ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিগগিরই চালু হবে জুলাই জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিসিক শিল্পনগরীর কয়েল ফ্যাক্টরিতে আগুন আইএমএফের শর্ত মেনে কি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার? গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে: তথ‍্যমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাছ ধরতে গিয়ে মেয়ের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা যে সরকার মানুষের খোঁজ নেওয়ার সময় পায় না, এটা কোনো সরকারই না: জামায়াত আমির বিপৎসীমার ওপরে পাঁচ নদীর পানি, সমুদ্রও উত্তাল তালিকায় ১ নম্বরে আমার নাম, আমি মরলে তোমরাও মরবে: ট্রাম্প সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুইদিন পর যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

নতুন অর্থবছরে মেট্রোরেলে বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার কোটি টাকা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্য‌ন্ত নির্মিতব্য ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল রেলপথের অধিকাংশ খুঁটি বসানোর কাজ এরই মাঝে শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ থেমে আছে। কেবল সীমিত আকারে কাজ চলছে এর ডিপো ও গাজীপুরের কারখানায়। সব মিলিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল পর‌্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

বাদবাকি কাজ এগিয়ে নিতে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা ছিল ৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।

করোনার ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন অর্থবছরে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ পাচ্ছে না। অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের ৫টিতেই আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ কমছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এসব ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান জানিয়েছেন, বাস্তবতা আর বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করেই এসব বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্পদের প্রাপ্যতা ও করোনা পরবর্তী বাস্তবতার নিরিখেই এ পদক্ষেপ।

সূত্র জানায়, কাজ এগিয়ে চললেও নতুন বছরে বরাদ্দ কমছে পদ্মাসেতু প্রকল্পেও। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ সেতুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা ছিল ৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বরাদ্দ কমছে ৩৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া পদ্মা রেলসেতুর জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, আসছে অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৩০৫ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারে চলমান সাত মেগা প্রকল্পের জন্য মোট ৩৬ হাজার ২২০ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমিয়ে ৩৪ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

তবে প্রায় সব প্রকল্পেই বরাদ্দ কমলেও ৭১১ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।

এছাড়া দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের নিকটবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে নতুন অর্থবছরে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পে সর্বনিম্ন ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল আমিন বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই যেন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়, সে জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমরা বৈঠক করবো। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে আগের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দলের প্রয়োজনে ছুটি বাতিল তাসকিনের, ওয়ানডে দলে ফিরলেন সাইফউদ্দিন

নতুন অর্থবছরে মেট্রোরেলে বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্য‌ন্ত নির্মিতব্য ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল রেলপথের অধিকাংশ খুঁটি বসানোর কাজ এরই মাঝে শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ থেমে আছে। কেবল সীমিত আকারে কাজ চলছে এর ডিপো ও গাজীপুরের কারখানায়। সব মিলিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল পর‌্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ।

বাদবাকি কাজ এগিয়ে নিতে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যা ছিল ৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।

করোনার ফলে উদ্ভূত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন অর্থবছরে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ পাচ্ছে না। অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের ৫টিতেই আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ কমছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এসব ব্যাপারে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান জানিয়েছেন, বাস্তবতা আর বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করেই এসব বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্পদের প্রাপ্যতা ও করোনা পরবর্তী বাস্তবতার নিরিখেই এ পদক্ষেপ।

সূত্র জানায়, কাজ এগিয়ে চললেও নতুন বছরে বরাদ্দ কমছে পদ্মাসেতু প্রকল্পেও। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ সেতুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা ছিল ৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বরাদ্দ কমছে ৩৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া পদ্মা রেলসেতুর জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, আসছে অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৩০৫ কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারে চলমান সাত মেগা প্রকল্পের জন্য মোট ৩৬ হাজার ২২০ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমিয়ে ৩৪ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

তবে প্রায় সব প্রকল্পেই বরাদ্দ কমলেও ৭১১ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।

এছাড়া দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের নিকটবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে নতুন অর্থবছরে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পে সর্বনিম্ন ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল আমিন বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতেই যেন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়, সে জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমরা বৈঠক করবো। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে আগের প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।