ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করুন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পা ভাঙ্গা অথচ হুইল চেয়ারে বসে চা বিক্রি করেন কিংবা অটোরিকশা চালান, মহিলা হয়েও চলন্ত বাসে চকলেট বিক্রি করেন, অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, আশি বছরের বৃদ্ধ হয়েও ভিক্ষা না করে কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন- এমন মানুষদের দেখলে মনে শ্রদ্ধা জাগে। হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাদের প্রতি।

অন্যদিকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, দোকান, রেস্টুরেন্ট, বাজারের সামনে যেখানে মানুষের চলাচল বেশি- সেসব স্থানে দেখা যায় ভিক্ষার থলি হাতে একদল ভিক্ষুককে। তাদের অনেকের কাজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ করে না। এর কারণ ভিক্ষা আজকাল বৃত্তি নয়, ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

কারও দুঃখ-কষ্ট দেখলে স্বভাবতই আমরা ব্যথিত হই। আর এটাকেই কাজে লাগায় অনেকে। এমনকি খোঁজ নিলে তাদের সংগঠনও পাওয়া যাবে। ভিক্ষুক বা ভিক্ষা ব্যবসায়ীরা সারাদিন যে টাকা বসে বসে পায়, তা সংগঠনের প্রধানকে দিতে হয় এবং সে ওই টাকা থেকে ভিক্ষুকদের দৈনিক কিংবা মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে ‘বেতন’ দিয়ে থাকে।

এই ভিক্ষুকরা মানুষের মনে দয়ার উদ্রেক ঘটাতে- আমার কোমরের হাড় ভাঙা, মৃগী ব্যারাম, বাড়িঘর সব পুড়ে গেছে কিংবা নদীতে ভেসে গেছে, টাকার অভাবে যুবতী মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না, মায়ের চিকিৎসা করাতে প্রতিদিন ৫০৩ টাকার ওষুধ লাগে, মায়ের অপারেশন ইত্যাদি বলে সাহায্য প্রার্থনা করে।

ভিক্ষুকদের ‘সাইনবোর্ডে’ এ কথাগুলো দেখলে কার না দয়া হয়? নয়জন এড়িয়ে গেলেও একজনের কাছ থেকে তারা ঠিকই ভিক্ষা পায়। আর এভাবে প্রতিদিন তারা গড়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় করে কোনো কাজকর্ম ছাড়া।

তাই আমাদের ভিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। শারীরিক সমস্যা, মানসিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা মানুষের থাকে। উঁচু-নীচুর ভেদাভেদও সমাজে থাকে। কিন্তু যাদের কোনো সমস্যা নেই তারা এভাবে প্রতারণা করার অধিকার রাখে না। এমনও অনেক ভিক্ষুক আছে যারা দিনের বেলা ভিক্ষা করে আর রাতের বেলা দামি সিগারেট কিনে ধূমপান করে।

এ ক্ষেত্রে তারা ধর্মকেও ব্যবহার করে। দাড়ি, টুপি, বোরকা যেন তাদের ‘ইউনিফর্ম’। অথচ ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি পাপ। ইসলাম কাজ করে খেতে বলে। এমনকি আমরা জানি, এক ব্যক্তির সম্বল হিসেবে শুধু একটি কম্বল ছিল, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাও তাকে বিক্রি করতে বলেছিলেন এবং বিক্রীত অর্থ দিয়ে কুঠার কিনে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের জন্য বলেছিলেন।

তাই আশা করি পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। শুধু ‘ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা’ লিখে সাইনবোর্ড কিংবা ব্যানার টাঙালে হবে না, যারা কাজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ না করে ফায়দা লুটে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর আমাদেরও ভিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। শারীরিক বা মানসিক সমস্যা (একেবারে অসচ্ছল) ছাড়া কাউকে এরপর থেকে ভিক্ষা দেবেন না। অন্য কোনো সমস্যা থাকলে বিস্তারিত জেনে তারপর ভিক্ষা দেবেন। এর মাধ্যমে আমরা ভিক্ষা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে পারব।

মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ইলিয়াস : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করুন

