বাংলাদেশ চলে যেতে পারে। আর এ কারণে বাংলাদেশের যে ফর্মুলাটা ছিল তা হলো শুধুমাত্র লকডাউনের উপর নির্ভরশীল না হয়ে, স্বাস্থ্যবিধির উপর জোর দিয়ে জনগণকে যতটুকু পারা যায় কাজের মধ্যে রাখা। বাংলাদেশ যে পথ দিয়ে এই কাজটি শুরু করেছিল, সেই পথ ধরে বিশ্বের অনেক দেশই এখন এগিয়ে আসছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















