ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

চুই’ ঝালেই জাদু!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভোজনরসিক বাঙালিদের অনেকেই খুলনার চুই ঝালের কথা শুনে থাকবেন। চুই ঝাল এক ধরনের মসলাজাতীয় গাছ। যেই গাছের শেকড় দিয়ে গরু ও খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস খেতে খুবই মুখোরোচক। এই ঝাল মাংসে বাড়তি স্বাদ ও ঘ্রাণ যোগ করে।

ঝাঁঝালো স্বাদের চু্ই ঝালের রস আস্বাদন করতে অনেকেই খুলনায় ছুটে যান। চুই দিয়ে রান্না করা মাংস খেয়ে উদরপূর্তি করেন।

বিভাগীয় শহর খুলনায় বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংসের বিভিন্ন পদ মেলে। শুধু খুলনা শহর নয়, এর আশেপাশের উপজেলাগুলোতে পাওয়া যায় চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস।

ঢাকা থেকে দলবল দিয়ে শুক্রবার সকালে খুলনায় এসেছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুল কাওনাইন। তিনি অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের আয়োজনে একটি মহড়ায় অংশ নিতে দাকোপ উপজেলায় গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় মহড়া শেষে খুলনা শহরে ফিরে চুই ঝালের খোঁজে বের হন। তাকে স্থানীয়রা জানান, শহরের নামি-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অলিগলির খাবারের হোটেলেও বিশেষ পদ হিসেবে রান্না করা হয় চুই ঝাল।

তাই কাউনাইন দেরি না করে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ঢু মারেন শহরের কে ডি এ এভিনিউ এলাকার ‘দেশি কিচেন’ নামের একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে গিয়ে সদলবলে ফরমায়েশ করেন চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস।

‘গরমভাতের সঙ্গে চুই ঝাল আর আস্ত রসুন দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস বেশ উপাদেয় খাবার। মসলাদার ডালের সঙ্গে চুই ঝালের স্বাদ নিতে ভালোই লেগেছে। এর আগে আমি কখনো চুই ঝাল খাইনি।’ এভাবেই চুই ঝালের গুণকীর্তন করেছিলেন শামসুল কাওনাইন।

কাওনাইনের মতই গতকাল প্রথম চুই ঝালের স্বাদ নিয়েছিলেন অনুপ কুমার ভৌমিক এবং ফয়সাল আহমদ। তারাও অ্যামেচার রেডিও অপারেটর। মহড়ার জন্য গিয়েছিলেন দাকোপ উপজেলায়। সেখানকার ডাক বাংলো এলাকায় দুপুরে ‘ভাই ভাই গাজী হোটেল’ চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা খাসির মাংস কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছেন।

খাওয়া শেষে অনুপ কুমার ভৌমিকের অভিব্যক্তি, ‘চু্ইয়ের ঝালেই জাদু! খাসির মাংসের স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছে চুই। তাই চুই দিয়ে রান্না করা মাংসে ঝাঁঝালো ঘ্রাণ পেয়েছি।’

অনুপ কুমারের কথায় সায় দিলেন ‘ভাই ভাই গাজী হোটেল’ এর কর্ণধার আমিরুল গাজী। তার হোটেলের বাবুর্চী তিনি নিজেই। চুই ঝাল নিজেই রান্না করেন।

তিনি বলেন, ‘চুই ঝাল মূলত মসলাজাতীয় গাছ। এই গাছের শেকড়ে ঝাঁঝালো সুগন্ধী রয়েছে। তাই এটা দিয়ে মাংস রান্না করলে স্বাদ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।’

ভাবছেন, চুই ঝালের স্বাদ আস্বাদন করতে খানিকটা বেশিই খরচ করতে হবে। আসলে তা নয়, চুই ঝালের পদ খুলনার পাঁচ তলায় খান আর গাছ তলায় খান ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই ভূড়িভোজ সারতে পারবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

চুই’ ঝালেই জাদু!

