ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু

ফাঁদের নাম ৫৭ ধারা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আমি অতি নগণ্য এক স্কুলমাস্টার। আমার নাম আবদুল কাদের। মানুষে বলে কাদের মাস্টার। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। অতি ছোট চাকরি। কিন্তু লিখিতে হয় রাঘব বোয়ালদের নিয়া। অফিস আমাকে বলিয়া দিয়াছে, ‘ভাই, যাহা লিখিবা সত্য লিখিবা। মিথ্যামিথ্যি কিছু লিখিবা না। ’

অফিসের নির্দেশ পালন করিতে গিয়া আমি নাকি মহা সর্বনাশ করিয়া ফেলিয়াছি। আমি আমার এলাকার সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট লিখিয়া তাঁহার মান-সম্মান ধুলায় মিশাইয়া দিয়াছি। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য।
তাঁহার নাম বলা নিষেধ। কারণ তিনি বিরাট ক্ষমতার অধিকারী। নাম বলিলেই হয়তো তিনি আমার জান কবজ করিয়া ফেলিতে পারেন। তিনি বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হইয়াছেন। এখনকার জমানায় নির্বাচনে জিততে হইলে কয়েক কোটি টাকা খরচ করিতে হয়। কিন্তু আমার এলাকার এমপি সাহেবের একটি কানাকড়িও খরচ হয় নাই।

ইতিমধ্যে সাড়ে তিন বছর গত হইয়াছে। ইহার মধ্যেই তিনি কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হইয়া গিয়াছেন। এলাকার উন্নয়নের নামে তিনি নিজের উন্নয়ন করিয়াছেন। শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের চাকুরি দেওয়ার নাম করিয়া তিনি দশ-বারো লাখ টাকা করিয়া ঘুষ নিয়াছেন। কিন্তু কারো চাকুরি দিতে পারেন নাই। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁহার কোনো সম্পর্ক নাই। তিনি কিছু চামচা জোগাড় করিয়াছেন। তাহাদের কথায় তিনি কিংবা তাঁহার কথায় চামচারা উঠবোস করেন।

এমপি সাহেবের কর্মকাণ্ড দেখিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হইয়া পড়িয়াছে। কিন্তু তাঁহাদের কিছুই করিবার নাই। কিছু করিতে গেলেই তাঁহারা সংসদ সদস্যের রোষানলে পড়েন। তাই তাঁহারা দেখিয়াও দেখেন না। শুনিয়াও শোনেন না। অসহায় মানুষগুলোর বুক ফাটে, তবু মুখ ফোটে না।

আমি সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত। আমার কিছুটা সাহস আছে। আমি সত্ভাবে জীবন যাপন করি। তাই আমি হাত খুলিয়া লিখিতে পারি। কথাও বলিতে পারি। আমি সাহস করিয়া একদিন এমপি সাহেবকে বলিলাম, এমপি সাহেব, আপনার বিরুদ্ধে তো বিস্তর অভিযোগ আসিতেছে। অনেকে কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ দিতেছে। এই সব দেখিয়া আমরা তো আর চুপ করিয়া থাকিতে পারি না!

এমপি সাহেব চোখ তেরছা করিয়া আমার দিকে তাকাইলেন। তাহার পর বলিলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করিয়ো না ভাতিজা! বাড়াবাড়ির ফল কিন্তু ভালো হইবে না।

আমি বলিলাম, আমি কী বাড়াবাড়ি করিয়াছি? যাহা সত্য তাহাই তো বলিয়াছি!

এমপি সাহেব রাগিয়া গিয়াছেন। তাঁহার চোখ দুইটা লাল হইয়া গেল। তিনি একদৃষ্টে আমার দিকে তাকাইয়া বলিলেন, কোনটা সত্য বলিয়া ফালাও! মিথ্যা হইলে কিন্তু এলাকাছাড়া করিব?

