ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন ভেবেছিলাম সবাই খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু এতো মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’: ট্রাম্প কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ : ঢাবি উপাচার্য এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের গৌরবের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোগান সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি ৪ নির্দেশনা দিয়ে করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর

শ্রীলংকায় যেভাবে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের দিনে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ভিডিও ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। গত এক সপ্তাহে সিসিটিভির কয়েকটিও ভিডিও ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।

সিসিটিভির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন হামলাকারী তার পিঠে একটি বড় রুকস্যাক নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে কীভাবে নিগোম্বো শহরের সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জার ভেতরে গিয়ে ঢুকেছে। ওই সময় গির্জায় তখন ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

দেখা যায়, হেঁটে আসার সময় গির্জার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শিশুকে আদর করেন হামলাকারী। এরপর গির্জার বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে গির্জার ভেতরে ঢুকে মোটামুটি সামনের একটি আসনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই গির্জাতেই নিহত হয় প্রায় ১০০ বেশি মানুষ।

এছাড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলে নাশতা করছিল অনেক মানুষ। সেই হোটেলের আশপাশে একজন হামলাকারী ঘোরাঘুরি করছে। তার পিঠেও ছিল একটি রুকস্যাক জাতীয় ব্যাগ।

ওই হোটেলের বেঁচে যাওয়া ম্যানেজার রোহান কর বলেন, হামলার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ওই বোমারু তাদের হোটেলে চেক-ইন করেছিল।

তিনি জানান, সে যখন হোটেলে আসে তখন তাকে এক গ্লাস পানীয় দিয়েও স্বাগত জানানো হয়েছিল। সেটা পান করে সে তার রুমে চলে গিয়েছিল। এরপর হামলার দিন সকালে সে নিচে নেমে আসে। তার পিঠে একটা ব্যাগ ছিল।

রোহান কর বলেন, তারপর সে হোটেলের রেস্টুরেন্টে চলে যায় যেখানে লোকজন সকালের নাশতা করছিল। যাতে একেবারে মাঝখানের একটি টেবিলে বসতে পারে সেটাও সে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিল।

তিনি আরও জানান, যে সে সময় সে তার পিঠে রুকসাক নিয়ে ঘুরঘুর করছিল। তার আশপাশের প্রায় সবকটি টেবিলেই লোকজনকে তখন সকালের নাশতা করতে দেখা যায়। আমরা কখনও ভাবিনি এই সেই লোক যে আমাদেরকে মারতে এসেছে।

রোহান কর বলেন, সে টেবিলে বসল, খাওয়াদাওয়া করল। লোকজন বুফেতে আসার জন্যে সে অপেক্ষা করছিল। যখন সে দেখলো রেস্তোরাঁটি লোকজনে ভরে গেছে তখনই সে বিস্ফোরণ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে সে যতবেশি সম্ভব লোকজনকে হতাহত করতে পারে।

প্রসঙ্গত গত রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ৩২১ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

নিহতদের মধ্যে ৩১ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এই প্রাণঘাতী হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রীলংকান। দেশটির বহু সংখ্যালঘু খ্রিস্টান এতে হতাহত হয়েছেন।

হতাহতদের মধ্যে ৮ ভারতীয়, ৩ ডেনমার্কের নাগরিক, ২ স্প্যানিশ, ২ অস্ট্রেলিয়ান, ২ চীনা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও অন্তত চার আমেরিকান নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দুই নাগরিকও এ হামলায় নিহত হয়েছেন।

এছাড়াও নিহতের তালিকায় নেদারল্যান্ডস, জাপান, পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন। ওই হামলা ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী।

আহত হয়ে শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। মঙ্গলবার আইএসের মুখপাত্র আমাক থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন

শ্রীলংকায় যেভাবে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা

আপডেট সময় ০৭:২০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের দিনে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ভিডিও ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। গত এক সপ্তাহে সিসিটিভির কয়েকটিও ভিডিও ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।

সিসিটিভির একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন হামলাকারী তার পিঠে একটি বড় রুকস্যাক নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে কীভাবে নিগোম্বো শহরের সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জার ভেতরে গিয়ে ঢুকেছে। ওই সময় গির্জায় তখন ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

দেখা যায়, হেঁটে আসার সময় গির্জার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শিশুকে আদর করেন হামলাকারী। এরপর গির্জার বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে গির্জার ভেতরে ঢুকে মোটামুটি সামনের একটি আসনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই গির্জাতেই নিহত হয় প্রায় ১০০ বেশি মানুষ।

এছাড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলে নাশতা করছিল অনেক মানুষ। সেই হোটেলের আশপাশে একজন হামলাকারী ঘোরাঘুরি করছে। তার পিঠেও ছিল একটি রুকস্যাক জাতীয় ব্যাগ।

ওই হোটেলের বেঁচে যাওয়া ম্যানেজার রোহান কর বলেন, হামলার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ওই বোমারু তাদের হোটেলে চেক-ইন করেছিল।

তিনি জানান, সে যখন হোটেলে আসে তখন তাকে এক গ্লাস পানীয় দিয়েও স্বাগত জানানো হয়েছিল। সেটা পান করে সে তার রুমে চলে গিয়েছিল। এরপর হামলার দিন সকালে সে নিচে নেমে আসে। তার পিঠে একটা ব্যাগ ছিল।

রোহান কর বলেন, তারপর সে হোটেলের রেস্টুরেন্টে চলে যায় যেখানে লোকজন সকালের নাশতা করছিল। যাতে একেবারে মাঝখানের একটি টেবিলে বসতে পারে সেটাও সে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিল।

তিনি আরও জানান, যে সে সময় সে তার পিঠে রুকসাক নিয়ে ঘুরঘুর করছিল। তার আশপাশের প্রায় সবকটি টেবিলেই লোকজনকে তখন সকালের নাশতা করতে দেখা যায়। আমরা কখনও ভাবিনি এই সেই লোক যে আমাদেরকে মারতে এসেছে।

রোহান কর বলেন, সে টেবিলে বসল, খাওয়াদাওয়া করল। লোকজন বুফেতে আসার জন্যে সে অপেক্ষা করছিল। যখন সে দেখলো রেস্তোরাঁটি লোকজনে ভরে গেছে তখনই সে বিস্ফোরণ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে সে যতবেশি সম্ভব লোকজনকে হতাহত করতে পারে।

প্রসঙ্গত গত রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ৩২১ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক।

নিহতদের মধ্যে ৩১ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এই প্রাণঘাতী হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রীলংকান। দেশটির বহু সংখ্যালঘু খ্রিস্টান এতে হতাহত হয়েছেন।

হতাহতদের মধ্যে ৮ ভারতীয়, ৩ ডেনমার্কের নাগরিক, ২ স্প্যানিশ, ২ অস্ট্রেলিয়ান, ২ চীনা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও অন্তত চার আমেরিকান নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সুইজারল্যান্ডের দুই নাগরিকও এ হামলায় নিহত হয়েছেন।

এছাড়াও নিহতের তালিকায় নেদারল্যান্ডস, জাপান, পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন। ওই হামলা ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী।

আহত হয়ে শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স কলম্বোর একটি হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। মঙ্গলবার আইএসের মুখপাত্র আমাক থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়।