আপডেট সময় ০৯:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ভোজনরসিক বাঙালিদের অনেকেই খুলনার চুই ঝালের কথা শুনে থাকবেন। চুই ঝাল এক ধরনের মসলাজাতীয় গাছ। যেই গাছের শেকড় দিয়ে গরু ও খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস খেতে খুবই মুখোরোচক। এই ঝাল মাংসে বাড়তি স্বাদ ও ঘ্রাণ যোগ করে।

ঝাঁঝালো স্বাদের চু্ই ঝালের রস আস্বাদন করতে অনেকেই খুলনায় ছুটে যান। চুই দিয়ে রান্না করা মাংস খেয়ে উদরপূর্তি করেন।

বিভাগীয় শহর খুলনায় বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংসের বিভিন্ন পদ মেলে। শুধু খুলনা শহর নয়, এর আশেপাশের উপজেলাগুলোতে পাওয়া যায় চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস।

ঢাকা থেকে দলবল দিয়ে শুক্রবার সকালে খুলনায় এসেছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুল কাওনাইন। তিনি অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের আয়োজনে একটি মহড়ায় অংশ নিতে দাকোপ উপজেলায় গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় মহড়া শেষে খুলনা শহরে ফিরে চুই ঝালের খোঁজে বের হন। তাকে স্থানীয়রা জানান, শহরের নামি-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অলিগলির খাবারের হোটেলেও বিশেষ পদ হিসেবে রান্না করা হয় চুই ঝাল।

তাই কাউনাইন দেরি না করে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ঢু মারেন শহরের কে ডি এ এভিনিউ এলাকার ‘দেশি কিচেন’ নামের একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে গিয়ে সদলবলে ফরমায়েশ করেন চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস।

‘গরমভাতের সঙ্গে চুই ঝাল আর আস্ত রসুন দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস বেশ উপাদেয় খাবার। মসলাদার ডালের সঙ্গে চুই ঝালের স্বাদ নিতে ভালোই লেগেছে। এর আগে আমি কখনো চুই ঝাল খাইনি।’ এভাবেই চুই ঝালের গুণকীর্তন করেছিলেন শামসুল কাওনাইন।

কাওনাইনের মতই গতকাল প্রথম চুই ঝালের স্বাদ নিয়েছিলেন অনুপ কুমার ভৌমিক এবং ফয়সাল আহমদ। তারাও অ্যামেচার রেডিও অপারেটর। মহড়ার জন্য গিয়েছিলেন দাকোপ উপজেলায়। সেখানকার ডাক বাংলো এলাকায় দুপুরে ‘ভাই ভাই গাজী হোটেল’ চুই ঝাল দিয়ে রান্না করা খাসির মাংস কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছেন।

খাওয়া শেষে অনুপ কুমার ভৌমিকের অভিব্যক্তি, ‘চু্ইয়ের ঝালেই জাদু! খাসির মাংসের স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছে চুই। তাই চুই দিয়ে রান্না করা মাংসে ঝাঁঝালো ঘ্রাণ পেয়েছি।’

অনুপ কুমারের কথায় সায় দিলেন ‘ভাই ভাই গাজী হোটেল’ এর কর্ণধার আমিরুল গাজী। তার হোটেলের বাবুর্চী তিনি নিজেই। চুই ঝাল নিজেই রান্না করেন।

তিনি বলেন, ‘চুই ঝাল মূলত মসলাজাতীয় গাছ। এই গাছের শেকড়ে ঝাঁঝালো সুগন্ধী রয়েছে। তাই এটা দিয়ে মাংস রান্না করলে স্বাদ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।’

ভাবছেন, চুই ঝালের স্বাদ আস্বাদন করতে খানিকটা বেশিই খরচ করতে হবে। আসলে তা নয়, চুই ঝালের পদ খুলনার পাঁচ তলায় খান আর গাছ তলায় খান ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যেই ভূড়িভোজ সারতে পারবেন।