এমপি সাহেবের হম্বিতম্বি দেখিয়া আমি আর কিছু বলিতে সাহস পাইলাম না। আমি শুধু বলিলাম, স্যরি এমপি সাহেব। মানুষে এই কথা, সেই কথা বলে! তাই বলিলাম।

এমপি সাহেব এইবার শাহাদাত আঙুল খাড়া করিয়া এবং চোখ রাঙাইয়া বলিলেন—শোনো ভাজিতা, চিন্তাভাবনা করিয়া কথা বলিবা। তাহা না হইলে কিন্তু এলাকায় থাকিতে পারিবা না।

আমি অবাক বিস্ময়ে চাহিয়া রহিলাম। এমপি সাহেব হনহন করিয়া চলিয়া গেলেন। এমপি সাহেবের শাসানি খাওয়ার পর কী করিব কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। টানা দুই দিন ধরিয়া শাসানি হজম করিবার চেষ্টা করিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে থাকল এমপি সাহেবের চেলা-চামুণ্ডারা। তাহারা এমনও হুমকি দিতে থাকিল, যদি এরপর আমি কিছু লিখি, তাহা হইলে আমার হাত কাটিয়া হাতে ধরাইয়া দিবে।

আমি বিবেকের কাছে প্রশ্ন করিলাম, এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত? নাকি চুপ করিয়া সহ্য করা উচিত?

আমার বিবেক বলিল, প্রতিবাদ করা উচিত।

আমি প্রতিবাদস্বরূপ একটি প্রতিবেদন লিখিলাম। সেই সাথে অনেক তথ্য-উপাত্ত হাজির করিলাম। সেইগুলিসহ পত্রিকা অফিসে পাঠাইয়া দিলাম। পরদিন পত্রিকায় ফলাও করিয়া প্রকাশ করিল। সর্বত্র আলোচনা হইল। আমার কাছে খবর আসিল, এমপি সাহেব এবং তাঁহার চেলারা আমাকে তন্নতন্ন করিয়া খুঁজিতেছেন। আমাকে পাইলে কিমা করিয়া সবাই মিলিয়া ভক্ষণ করিবেন।

আমি ভয়ে গাঢাকা দিলাম। আমার মা-বাবা এলাকা ছাড়িয়া আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে এবং আমার স্ত্রী তাহার বাপের বাড়িতে চলিয়া গেলেন। আমি এখানে-ওখানে পলাইয়া থাকি। আমার নিরাপত্তাহীনতার কথা পত্রিকা অফিসে জানাই। তাহারা ঢাকায় বসিয়া কী করিয়া আমার নিরাপত্তা দিবে! তাহারা সাবধানে থাকিতে বলিল। কিন্তু এলাকায় কত দিন আর গাঢাকা দিয়া থাকা যায়!

একদিন এমপি সাহেবের চেলারা আমাকে পাইয়া আচ্ছামতো ধোলাই দিয়া নদীর কিনারে ফালাই রাখিল। আমার করুণ অবস্থা দেখিয়া সহকর্মী শিক্ষকরা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করাইলেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাহারা লক্ষ করিলেন, আমার ডান হাতটা ভাঙিয়া গিয়াছে। সবাই মিলিয়া আমাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাইলেন। এক মাসের বেশি সময় ধরিয়া আমার চিকিৎসা চলিল। আমার ভাঙা হাত জোড়া লাগিল। আমি আবার এলাকায় গেলাম। এলাকায় গিয়া শুনি, আমার নামে এমপি সাহেব ৫৭ ধারায় মামলা করিয়াছেন।

সেই মামলায় আটক করিবার জন্য আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসিল। অনেক দিনের চেনাজানা এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরাইয়া বলিলেন, সাংবাদিক ভাই! সব সময় তো বলেন পুলিশ খারাপ! এবার বুঝিলেন তো কে খারাপ!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে শপিংমলে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

