ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী

লাইফ সাপোর্টে চিত্রপরিচালক আমজাদ হোসেন

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন। রোববার সকালে নিজের বাসভবনে তিনি ব্রেনস্ট্রোক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।

অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। ইমপালস হাসপাতালে ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের তত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

তার ছেলে নির্মাতা-অভিনেতা সোহেল আরমান বলেন, আজ সকালে আমি যখন বুঝতে পারি আব্বা হাত পা নাড়তে পারছেন না, তখনই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। ডাক্তার তখন জানালেন আব্বা ব্রেনস্ট্রোক করেছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। যে কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে লাখা হয়েছে, যাতে সুনিবিড় চিকিৎসা হয়।

বাবার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন আমার আব্বাকে আল্লাহ সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। সন্তান হিসেবে আমার চেষ্টার কোন ত্রুটিই করছিনা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। বার্ধ্যক্যজনিত রোগও আছে। তবে এখনই তারা কিছু বলতে পারছেন না। যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এজন্য লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, জামালপুরে। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন।

যাত্রার শুরুটা ছিল মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে।

আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর তিনি জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন।

এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। নাম ‘জুলেখা’। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।

১৯৮১ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত পালন করেন আমজাদ হোসেন। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের

লাইফ সাপোর্টে চিত্রপরিচালক আমজাদ হোসেন

আপডেট সময় ১১:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন। রোববার সকালে নিজের বাসভবনে তিনি ব্রেনস্ট্রোক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।

অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। ইমপালস হাসপাতালে ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের তত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

তার ছেলে নির্মাতা-অভিনেতা সোহেল আরমান বলেন, আজ সকালে আমি যখন বুঝতে পারি আব্বা হাত পা নাড়তে পারছেন না, তখনই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। ডাক্তার তখন জানালেন আব্বা ব্রেনস্ট্রোক করেছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। যে কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে লাখা হয়েছে, যাতে সুনিবিড় চিকিৎসা হয়।

বাবার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন আমার আব্বাকে আল্লাহ সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। সন্তান হিসেবে আমার চেষ্টার কোন ত্রুটিই করছিনা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। বার্ধ্যক্যজনিত রোগও আছে। তবে এখনই তারা কিছু বলতে পারছেন না। যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এজন্য লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট, জামালপুরে। শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন।

যাত্রার শুরুটা ছিল মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে।

আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর তিনি জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন।

এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। নাম ‘জুলেখা’। তার পরিচালিত ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।

১৯৮১ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত পালন করেন আমজাদ হোসেন। গুণী এই পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।