ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি: গণপূর্ত মন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রমণ দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: প্রিন্স নিজের মেয়েকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে বাবাকে ৩৩ বেত্রাঘাত সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

উত্তরখানে কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী-সন্তা্নের হাত-মাথা ভাঙল দখলদাররা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তরখানে বাড়ির রাস্তা ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে উলটো হামলা চালিয়ে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী ও তার সন্তানদের গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতরা হলেন- ফাতেমা বেগম, তার তিন ছেলে আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ ও ওমর ফারুক। গত পরশু শুক্রবার দক্ষিণখানের পণ্ডিতপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

কুয়েতপ্রবাসী মজিবুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সামাদ মন্ডল তাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দিলে তা লাগানোর জন্য শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম দুজন লোক পাঠান। এ সময় আবদুস সামাদ মন্ডলের নেতৃত্বে সেলিম মন্ডল, জসিম মন্ডল, জসিম মন্ডলের ভাগনে পলাশ, হালিম মন্ডল, আবদুস সামাদ মন্ডলের ছেলে রিফাত মন্ডল ২০-২৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী ফাতেমাদের ওপর হামলা চালায়।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘তারা আমার বাবাকে শাবল দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে। আমার ছেলেদের রাস্তার উপরে আছাড় মারে। আমাকে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেয়।’

হামলাকারীরা ফাতেমার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং তার বাবার কাছে থাকা এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

আবদুস সামাদ মন্ডল স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাদের হেনস্তা করছেন বলে অভিযোগ করে ফাতেমা বেগম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তিনি (সামাদ মন্ডল) আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন যাতে মামলা না করি। আমি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ফাতেমা বেগমের স্বামী মজিবুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার রাজারহাট গ্রামে। ফাতেমার বাবার নাম সাহেব আলী। বর্তমানে তারা দক্ষিণখানের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

১০ বছর আগে মন্ডলবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মন্ডলের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেন ফাতেমার কুয়েতপ্রবাসী স্বামী। ফাতেমা বেগম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ওই সময় রফিক মন্ডল আমাদের রাস্তা বুঝিয়ে দিয়েই জমি বিক্রি করেন। পরে তার চাচাতো ভাই আহমেদ মন্ডল রাস্তা নিয়ে ঝামেলা করলে আমরা তাদের আবার ছয় লাখ টাকা দিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে থাকি। পরে আহমেদ মন্ডলের ছেলে আবদুল হালিম মন্ডলের দোকান থেকে রড-সিমেন্ট কিনে ওই জমিতে ছয় তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা বাড়ি নির্মাণ করে সন্তান নিয়ে বসবাস করছি।’

গত ডিসেম্বর মাসে আহমেদ মন্ডলের ছোট ভাই আবদুস সামাদ মন্ডল ওই রাস্তার ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে এবং ফাতেমাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেন। এ ঘটনায় উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ফাতেমা। বিষয়টি তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামকে জানান। পরে বিদ্যুতের লাইন সংযোগ দেওয়া হলে তা আবার কেটে দেয় সামাদ মন্ডল।

শুক্রবার দুপুরে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম দুজন লোক পাঠান বিদ্যুতের লাইন লাগানোর জন্য। ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, সামাদ মন্ডল ও তার লোকজন তাতে বাধা দেন এবং তাদের ওপর হামলা চালান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, ঘটনাস্থল উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানার সীমান্ত এলাকায়। ওই নারী রাস্তা ও বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার। স্থানীয় কাউন্সিলরও এ ব্যাপারে একমত।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছি। না হলে মামলা নিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত

উত্তরখানে কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী-সন্তা্নের হাত-মাথা ভাঙল দখলদাররা

আপডেট সময় ১০:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তরখানে বাড়ির রাস্তা ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে উলটো হামলা চালিয়ে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী ও তার সন্তানদের গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতরা হলেন- ফাতেমা বেগম, তার তিন ছেলে আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ ও ওমর ফারুক। গত পরশু শুক্রবার দক্ষিণখানের পণ্ডিতপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

কুয়েতপ্রবাসী মজিবুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সামাদ মন্ডল তাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দিলে তা লাগানোর জন্য শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম দুজন লোক পাঠান। এ সময় আবদুস সামাদ মন্ডলের নেতৃত্বে সেলিম মন্ডল, জসিম মন্ডল, জসিম মন্ডলের ভাগনে পলাশ, হালিম মন্ডল, আবদুস সামাদ মন্ডলের ছেলে রিফাত মন্ডল ২০-২৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী ফাতেমাদের ওপর হামলা চালায়।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘তারা আমার বাবাকে শাবল দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে। আমার ছেলেদের রাস্তার উপরে আছাড় মারে। আমাকে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেয়।’

হামলাকারীরা ফাতেমার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং তার বাবার কাছে থাকা এক লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

আবদুস সামাদ মন্ডল স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তাদের হেনস্তা করছেন বলে অভিযোগ করে ফাতেমা বেগম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘তিনি (সামাদ মন্ডল) আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন যাতে মামলা না করি। আমি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ফাতেমা বেগমের স্বামী মজিবুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার রাজারহাট গ্রামে। ফাতেমার বাবার নাম সাহেব আলী। বর্তমানে তারা দক্ষিণখানের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

১০ বছর আগে মন্ডলবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মন্ডলের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেন ফাতেমার কুয়েতপ্রবাসী স্বামী। ফাতেমা বেগম দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ওই সময় রফিক মন্ডল আমাদের রাস্তা বুঝিয়ে দিয়েই জমি বিক্রি করেন। পরে তার চাচাতো ভাই আহমেদ মন্ডল রাস্তা নিয়ে ঝামেলা করলে আমরা তাদের আবার ছয় লাখ টাকা দিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে থাকি। পরে আহমেদ মন্ডলের ছেলে আবদুল হালিম মন্ডলের দোকান থেকে রড-সিমেন্ট কিনে ওই জমিতে ছয় তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে এক তলা বাড়ি নির্মাণ করে সন্তান নিয়ে বসবাস করছি।’

গত ডিসেম্বর মাসে আহমেদ মন্ডলের ছোট ভাই আবদুস সামাদ মন্ডল ওই রাস্তার ওপর একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে এবং ফাতেমাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেন। এ ঘটনায় উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ফাতেমা। বিষয়টি তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামকে জানান। পরে বিদ্যুতের লাইন সংযোগ দেওয়া হলে তা আবার কেটে দেয় সামাদ মন্ডল।

শুক্রবার দুপুরে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম দুজন লোক পাঠান বিদ্যুতের লাইন লাগানোর জন্য। ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, সামাদ মন্ডল ও তার লোকজন তাতে বাধা দেন এবং তাদের ওপর হামলা চালান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, ঘটনাস্থল উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানার সীমান্ত এলাকায়। ওই নারী রাস্তা ও বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার। স্থানীয় কাউন্সিলরও এ ব্যাপারে একমত।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছি। না হলে মামলা নিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেব।’