ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

সিঙ্গাপুরে কিম-ট্রাম্প বৈঠকে আশা যেমন ঝুঁকিও তেমন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের বৈঠকের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে পুরো বিশ্ব। পাশাপাশি উভয়পক্ষেরও রয়েছে আলাদা আলাদা চাওয়া।

বৈঠকের একমাত্র ফলাফল হবে ‘উত্তরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়াকে ‘অসাধারণ’ নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং ‘নতুন এক সম্পর্ক স্থাপনের’ পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৈঠকে আশা যেমন রয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয়পক্ষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ না হলে বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভবিষ্যৎ আরও খারাপ হবে। খবর এএফপি ও বিবিসির।

ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বে আলোচনার শেষ নেই। কোন পক্ষ কি চান, এতে কী ফল পাওয়া যাবে- এসব নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন গণমাধ্যমও আগে থেকে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো বলছে, উত্তর কোরিয়া যদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে পিয়ংইয়ংয়ে দূতাবাস খোলার বিষয়টি বিবেচনা করবে ওয়াশিংটন। এমনটা হলে দীর্ঘ সাত দশকের বৈরিতা ভুলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর কোরিয়াও চায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়াতে, যা তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির গ্যারান্টি দেবে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোদং সিনমুন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং ‘নতুন এক সম্পর্ক স্থাপন’ করতে চায়।

বিবিসি বলছে, ঐতিহাসিক বৈঠকের একদিন আগে উত্তরের এমন জোরালো মন্তব্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণের বিপরীতে নরম সুর প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাধারণত তাদের নেতার তৎপরতার খবর প্রকৃত সময়ে প্রকাশ করে না এবং এবারের বৈঠক সম্পর্কেও সরাসরি কিছু বলেনি। কিন্তু রোদং সিনমুন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে কিম সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন এটি নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘নতুন যুগের দাবি মেটাতে আমরা একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

এতে আরও বলা হয়, ‘কোরীয় উপদ্বীপে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুসহ যে সব সমস্যা সাধারণ উদ্বেগের বিষয় সেগুলোর সমাধানে খোলাখুলি গভীর মতামত বিনিময় করা যেতে পারে।’

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করুক। উত্তর কোরিয়া চায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক গ্যারান্টি ও প্রচুর বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে উত্তর কোরিয়া। দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এ বৈঠকেও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এর আগেও আশার সঞ্চার হয়ে তা ভেঙে গেছে। পূর্বের ১১ প্রেসিডেন্ট কাগজে-কলমে প্রতিশ্রুতিতে ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার রূপ মেলেনি। এবার একটি যথাযোগ্য ও কার্যকর চুক্তি হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পম্পেও।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উত্তরের নেতা কিম যে পরমাণু অস্ত্র ছাড়বে এ ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি নেই। তিনি যদি চান তার দেশটিকে একটি স্বাভাবিক অন্য একটি দেশের মতো দেখতে তাহলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণের দিকে হাঁটতে পারেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরে কিম-ট্রাম্প বৈঠকে আশা যেমন ঝুঁকিও তেমন

আপডেট সময় ০৮:৩০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের বৈঠকের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে পুরো বিশ্ব। পাশাপাশি উভয়পক্ষেরও রয়েছে আলাদা আলাদা চাওয়া।

বৈঠকের একমাত্র ফলাফল হবে ‘উত্তরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়াকে ‘অসাধারণ’ নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং ‘নতুন এক সম্পর্ক স্থাপনের’ পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৈঠকে আশা যেমন রয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয়পক্ষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ না হলে বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভবিষ্যৎ আরও খারাপ হবে। খবর এএফপি ও বিবিসির।

ট্রাম্প ও কিমের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বে আলোচনার শেষ নেই। কোন পক্ষ কি চান, এতে কী ফল পাওয়া যাবে- এসব নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন গণমাধ্যমও আগে থেকে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো বলছে, উত্তর কোরিয়া যদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে পিয়ংইয়ংয়ে দূতাবাস খোলার বিষয়টি বিবেচনা করবে ওয়াশিংটন। এমনটা হলে দীর্ঘ সাত দশকের বৈরিতা ভুলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তর কোরিয়াও চায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়াতে, যা তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির গ্যারান্টি দেবে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোদং সিনমুন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং ‘নতুন এক সম্পর্ক স্থাপন’ করতে চায়।

বিবিসি বলছে, ঐতিহাসিক বৈঠকের একদিন আগে উত্তরের এমন জোরালো মন্তব্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণের বিপরীতে নরম সুর প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সাধারণত তাদের নেতার তৎপরতার খবর প্রকৃত সময়ে প্রকাশ করে না এবং এবারের বৈঠক সম্পর্কেও সরাসরি কিছু বলেনি। কিন্তু রোদং সিনমুন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে কিম সিঙ্গাপুরে গিয়েছেন এটি নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘নতুন যুগের দাবি মেটাতে আমরা একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলব।’

এতে আরও বলা হয়, ‘কোরীয় উপদ্বীপে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুসহ যে সব সমস্যা সাধারণ উদ্বেগের বিষয় সেগুলোর সমাধানে খোলাখুলি গভীর মতামত বিনিময় করা যেতে পারে।’

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করুক। উত্তর কোরিয়া চায়, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক গ্যারান্টি ও প্রচুর বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে উত্তর কোরিয়া। দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এ বৈঠকেও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এর আগেও আশার সঞ্চার হয়ে তা ভেঙে গেছে। পূর্বের ১১ প্রেসিডেন্ট কাগজে-কলমে প্রতিশ্রুতিতে ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তার রূপ মেলেনি। এবার একটি যথাযোগ্য ও কার্যকর চুক্তি হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পম্পেও।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘উত্তরের নেতা কিম যে পরমাণু অস্ত্র ছাড়বে এ ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি নেই। তিনি যদি চান তার দেশটিকে একটি স্বাভাবিক অন্য একটি দেশের মতো দেখতে তাহলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণের দিকে হাঁটতে পারেন।’