ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বাসসকে, ‘আমরা শান্তিনগরেরর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সফলতা পেয়েছি। নাজিমউদ্দিন রোডের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আগস্টের মধ্যেই এর কাজ শুরু হবে। এরপর আর কোনও জলাবদ্ধতা থাকবে না। শান্তিনগরে এবছর ৮৫ ভাগ জলাবদ্ধতা কমে গেছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য এলাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নগরীতে ভারী বর্ষণ হলে ডিএসসিসির মতিঝিল এলাকায় কিছুটা জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শান্তিনগরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মতিঝিলে আরও একটি প্রকল্প নেয়া যায় কিনা তা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের আশপাশের খাল ও জলাধারগুলো অবৈধভাবে দখল করে ভরাটের ফলে পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়াই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। ঢাকা ওয়াসা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব খাল উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার এবং ২৩৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। নর্দমা পরিস্কারের জন্য গত মাসে ইতালী থেকে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক জেট অ্যান্ড সাকার মেশিনও আমদানী করা হয়েছে।

ডিএসসিসির পূর্ব জুরাইন ও ডিএনডি বাঁধ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে জানিয়ে ডিএসসিসি’র এক কর্মকর্তা জানান, এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় পাম্প ও ড্রেন বসবে বেদখল হওয়া সেসব এলাকায় প্রথমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। এরপর পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলা হবে। ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

এই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ইমারজেন্সি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার অভিযানে নামছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ওয়াসা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছি। কিছু কিছু খালের মধ্যে বহুতল ভবন পর্যন্ত উঠে গেছে। এ পর্যন্ত অন্তত চার শতাধিক ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৬৮ কিলোমিটার ড্রেনের উন্নয়ন করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও ৩০০ কিলোমিটার ড্রেনের উন্নয়ন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি অত্যাধুনিক ‘জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন’ যুক্ত করা হয়েছে। এই যন্ত্রটি প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। প্রতি ১০ মিনিটের মধ্যে ১২০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা যাবে।

জানা গেছে, দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আড়াই হাজার কিলোমিটারের মতো ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটির ১ হাজার ২৩০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটির ড্রেন রয়েছে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শাহ আমানতে রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার, আটক ১

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প

আপডেট সময় ০২:২২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বাসসকে, ‘আমরা শান্তিনগরেরর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সফলতা পেয়েছি। নাজিমউদ্দিন রোডের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আগস্টের মধ্যেই এর কাজ শুরু হবে। এরপর আর কোনও জলাবদ্ধতা থাকবে না। শান্তিনগরে এবছর ৮৫ ভাগ জলাবদ্ধতা কমে গেছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য এলাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নগরীতে ভারী বর্ষণ হলে ডিএসসিসির মতিঝিল এলাকায় কিছুটা জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শান্তিনগরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মতিঝিলে আরও একটি প্রকল্প নেয়া যায় কিনা তা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের আশপাশের খাল ও জলাধারগুলো অবৈধভাবে দখল করে ভরাটের ফলে পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়াই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। ঢাকা ওয়াসা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব খাল উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসি থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার এবং ২৩৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। নর্দমা পরিস্কারের জন্য গত মাসে ইতালী থেকে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক জেট অ্যান্ড সাকার মেশিনও আমদানী করা হয়েছে।

ডিএসসিসির পূর্ব জুরাইন ও ডিএনডি বাঁধ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে জানিয়ে ডিএসসিসি’র এক কর্মকর্তা জানান, এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় পাম্প ও ড্রেন বসবে বেদখল হওয়া সেসব এলাকায় প্রথমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। এরপর পাম্পের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলা হবে। ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

এই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ইমারজেন্সি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার অভিযানে নামছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ওয়াসা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছি। কিছু কিছু খালের মধ্যে বহুতল ভবন পর্যন্ত উঠে গেছে। এ পর্যন্ত অন্তত চার শতাধিক ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৬৮ কিলোমিটার ড্রেনের উন্নয়ন করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও ৩০০ কিলোমিটার ড্রেনের উন্নয়ন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি অত্যাধুনিক ‘জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন’ যুক্ত করা হয়েছে। এই যন্ত্রটি প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। প্রতি ১০ মিনিটের মধ্যে ১২০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা যাবে।

জানা গেছে, দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আড়াই হাজার কিলোমিটারের মতো ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটির ১ হাজার ২৩০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ সিটির ড্রেন রয়েছে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার।