ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

যমুনায় বিলীনের পথে দুটি গ্রাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অব্যাহত রয়েছে সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙন। গত ১২ দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়তই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। যাদের অন্যত্র জমি আছে তারা নিজ জমিতে ঘরবাড়ি পাতলেও রাস্তার পাড়ে ঠাই নিচ্ছেন ভূমিহীনরা।

অনেকে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন খোলা আকাশে। আর শীত জেকে বসায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে চিথুলিয়া ও তারটিয়া এই দুইটি গ্রাম বিলীনের পথে। ভাঙনের তীব্রতা এতোই বেশি যে প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে নিজের বসতবাড়ি ভিটেমাটি সব হারাচ্ছেন এখানকার মানুষ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গালা ইউনিয়নের চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামে যমুনার পানির ¯্রােতে এলাকার অনেকাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।

এ এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান হুমকির মূখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো যমুনার তাড়া খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ প্রতিবেশির বাড়িতে এবং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, আশ্রয় কোনটিই মিলছে না তাদের। শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে এখানকার কোমলমতি শিশুরা।

ভাঙন কবলিত এ এলাকার মানুষ আনোয়ার হোসেন, জহুরুল শেখ ও কৃষক রমজান জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে আমাদের দুইগ্রামের দুইশ থেকে আড়াইশ ঘরের ভিটে নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই এ দুটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যমুনার ভাঙন রোধ করে আমাদের এই গ্রামগুলোকে রক্ষা করা। ভাঙন কবলিত মানুষগুলোকে পুৃনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, গত কয়েকদিন দিনের ভাঙনে গালা ইউনিয়নে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কে কোথায় আছে কেউ তা জানে না।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, গালা ইউনিয়নের ভাঙন সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি যমুনায় ভেঙে গেছে তাদের সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

যমুনায় বিলীনের পথে দুটি গ্রাম

আপডেট সময় ০২:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অব্যাহত রয়েছে সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙন। গত ১২ দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়তই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। যাদের অন্যত্র জমি আছে তারা নিজ জমিতে ঘরবাড়ি পাতলেও রাস্তার পাড়ে ঠাই নিচ্ছেন ভূমিহীনরা।

অনেকে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন খোলা আকাশে। আর শীত জেকে বসায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে চিথুলিয়া ও তারটিয়া এই দুইটি গ্রাম বিলীনের পথে। ভাঙনের তীব্রতা এতোই বেশি যে প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে নিজের বসতবাড়ি ভিটেমাটি সব হারাচ্ছেন এখানকার মানুষ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গালা ইউনিয়নের চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামে যমুনার পানির ¯্রােতে এলাকার অনেকাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।

এ এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান হুমকির মূখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো যমুনার তাড়া খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ প্রতিবেশির বাড়িতে এবং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, আশ্রয় কোনটিই মিলছে না তাদের। শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে এখানকার কোমলমতি শিশুরা।

ভাঙন কবলিত এ এলাকার মানুষ আনোয়ার হোসেন, জহুরুল শেখ ও কৃষক রমজান জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে আমাদের দুইগ্রামের দুইশ থেকে আড়াইশ ঘরের ভিটে নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই এ দুটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যমুনার ভাঙন রোধ করে আমাদের এই গ্রামগুলোকে রক্ষা করা। ভাঙন কবলিত মানুষগুলোকে পুৃনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, গত কয়েকদিন দিনের ভাঙনে গালা ইউনিয়নে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কে কোথায় আছে কেউ তা জানে না।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, গালা ইউনিয়নের ভাঙন সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি যমুনায় ভেঙে গেছে তাদের সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।