আপডেট সময় ১২:৩২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পা ভাঙ্গা অথচ হুইল চেয়ারে বসে চা বিক্রি করেন কিংবা অটোরিকশা চালান, মহিলা হয়েও চলন্ত বাসে চকলেট বিক্রি করেন, অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, আশি বছরের বৃদ্ধ হয়েও ভিক্ষা না করে কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন- এমন মানুষদের দেখলে মনে শ্রদ্ধা জাগে। হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাদের প্রতি।

অন্যদিকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, দোকান, রেস্টুরেন্ট, বাজারের সামনে যেখানে মানুষের চলাচল বেশি- সেসব স্থানে দেখা যায় ভিক্ষার থলি হাতে একদল ভিক্ষুককে। তাদের অনেকের কাজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ করে না। এর কারণ ভিক্ষা আজকাল বৃত্তি নয়, ব্যবসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

কারও দুঃখ-কষ্ট দেখলে স্বভাবতই আমরা ব্যথিত হই। আর এটাকেই কাজে লাগায় অনেকে। এমনকি খোঁজ নিলে তাদের সংগঠনও পাওয়া যাবে। ভিক্ষুক বা ভিক্ষা ব্যবসায়ীরা সারাদিন যে টাকা বসে বসে পায়, তা সংগঠনের প্রধানকে দিতে হয় এবং সে ওই টাকা থেকে ভিক্ষুকদের দৈনিক কিংবা মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে ‘বেতন’ দিয়ে থাকে।

এই ভিক্ষুকরা মানুষের মনে দয়ার উদ্রেক ঘটাতে- আমার কোমরের হাড় ভাঙা, মৃগী ব্যারাম, বাড়িঘর সব পুড়ে গেছে কিংবা নদীতে ভেসে গেছে, টাকার অভাবে যুবতী মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না, মায়ের চিকিৎসা করাতে প্রতিদিন ৫০৩ টাকার ওষুধ লাগে, মায়ের অপারেশন ইত্যাদি বলে সাহায্য প্রার্থনা করে।

ভিক্ষুকদের ‘সাইনবোর্ডে’ এ কথাগুলো দেখলে কার না দয়া হয়? নয়জন এড়িয়ে গেলেও একজনের কাছ থেকে তারা ঠিকই ভিক্ষা পায়। আর এভাবে প্রতিদিন তারা গড়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় করে কোনো কাজকর্ম ছাড়া।

তাই আমাদের ভিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। শারীরিক সমস্যা, মানসিক সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা মানুষের থাকে। উঁচু-নীচুর ভেদাভেদও সমাজে থাকে। কিন্তু যাদের কোনো সমস্যা নেই তারা এভাবে প্রতারণা করার অধিকার রাখে না। এমনও অনেক ভিক্ষুক আছে যারা দিনের বেলা ভিক্ষা করে আর রাতের বেলা দামি সিগারেট কিনে ধূমপান করে।

এ ক্ষেত্রে তারা ধর্মকেও ব্যবহার করে। দাড়ি, টুপি, বোরকা যেন তাদের ‘ইউনিফর্ম’। অথচ ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তি পাপ। ইসলাম কাজ করে খেতে বলে। এমনকি আমরা জানি, এক ব্যক্তির সম্বল হিসেবে শুধু একটি কম্বল ছিল, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাও তাকে বিক্রি করতে বলেছিলেন এবং বিক্রীত অর্থ দিয়ে কুঠার কিনে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের জন্য বলেছিলেন।

তাই আশা করি পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। শুধু ‘ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা’ লিখে সাইনবোর্ড কিংবা ব্যানার টাঙালে হবে না, যারা কাজ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ না করে ফায়দা লুটে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর আমাদেরও ভিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। শারীরিক বা মানসিক সমস্যা (একেবারে অসচ্ছল) ছাড়া কাউকে এরপর থেকে ভিক্ষা দেবেন না। অন্য কোনো সমস্যা থাকলে বিস্তারিত জেনে তারপর ভিক্ষা দেবেন। এর মাধ্যমে আমরা ভিক্ষা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে পারব।

মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ ইলিয়াস : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়