ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় নারীর মৃত্যুর অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নারীর (৪৩) মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত নয় দাবি করে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বজনরা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে ওই নারী ঠাণ্ডা, জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকের করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) যথারীতি তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল এখনও আমরা জানতে পারিনি।

মৃত নারীর স্বামী জানান, ১০ মাস আগে তার স্ত্রী ইউটেরাসের টিউমার অপারেশন করার পর থেকেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি এ্যাজমাসহ মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগছিলেন। প্রায়ই ডাক্তারের কাছে আসতে হয়, ওষুধ খাওয়াও চলছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বেশি অসুস্থ হওয়ায় তাকে শুক্রবার সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তি বা চিকিৎসা না দিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে ডাক্তার দেখে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই ওয়ার্ডে রেখে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসার ফলেই মারা গেছেন বলে অভিযোগ তার।

স্থানীয় প্রতিবেশী সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার জরায়ুতে সমস্যা থাকার কারণে সন্তান হয়নি। তিনি কিছুদিন আগে একটি মেয়ে সন্তান দত্তকও নিয়েছিলেন। অনেকদিন ধরেই তিনি এ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন।

তবে করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় আর কোনো রোগী যাতে এভাবে মারা যায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে আহবান জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সিদ্দিক আলীসহ স্থানীয়রা।

এদিকে এ ঘটনার পর মৃত নারীর বাড়িতে যাতায়াতের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা জানান, মৃত ওই নারীর বাড়িতে যেন কেউ যেতে না পারে এজন্য প্রবেশের রাস্তা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যেহেতু করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও আমরা জানতে পারিনি সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করে মরদেহ দাফন করা হবে। সেইসঙ্গে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারসহ আশপাশোর কয়েকটি বাড়ি লকডাউনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

তবে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের করা অভিযোগ সঠিক নয়। এ মুহূর্তে ঠাণ্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে যে কোন রোগী এলেই আমাদের প্রধান সন্দেহের তালিকায় করোনা আক্রান্তের বিষয় বিবেচনাযোগ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় নারীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নারীর (৪৩) মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত নয় দাবি করে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বজনরা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে ওই নারী ঠাণ্ডা, জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকের করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) যথারীতি তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল এখনও আমরা জানতে পারিনি।

মৃত নারীর স্বামী জানান, ১০ মাস আগে তার স্ত্রী ইউটেরাসের টিউমার অপারেশন করার পর থেকেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি এ্যাজমাসহ মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগছিলেন। প্রায়ই ডাক্তারের কাছে আসতে হয়, ওষুধ খাওয়াও চলছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বেশি অসুস্থ হওয়ায় তাকে শুক্রবার সকালে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে ভর্তি বা চিকিৎসা না দিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে ডাক্তার দেখে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই ওয়ার্ডে রেখে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসার ফলেই মারা গেছেন বলে অভিযোগ তার।

স্থানীয় প্রতিবেশী সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তার জরায়ুতে সমস্যা থাকার কারণে সন্তান হয়নি। তিনি কিছুদিন আগে একটি মেয়ে সন্তান দত্তকও নিয়েছিলেন। অনেকদিন ধরেই তিনি এ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন।

তবে করোনা সন্দেহে বিনা চিকিৎসায় আর কোনো রোগী যাতে এভাবে মারা যায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে আহবান জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সিদ্দিক আলীসহ স্থানীয়রা।

এদিকে এ ঘটনার পর মৃত নারীর বাড়িতে যাতায়াতের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা জানান, মৃত ওই নারীর বাড়িতে যেন কেউ যেতে না পারে এজন্য প্রবেশের রাস্তা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, যেহেতু করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও আমরা জানতে পারিনি সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসরণ করে মরদেহ দাফন করা হবে। সেইসঙ্গে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারসহ আশপাশোর কয়েকটি বাড়ি লকডাউনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

তবে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের করা অভিযোগ সঠিক নয়। এ মুহূর্তে ঠাণ্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে যে কোন রোগী এলেই আমাদের প্রধান সন্দেহের তালিকায় করোনা আক্রান্তের বিষয় বিবেচনাযোগ্য।