ফাঁদের নাম ৫৭ ধারা

আপডেট সময় ০৬:২৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আমি অতি নগণ্য এক স্কুলমাস্টার। আমার নাম আবদুল কাদের। মানুষে বলে কাদের মাস্টার। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। অতি ছোট চাকরি। কিন্তু লিখিতে হয় রাঘব বোয়ালদের নিয়া। অফিস আমাকে বলিয়া দিয়াছে, ‘ভাই, যাহা লিখিবা সত্য লিখিবা। মিথ্যামিথ্যি কিছু লিখিবা না। ’

অফিসের নির্দেশ পালন করিতে গিয়া আমি নাকি মহা সর্বনাশ করিয়া ফেলিয়াছি। আমি আমার এলাকার সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির রিপোর্ট লিখিয়া তাঁহার মান-সম্মান ধুলায় মিশাইয়া দিয়াছি। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য।
তাঁহার নাম বলা নিষেধ। কারণ তিনি বিরাট ক্ষমতার অধিকারী। নাম বলিলেই হয়তো তিনি আমার জান কবজ করিয়া ফেলিতে পারেন। তিনি বিগত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হইয়াছেন। এখনকার জমানায় নির্বাচনে জিততে হইলে কয়েক কোটি টাকা খরচ করিতে হয়। কিন্তু আমার এলাকার এমপি সাহেবের একটি কানাকড়িও খরচ হয় নাই।

ইতিমধ্যে সাড়ে তিন বছর গত হইয়াছে। ইহার মধ্যেই তিনি কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হইয়া গিয়াছেন। এলাকার উন্নয়নের নামে তিনি নিজের উন্নয়ন করিয়াছেন। শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের চাকুরি দেওয়ার নাম করিয়া তিনি দশ-বারো লাখ টাকা করিয়া ঘুষ নিয়াছেন। কিন্তু কারো চাকুরি দিতে পারেন নাই। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁহার কোনো সম্পর্ক নাই। তিনি কিছু চামচা জোগাড় করিয়াছেন। তাহাদের কথায় তিনি কিংবা তাঁহার কথায় চামচারা উঠবোস করেন।

এমপি সাহেবের কর্মকাণ্ড দেখিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হইয়া পড়িয়াছে। কিন্তু তাঁহাদের কিছুই করিবার নাই। কিছু করিতে গেলেই তাঁহারা সংসদ সদস্যের রোষানলে পড়েন। তাই তাঁহারা দেখিয়াও দেখেন না। শুনিয়াও শোনেন না। অসহায় মানুষগুলোর বুক ফাটে, তবু মুখ ফোটে না।

আমি সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত। আমার কিছুটা সাহস আছে। আমি সত্ভাবে জীবন যাপন করি। তাই আমি হাত খুলিয়া লিখিতে পারি। কথাও বলিতে পারি। আমি সাহস করিয়া একদিন এমপি সাহেবকে বলিলাম, এমপি সাহেব, আপনার বিরুদ্ধে তো বিস্তর অভিযোগ আসিতেছে। অনেকে কাগজপত্র, তথ্য-প্রমাণ দিতেছে। এই সব দেখিয়া আমরা তো আর চুপ করিয়া থাকিতে পারি না!

এমপি সাহেব চোখ তেরছা করিয়া আমার দিকে তাকাইলেন। তাহার পর বলিলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করিয়ো না ভাতিজা! বাড়াবাড়ির ফল কিন্তু ভালো হইবে না।

আমি বলিলাম, আমি কী বাড়াবাড়ি করিয়াছি? যাহা সত্য তাহাই তো বলিয়াছি!

এমপি সাহেব রাগিয়া গিয়াছেন। তাঁহার চোখ দুইটা লাল হইয়া গেল। তিনি একদৃষ্টে আমার দিকে তাকাইয়া বলিলেন, কোনটা সত্য বলিয়া ফালাও! মিথ্যা হইলে কিন্তু এলাকাছাড়া করিব?

