অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বেগম খালেদা জিয়া এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও সর্বোচ্চ আদালতের ওপর আস্থা রাখা যাবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। অন্য একটি মামলায় জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরোধিতার কথা তুলে ধরে তিনি এই সংশয়ের কথা জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের অভিযোগ, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোন আদেশ দিচ্ছে না।’
‘এ ধরনের অবস্থায় কত দিন আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের উপর আস্থা রাখতে পারবে? মানুষ হয়তো বা আমাদেরকে ঘৃণভাবে প্রত্যাখ্যান করে আইন নিজেরাই হাতে তুলে নেবে, সেই দিনের অপেক্ষায় আমরা আছি।’
কুমিল্লায় নাশকতার এক মামলায় জামিন চেয়ে রবিবার হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এরপর প্রতিক্রিয়া জানান খন্দকার মাহবুব।
বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী বলেন, ‘আদালতে আমরা বলেছিলাম, যে কারণে ট্রাইব্যুনাল (বিচারিক আদালত) তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন, সেটা সঠিক না।’
‘সেখানে বলা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে আসে নাই, সেই কারণে জামিনের আবেদন শোনা যায় না। খালেদা জিয়া জেলে। অতএব গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কোন প্রশ্ন আসে না। এই একই আদেশের বিরুদ্ধে ভিন্ন একটি সিনিয়র বেঞ্চ আদেশ দিয়েছেন যে, বিচারক ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
‘জামিন আবেদনের সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কোন সম্পর্ক নাই। অতএব তার অবিলম্বে তার জামিনের আবেদনের শুনানি করা হোক।’
২০১৫ সালে বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনের সময় ৩ ফেব্রুয়ারি ভোটে চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় আট জনকে। এই ঘটনায় করা দুটি মামলায় হুকুমের আসামি হিসেবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আর দুই মামলাতেই জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
এর মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেয়ার পর আপিল বিভাগ সে আদেশ স্থগিত করেছে। অপর একটি মামলায় আজ শুনানি হয়।
খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘কুমিল্লায় একই ঘটনার উপরে দুটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হয়েছে। তার মধ্যে একটি ৩০২ ধারায় আরেকটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে। ৩০২ ধারার মামলায় আমরা জামিন পেয়েছি যা আপিল বিভাগে মুলতবি (শুনানির জন্য) আছে।’
‘গতকাল মোটামোটিভাবে এগ্রি করে গিয়েছিলেন (অ্যাটর্নি জেনারেল) যে আদেশের কপি দেখেননি। কিন্তু আজ তিনি ভিন্নরূপে আবির্ভুত হয়েছেন। অ্যাটর্নি বলেছেন, সরকারের নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত হলো, হাইকোর্টের সিনিয়র বেঞ্চটি যে আদেশ দিয়েছেন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল দায়ের করব।’
‘আমরা আদালতকে বললাম, উনি কখন (আপিলে) যাবেন, সেটা জানি না। যেহেতু এখনও আপিল দায়ের হয়নি, আপিল থেকে কোন আদেশ হয়নি সেহেতু আপনাদের আদেশ দিতে কোন বাধা নেই।’
‘তাছাড়াও আমরা ট্রাইব্যুনালের যে আদেশের বিরুদ্ধে এসেছি, তা কতটা যুক্তিসঙ্গত আপনারা (বিচারপতিরা) দেখুন। সে অনুযায়ী আদেশ দিন।’
বিএনপি নেত্রীর আইনজীবী বলেন, ‘কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত এই কারণে যে, অ্যাটর্নি জেনারেল যেহেতু আপিল বিভাগে যাবেন সেহেতু আজকে এটা মুলতবি করা হলো।’
‘এর অর্থ- অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া মনে হচ্ছে আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোন আদেশ দিচ্ছে না।’
‘অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়েছেন আদালত তাকে সময় দিয়েছেন। আবার তিনি সময় চাইবেন হয়তো আবার সময় দেবেন।’
‘অ্যাটর্নি জেনারেলের যখন সম্মতি হবে যে খালেদা জিয়ার জামিন হবে। আমাদের সেই অপেক্ষায় থাকতে হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার ব্যবস্থার উপর আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, আর আমরা আস্থা রাখতে পারছি না।’
অবশ্য অ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এটা শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক এবং আদালত অবমাননাকর।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















