ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে খালেদাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়: মাহবুব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছেন তারই আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এই আইনজীবী নেতা।

খালেদা জিয়া আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাওয়ার পর দিনই আরও দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এসেছে ঢাকার দুটি আদালতের পক্ষ থেকে। এই বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়েই তার নেত্রীর বিষয়ে শঙ্কার কথা বলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে বন্দী। ওই রায়ের এক মাস পর ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদকের আপিলে ঝুলে যায় সে আদেশ। দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৬ মে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

তবে এরপরও খালেদা জিয়ার মুক্তি এখনই সম্ভব নয়। কারণ, তিনি মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। আরও একটি মামলায় জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে তার।

কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলায় আট জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আগামী ৭ জুন কুমিল্লা আদালতে এই মামলায় জামিন শুনানি আছে।

আবার আপিল বিভাগের আদেশের পরদিনই ভুয়া জন্মদিন এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়ার ঘটনায় করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার দুটি আদালত। এই দুটি মামলায় পরবর্তী শুনানি ৫ জুলাই।

এই দুটি মামলা ২০১৬ সালে করা এবং একটিতে ২০১৬ সালের শেষে এবং একটিতে ২০১৭ সালের শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তারের আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছিল আদালত।

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগেও নড়াইলে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ওই জেলার আদালত গত ৮ মে তার জামিন আবেদন নাচক করেছে।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘একের পর এক বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কোনোভাবেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’

বিকাল চারটার দিকে কারাগারে ঢুকেন চার আইনজীবী। তারা হলেন: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সানাউল্লাহ মিয়া। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা বেরিয়ে আসেন সেখান থেকে।

মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা ভালো না। হাঁটতে কষ্ট হয়। বাম পা ও বাম হাতে ব্যথা। তবুও তিনি কষ্ট করে ভিজিটরস রুমে এসে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তিনি দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

‘ম্যাডাম তার মামলার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করতে পারলে ভালো হতো বলেও তিনি আমাদের বলেছেন।’

গত ২৮ মার্চ থেকেই খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে নানা কথা প্রচার হচ্ছে। বিএনপি ৩০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে তাদের নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা আলোচনা শুরু হলে বিএনপি অবস্থান পাল্টায়। এখন তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে খালেদাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়: মাহবুব

আপডেট সময় ০৮:০০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছেন তারই আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এই আইনজীবী নেতা।

খালেদা জিয়া আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাওয়ার পর দিনই আরও দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এসেছে ঢাকার দুটি আদালতের পক্ষ থেকে। এই বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়েই তার নেত্রীর বিষয়ে শঙ্কার কথা বলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে বন্দী। ওই রায়ের এক মাস পর ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদকের আপিলে ঝুলে যায় সে আদেশ। দুই মাসেরও বেশি সময় পর ১৬ মে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

তবে এরপরও খালেদা জিয়ার মুক্তি এখনই সম্ভব নয়। কারণ, তিনি মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন। আরও একটি মামলায় জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে তার।

কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলায় আট জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আগামী ৭ জুন কুমিল্লা আদালতে এই মামলায় জামিন শুনানি আছে।

আবার আপিল বিভাগের আদেশের পরদিনই ভুয়া জন্মদিন এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়ার ঘটনায় করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার দুটি আদালত। এই দুটি মামলায় পরবর্তী শুনানি ৫ জুলাই।

এই দুটি মামলা ২০১৬ সালে করা এবং একটিতে ২০১৬ সালের শেষে এবং একটিতে ২০১৭ সালের শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তারের আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছিল আদালত।

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগেও নড়াইলে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ওই জেলার আদালত গত ৮ মে তার জামিন আবেদন নাচক করেছে।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘একের পর এক বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কোনোভাবেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’

বিকাল চারটার দিকে কারাগারে ঢুকেন চার আইনজীবী। তারা হলেন: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সানাউল্লাহ মিয়া। প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা বেরিয়ে আসেন সেখান থেকে।

মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা ভালো না। হাঁটতে কষ্ট হয়। বাম পা ও বাম হাতে ব্যথা। তবুও তিনি কষ্ট করে ভিজিটরস রুমে এসে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তিনি দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

‘ম্যাডাম তার মামলার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করতে পারলে ভালো হতো বলেও তিনি আমাদের বলেছেন।’

গত ২৮ মার্চ থেকেই খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে নানা কথা প্রচার হচ্ছে। বিএনপি ৩০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে তাদের নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা আলোচনা শুরু হলে বিএনপি অবস্থান পাল্টায়। এখন তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুলছে।