ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

পিরামিডের নিচে পাঁচ হাজার বছর আগের নৌকা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতাগুলোর একটি গড়ে উঠেছিল মিসরে। সেখানকার নানা নিদর্শন থেকে ইতিহাসের সেসব নমুনা এখনো পাওয়া যায়।

সারা বিশ্বের কাছে মিসরের আরেকটি পরিচিতি তাদের পিরামিডগুলোর কারণে, যেগুলো বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়। -খবর বিবিসি বাংলার।

মিসরের প্রাচীন রাজাদের মৃত্যুর পর এসব পিরামিডের ভেতর সমাহিত করা হতো। যেভাবে এসব শরীর মমি করে পিরামিডের ভেতর রাখা হয়, তাতেই বোঝা যায় যে এই সভ্যতা কতটা উন্নত ছিল।

কিন্তু ইদানীং সেই পিরামিডের এলাকা গিজা মরুভূমির মধ্যে আরও কৌতূহলোদ্দীপক একটি গবেষণা শুরু হয়েছে। তা হল, খুফু পিরামিডের নিচে লুকিয়ে থাকা পাঁচ হাজার বছর আগের একটি নৌকা বের করে আনা।

জাপানের ওয়াসেডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সেখানে একটি ল্যাব তৈরি করে এই কাজ করছেন। একেকটি টুকরো বের করে আনতে কখনো একেকটি সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে তাদের।

মিসরের রাজাদের সমাধিস্থান পিরামিডের নিচে থেকে এটি দ্বিতীয় নৌকা বের করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৫৪ সালে আরেকটি নৌকা বের করে গিজা জাদুঘরে রাখা হয়েছে।

কেন এসব নৌকা পিরামিডের নিচে?

প্রাচীন মিসরের লোকজন বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হবে এবং তারা স্বর্গ বা নরকে যাবে। কিন্তু সেই যাতায়াতে ফারাহ রাজাদের নৌকা দরকার হতে পারে।

এ কারণেই রাজাদের সমাধি প্রস্তুতির সময় পিরামিডের নিচে বৃহৎ আকারের নৌকা স্থাপন করা হতো, যাতে করে তারা পরজগতে চলাফেরা করতে পারেন।

কীভাবে চলছে নৌকা উদ্ধারের কাজ?

গবেষকরা চেষ্টা করছেন, নৌকার প্রতিটি অংশ বা টুকরা আলাদাভাবে কিন্তু অক্ষত অবস্থান বের করে আনার। মাটির নিচ থেকে এসব টুকরা বের করে এনে পুনরায় জোড়া লাগানো হবে।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক হিরোমাসা কুরোচি বলছেন, নৌকাটির অবস্থা খুবই ভঙ্গুর, ফলে এটি বের করতে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। পুরো কাজটি শেষ হতে অনেক সময় লেগে যাবে।

আরেকজন গবেষক ইসা যিদান বলেন, একেকটি টুকরা বের করে আনার পরই ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব টুকরা খুবই ভঙ্গুর, কারণ এগুলো মাটির নিচে হাজার বছর ধরে পড়ে ছিল।

এজন্য বিশেষভাবে ল্যাবটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ একটি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ধরে রাখা হয়। একেকটি টুকরা ওজন করার পর সেটি সাবধানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

এই গবেষকরা শুধু এসব টুকরা জোড়া লাগিয়ে আবার সেই প্রাচীন নৌকাটি তৈরি করার চেষ্টাই করছেন না। বরং তারা ইতিহাসের হারানো কিছু গল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

পিরামিডের নিচে পাঁচ হাজার বছর আগের নৌকা

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতাগুলোর একটি গড়ে উঠেছিল মিসরে। সেখানকার নানা নিদর্শন থেকে ইতিহাসের সেসব নমুনা এখনো পাওয়া যায়।

সারা বিশ্বের কাছে মিসরের আরেকটি পরিচিতি তাদের পিরামিডগুলোর কারণে, যেগুলো বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়। -খবর বিবিসি বাংলার।

মিসরের প্রাচীন রাজাদের মৃত্যুর পর এসব পিরামিডের ভেতর সমাহিত করা হতো। যেভাবে এসব শরীর মমি করে পিরামিডের ভেতর রাখা হয়, তাতেই বোঝা যায় যে এই সভ্যতা কতটা উন্নত ছিল।

কিন্তু ইদানীং সেই পিরামিডের এলাকা গিজা মরুভূমির মধ্যে আরও কৌতূহলোদ্দীপক একটি গবেষণা শুরু হয়েছে। তা হল, খুফু পিরামিডের নিচে লুকিয়ে থাকা পাঁচ হাজার বছর আগের একটি নৌকা বের করে আনা।

জাপানের ওয়াসেডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সেখানে একটি ল্যাব তৈরি করে এই কাজ করছেন। একেকটি টুকরো বের করে আনতে কখনো একেকটি সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে তাদের।

মিসরের রাজাদের সমাধিস্থান পিরামিডের নিচে থেকে এটি দ্বিতীয় নৌকা বের করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৫৪ সালে আরেকটি নৌকা বের করে গিজা জাদুঘরে রাখা হয়েছে।

কেন এসব নৌকা পিরামিডের নিচে?

প্রাচীন মিসরের লোকজন বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হবে এবং তারা স্বর্গ বা নরকে যাবে। কিন্তু সেই যাতায়াতে ফারাহ রাজাদের নৌকা দরকার হতে পারে।

এ কারণেই রাজাদের সমাধি প্রস্তুতির সময় পিরামিডের নিচে বৃহৎ আকারের নৌকা স্থাপন করা হতো, যাতে করে তারা পরজগতে চলাফেরা করতে পারেন।

কীভাবে চলছে নৌকা উদ্ধারের কাজ?

গবেষকরা চেষ্টা করছেন, নৌকার প্রতিটি অংশ বা টুকরা আলাদাভাবে কিন্তু অক্ষত অবস্থান বের করে আনার। মাটির নিচ থেকে এসব টুকরা বের করে এনে পুনরায় জোড়া লাগানো হবে।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক হিরোমাসা কুরোচি বলছেন, নৌকাটির অবস্থা খুবই ভঙ্গুর, ফলে এটি বের করতে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। পুরো কাজটি শেষ হতে অনেক সময় লেগে যাবে।

আরেকজন গবেষক ইসা যিদান বলেন, একেকটি টুকরা বের করে আনার পরই ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব টুকরা খুবই ভঙ্গুর, কারণ এগুলো মাটির নিচে হাজার বছর ধরে পড়ে ছিল।

এজন্য বিশেষভাবে ল্যাবটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ একটি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ধরে রাখা হয়। একেকটি টুকরা ওজন করার পর সেটি সাবধানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

এই গবেষকরা শুধু এসব টুকরা জোড়া লাগিয়ে আবার সেই প্রাচীন নৌকাটি তৈরি করার চেষ্টাই করছেন না। বরং তারা ইতিহাসের হারানো কিছু গল্প খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।