এমপি সাহেবের হম্বিতম্বি দেখিয়া আমি আর কিছু বলিতে সাহস পাইলাম না। আমি শুধু বলিলাম, স্যরি এমপি সাহেব। মানুষে এই কথা, সেই কথা বলে! তাই বলিলাম।

এমপি সাহেব এইবার শাহাদাত আঙুল খাড়া করিয়া এবং চোখ রাঙাইয়া বলিলেন—শোনো ভাজিতা, চিন্তাভাবনা করিয়া কথা বলিবা। তাহা না হইলে কিন্তু এলাকায় থাকিতে পারিবা না।

আমি অবাক বিস্ময়ে চাহিয়া রহিলাম। এমপি সাহেব হনহন করিয়া চলিয়া গেলেন। এমপি সাহেবের শাসানি খাওয়ার পর কী করিব কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। টানা দুই দিন ধরিয়া শাসানি হজম করিবার চেষ্টা করিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে থাকল এমপি সাহেবের চেলা-চামুণ্ডারা। তাহারা এমনও হুমকি দিতে থাকিল, যদি এরপর আমি কিছু লিখি, তাহা হইলে আমার হাত কাটিয়া হাতে ধরাইয়া দিবে।

আমি বিবেকের কাছে প্রশ্ন করিলাম, এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত? নাকি চুপ করিয়া সহ্য করা উচিত?

আমার বিবেক বলিল, প্রতিবাদ করা উচিত।

আমি প্রতিবাদস্বরূপ একটি প্রতিবেদন লিখিলাম। সেই সাথে অনেক তথ্য-উপাত্ত হাজির করিলাম। সেইগুলিসহ পত্রিকা অফিসে পাঠাইয়া দিলাম। পরদিন পত্রিকায় ফলাও করিয়া প্রকাশ করিল। সর্বত্র আলোচনা হইল। আমার কাছে খবর আসিল, এমপি সাহেব এবং তাঁহার চেলারা আমাকে তন্নতন্ন করিয়া খুঁজিতেছেন। আমাকে পাইলে কিমা করিয়া সবাই মিলিয়া ভক্ষণ করিবেন।

আমি ভয়ে গাঢাকা দিলাম। আমার মা-বাবা এলাকা ছাড়িয়া আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে এবং আমার স্ত্রী তাহার বাপের বাড়িতে চলিয়া গেলেন। আমি এখানে-ওখানে পলাইয়া থাকি। আমার নিরাপত্তাহীনতার কথা পত্রিকা অফিসে জানাই। তাহারা ঢাকায় বসিয়া কী করিয়া আমার নিরাপত্তা দিবে! তাহারা সাবধানে থাকিতে বলিল। কিন্তু এলাকায় কত দিন আর গাঢাকা দিয়া থাকা যায়!

একদিন এমপি সাহেবের চেলারা আমাকে পাইয়া আচ্ছামতো ধোলাই দিয়া নদীর কিনারে ফালাই রাখিল। আমার করুণ অবস্থা দেখিয়া সহকর্মী শিক্ষকরা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করাইলেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাহারা লক্ষ করিলেন, আমার ডান হাতটা ভাঙিয়া গিয়াছে। সবাই মিলিয়া আমাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাইলেন। এক মাসের বেশি সময় ধরিয়া আমার চিকিৎসা চলিল। আমার ভাঙা হাত জোড়া লাগিল। আমি আবার এলাকায় গেলাম। এলাকায় গিয়া শুনি, আমার নামে এমপি সাহেব ৫৭ ধারায় মামলা করিয়াছেন।

সেই মামলায় আটক করিবার জন্য আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসিল। অনেক দিনের চেনাজানা এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরাইয়া বলিলেন, সাংবাদিক ভাই! সব সময় তো বলেন পুলিশ খারাপ! এবার বুঝিলেন তো কে খারাপ!