ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যমুনায় বিলীনের পথে দুটি গ্রাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অব্যাহত রয়েছে সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙন। গত ১২ দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়তই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। যাদের অন্যত্র জমি আছে তারা নিজ জমিতে ঘরবাড়ি পাতলেও রাস্তার পাড়ে ঠাই নিচ্ছেন ভূমিহীনরা।

অনেকে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন খোলা আকাশে। আর শীত জেকে বসায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে চিথুলিয়া ও তারটিয়া এই দুইটি গ্রাম বিলীনের পথে। ভাঙনের তীব্রতা এতোই বেশি যে প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে নিজের বসতবাড়ি ভিটেমাটি সব হারাচ্ছেন এখানকার মানুষ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গালা ইউনিয়নের চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামে যমুনার পানির ¯্রােতে এলাকার অনেকাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।

এ এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান হুমকির মূখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো যমুনার তাড়া খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ প্রতিবেশির বাড়িতে এবং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, আশ্রয় কোনটিই মিলছে না তাদের। শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে এখানকার কোমলমতি শিশুরা।

ভাঙন কবলিত এ এলাকার মানুষ আনোয়ার হোসেন, জহুরুল শেখ ও কৃষক রমজান জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে আমাদের দুইগ্রামের দুইশ থেকে আড়াইশ ঘরের ভিটে নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই এ দুটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যমুনার ভাঙন রোধ করে আমাদের এই গ্রামগুলোকে রক্ষা করা। ভাঙন কবলিত মানুষগুলোকে পুৃনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, গত কয়েকদিন দিনের ভাঙনে গালা ইউনিয়নে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কে কোথায় আছে কেউ তা জানে না।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, গালা ইউনিয়নের ভাঙন সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি যমুনায় ভেঙে গেছে তাদের সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যমুনায় বিলীনের পথে দুটি গ্রাম

আপডেট সময় ০২:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অব্যাহত রয়েছে সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙন। গত ১২ দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়তই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। যাদের অন্যত্র জমি আছে তারা নিজ জমিতে ঘরবাড়ি পাতলেও রাস্তার পাড়ে ঠাই নিচ্ছেন ভূমিহীনরা।

অনেকে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন খোলা আকাশে। আর শীত জেকে বসায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনে চিথুলিয়া ও তারটিয়া এই দুইটি গ্রাম বিলীনের পথে। ভাঙনের তীব্রতা এতোই বেশি যে প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। এতে নিজের বসতবাড়ি ভিটেমাটি সব হারাচ্ছেন এখানকার মানুষ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার গালা ইউনিয়নের চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামে যমুনার পানির ¯্রােতে এলাকার অনেকাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। কোনো প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।

এ এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান হুমকির মূখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো যমুনার তাড়া খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ প্রতিবেশির বাড়িতে এবং রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য, নিরাপদ খাবার পানি, আশ্রয় কোনটিই মিলছে না তাদের। শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে এখানকার কোমলমতি শিশুরা।

ভাঙন কবলিত এ এলাকার মানুষ আনোয়ার হোসেন, জহুরুল শেখ ও কৃষক রমজান জানান, গত কয়েকদিনের ভাঙনে আমাদের দুইগ্রামের দুইশ থেকে আড়াইশ ঘরের ভিটে নদীতে চলে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই এ দুটি গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যমুনার ভাঙন রোধ করে আমাদের এই গ্রামগুলোকে রক্ষা করা। ভাঙন কবলিত মানুষগুলোকে পুৃনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, গত কয়েকদিন দিনের ভাঙনে গালা ইউনিয়নে চিথুলিয়া ও তারটিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। কে কোথায় আছে কেউ তা জানে না।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, গালা ইউনিয়নের ভাঙন সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙন কবলিত মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি যমুনায় ভেঙে গেছে তাদের সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।