আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে গত ৮ মার্চ থেকে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে যে অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো ঘটেছে তার মধ্যে একটি হলো সাধারণ চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। করোনা চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই, বিশেষ করে বেসরকারী হাসপাতালগুলো একরকম চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। অধিকাংশ বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে নূন্যতম চিকিৎসা সেবাও অঘোষিতভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। বড় বড় হাসপাতালগুলো শুধুমাত্র জরুরি সেবাগুলো অব্যাহত রাখে। পুরো মার্চ মাসজুড়ে হাসপাতালগুলোর আউটডোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সরকার দফায় দফায় তাগাদা, নির্দেশনা দেওয়ার পরে কিছু কিছু হাসপাতাল চালু হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেসরকারী হাসপাতালগুলো পুরোদমে চালু হয়নি। সেখানে করোনার নূন্যতম উপসর্গ নিয়ে অন্য রোগীরা গেলেও তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। বিনা চিকিৎসাতেই ওই সমস্ত রোগীদের মৃত্যু ঘটছে।
এর সর্বশেষ উদাহরণ দেখলাম খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গৌতম আইচের ক্ষেত্রে। তিনি একজন কিডনী রোগী, ডায়ালাইসিসের পেশেন্ট, তার শ্বাসকষ্ট ছিল, শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা পাননি।তার পরিবার অভিযোগ করেছেন, একরকম বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা গেছেন। শুধু গৌতম আইচ একাই নন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমস্ত খবর যোগ করে দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ থেকে গতকাল ৯ মে পর্যন্ত এই ৬১ দিন সময় বাংলাদেশে বিনা চিকিৎসায় এরকম ৫৬৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।এটি করোনায় সংক্রমিত মৃত্যুর চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি।
বাংলাদেশে গতকাল পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ২১৪ জন। বিনা চিকিৎসায় যারা মারা যাচ্ছেন তাদের স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ, আর্তনাদ করেও কোন বিচার পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা যদি কোন করোনা সংক্রমিত রোগীকে চিকিৎসা দিতে যায় তাহলে তারাও আক্রান্ত হবে। সিলেটে এমন ঘটনা ঘটে একজন চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটেছে। বস্তুত এই চিকিৎসায় যে অরাজকতা অবস্থা তাতে দুই পক্ষেরই সমান দায় দায়িত্ব রয়েছে। কারণ অনেক রোগী করোনা উপসর্গ বা তথ্য গোপন করে হাসপাতালে যাচ্ছেন অন্য চিকিৎসার জন্য। ফলে তিনি সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছেন। এরকম ঘটনা ঘটেছে বারডেম, মিটফোর্ডসহ অনেকগুলো হাসপাতালে। সেজন্যই চিকিৎসকরা এখন করোনা উপসর্গ থাকলেই তাকে চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকদের উচিত না সাধারণ মানুষের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া। এটা কাম্য নয় এবং খুব বাজে দৃষ্টান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন। তাদের সেবা দেওয়া উচিত। ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর এরকম বক্তব্যের পরও চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতালে যদি কোন রোগী তার করোনা উপসর্গ গোপন করে পরীক্ষা করতে আসেন তাহলে শনাক্ত করা হবে কিভাবে?
অবশ্য এর পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, হাসপাতালে যদি একটি প্রাথমিক কেন্দ্র করা হয়, প্রাইমারী কেয়ার, যেখানে তার প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা হবে। তার যদি করোনা উপসর্গ থাকে তাহলে তাকে টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। করোনা উপসর্গ না হলে তার যে চিকিৎসা তা দেওয়া হবে। এরকম একটি ব্যবস্থাপনা শুরু থেকেই থাকা দরকার ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এরকম একটি ব্যবস্থাপনা তিনস্তরে সরকারি বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে নিতে যাচ্ছে তারা। যেখানে প্রাথমিক স্তরে রোগীরা আসবে এবং তার করোনা উপসর্গ দেখা হবে। যদি তার করোনা পজিটিভ হয় তাহলে তাকে কোভিড ১৯ সেকশনে নিয়ে যাওয়া হবে। যদি অন্য কোন রোগ থাকে তাহলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এরফলেও হাসপাতালগুলোতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















