ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভারত ওষুধ না দিলে ফল ভালো হবে না: ট্রাম্প

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত এই উপাদানটি উৎপাদন করছে। কিছুদিন আগেও এটি রপ্তানি করলেও এখন বন্ধ রয়েছে। আর তাতেই চটেছেন মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

করোনা মোকাবিলায় ভারত আমেরিকাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন না সরবরাহ করলে তার ফল ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন এই বাদশা।

গত কয়েক দিন ধরেই করোনার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে আমেরিকা। সেখানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই দশ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ পেরিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিক হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা তার উপাদান বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত সরকার। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার কার্যত হুমকি দিয়ে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যদিও, মঙ্গলবার দেশরটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, করোনায় চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্যারাসিটামল ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ করবে ভারত। সেক্ষেত্রে আমেরিকাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেবে কি না তা পরিস্কার নয়। আর তাতেই চটেছেন ট্রাম্প।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হব যদি উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) এই সিদ্ধান্ত নেন, আপনারা জানেন। কারণ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খুব ভাল।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে প্রত্যাঘাত হবে।’

ট্রাম্প এও বলেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্তটা পছন্দ করছি না। এটা ওর সিদ্ধান্ত বলেও শুনিনি। আমি এটা জানি যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি গতকালই তার সঙ্গে কথা বলেছি। দুজনের মধ্যে খুব ভাল আলোচনাও হয়েছে। এটা ওর সিদ্ধান্ত ছিল কি না দেখব। বহু বছর ধরেই ওরা (ভারত) বাণিজ্যক্ষেত্রে আমেরিকার থেকে সুবিধা পেয়েছে।’

রবিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয় মোদীর। সেই প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমি অবাক হব এটা যদি তাঁর সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা আমাকে জানানো উচিত ছিল। আমি তাকে বলেছি, আমরা আপনার প্রশংসা করব, যদি তিনি আমাদের ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।’

এর পরই হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা সরবরাহের অনুমতি না দেন তা হলে ঠিক আছে। তার ফলও ভুগতে হবে।’ করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিযুক্ত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দেয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-ও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভারত ওষুধ না দিলে ফল ভালো হবে না: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত এই উপাদানটি উৎপাদন করছে। কিছুদিন আগেও এটি রপ্তানি করলেও এখন বন্ধ রয়েছে। আর তাতেই চটেছেন মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

করোনা মোকাবিলায় ভারত আমেরিকাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন না সরবরাহ করলে তার ফল ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন এই বাদশা।

গত কয়েক দিন ধরেই করোনার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে আমেরিকা। সেখানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই দশ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ পেরিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিক হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা তার উপাদান বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত সরকার। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সোমবার কার্যত হুমকি দিয়ে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যদিও, মঙ্গলবার দেশরটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, করোনায় চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্যারাসিটামল ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সরবরাহ করবে ভারত। সেক্ষেত্রে আমেরিকাকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেবে কি না তা পরিস্কার নয়। আর তাতেই চটেছেন ট্রাম্প।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হব যদি উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) এই সিদ্ধান্ত নেন, আপনারা জানেন। কারণ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খুব ভাল।’

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে প্রত্যাঘাত হবে।’

ট্রাম্প এও বলেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্তটা পছন্দ করছি না। এটা ওর সিদ্ধান্ত বলেও শুনিনি। আমি এটা জানি যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি গতকালই তার সঙ্গে কথা বলেছি। দুজনের মধ্যে খুব ভাল আলোচনাও হয়েছে। এটা ওর সিদ্ধান্ত ছিল কি না দেখব। বহু বছর ধরেই ওরা (ভারত) বাণিজ্যক্ষেত্রে আমেরিকার থেকে সুবিধা পেয়েছে।’

রবিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয় মোদীর। সেই প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমি অবাক হব এটা যদি তাঁর সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা আমাকে জানানো উচিত ছিল। আমি তাকে বলেছি, আমরা আপনার প্রশংসা করব, যদি তিনি আমাদের ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।’

এর পরই হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা সরবরাহের অনুমতি না দেন তা হলে ঠিক আছে। তার ফলও ভুগতে হবে।’ করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিযুক্ত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দেয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-ও।