ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি হাত–মুখ বেঁধে জামায়াত নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহের মাঝেই চীন-রাশিয়ার যৌথ নৌ মহড়া মোংলায় চাঁদা না পেয়ে গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার ৩ ১৮ বছরের নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে: দুদু পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে’:শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পেটে গুলি লেগেছিল মন্নাস আলীর, ৫৫ বছর পর অস্ত্রোপচারে অপসারণ মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেল ১৪১৭ জন

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত ফ্রান্স। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। দিন দিন অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপের এ দেশটিতে মারা গেছে ১ হাজার ৪১৭ জন, যা এখন পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৮ জন।

কারোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় ফ্রান্স এখন চার নম্বরে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৩৩৭ জন।

এ ছাড়া ফ্রান্সে বর্তমানে ৭৯ হাজার ৪০৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৩৭৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ৭ হাজার ১৩১ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিইউতে রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ আটকাতে গত ১৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন করে মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল ফরাসি সরকার। কিন্তু এ লকডাউনেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলিভার ভেরান বলেছেন, আমরা করোনাভাইরাস মহামারীর শেষ প্রান্তে পৌঁছাইনি। আমরা এখনও এই মহামারীর চূড়ার কাছাকাছি আছি। যে পথ অনেক দীর্ঘ ও দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তিন মাস ছাড়িয়েছে। এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। করোনায় বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৭ হাজার ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎ বিশ্বজুড়ে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৫ জন।

এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার ৯৪০ জন।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৫ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৫ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৭ হাজার ৮৯০ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিইউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৮৪১ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৭ হাজার ১২৭ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এ ছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪২ জন আক্রান্ত, আর ১৪ হাজার ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৬৩ জন আক্রান্ত, ২ হাজার ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৮০২, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৩ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯, মারা গেছে ১০ হাজার ৩২৮ জন। ইরানে আক্রান্ত ৬২ হাজার ৫৮৯, মারা গেছে ৩ হাজার ৮৭২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৫৫ হাজার ২৪২, মারা গেছে ৬ হাজার ১৫৯ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ২২ হাজার ১৯৪, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৫ জনের। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ১৯ হাজার ৫৮০, মারা গেছে ২ হাজার ১০১ জন।

এ ছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ১৫০ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫৭ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ১৭ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলাব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাপন আমলের রেকর্ডপত্র চেয়ে বিসিবিতে দুদকের ৩ চিঠি

ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেল ১৪১৭ জন

আপডেট সময় ০৩:২৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত ফ্রান্স। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। দিন দিন অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপের এ দেশটিতে মারা গেছে ১ হাজার ৪১৭ জন, যা এখন পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৮ জন।

কারোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় ফ্রান্স এখন চার নম্বরে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৫৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৩৩৭ জন।

এ ছাড়া ফ্রান্সে বর্তমানে ৭৯ হাজার ৪০৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৩৭৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ৭ হাজার ১৩১ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিইউতে রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ আটকাতে গত ১৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন করে মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল ফরাসি সরকার। কিন্তু এ লকডাউনেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলিভার ভেরান বলেছেন, আমরা করোনাভাইরাস মহামারীর শেষ প্রান্তে পৌঁছাইনি। আমরা এখনও এই মহামারীর চূড়ার কাছাকাছি আছি। যে পথ অনেক দীর্ঘ ও দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তিন মাস ছাড়িয়েছে। এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। করোনায় বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৭ হাজার ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎ বিশ্বজুড়ে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৫ জন।

এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৫৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার ৯৪০ জন।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৫ জন আক্রান্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৫ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৭ হাজার ৮৯০ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিইউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৮৪১ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত, বিপরীতে মারা গেছে ১৭ হাজার ১২৭ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এ ছাড়া স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪২ জন আক্রান্ত, আর ১৪ হাজার ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৬৩ জন আক্রান্ত, ২ হাজার ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৮০২, মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৩ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯, মারা গেছে ১০ হাজার ৩২৮ জন। ইরানে আক্রান্ত ৬২ হাজার ৫৮৯, মারা গেছে ৩ হাজার ৮৭২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৫৫ হাজার ২৪২, মারা গেছে ৬ হাজার ১৫৯ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ২২ হাজার ১৯৪, মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৫ জনের। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ১৯ হাজার ৫৮০, মারা গেছে ২ হাজার ১০১ জন।

এ ছাড়া ভারতে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর প্রাণ গেছে ১৫০ জনের। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫৭ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জন আক্রান্ত হয়েছে বিপরীতে প্রাণ গেছে ১৭ জনের।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলাব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।