ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেল শিশু, চলছে উদ্ধার চেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে বিসিএস ক্যাডার, সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে সব মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানায়নি ভারত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজয়ী হলে ঢাকা-১৩ আসনে কোনো ‘ক্রাইম জোন’ থাকবে না: মামুনুল হক উত্তরায় কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ড ‘আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকবে বিএনপি’: মির্জা ফখরুল ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে প্রতিশ্রুতি আসিফ মাহমুদের

স্যাটেলাইটটি আগে ঘুরে আসুক, তারপর কিছু বলব: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্যাটেলাইটটি আগে ঘুরে আসুক, তারপর কিছু বলব।’ তিনি বলেন, ‘মহাকাশে স্যাটেলাইট যাচ্ছে কিন্তু দেশের মানুষ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ড্যাব আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে স্যাটেলাইট বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটটি বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাত ২টা ৪৭ মিনিটে এক টুকরো বাংলাদেশকে রেখে আসে তার নিজস্ব কক্ষপথে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার সূচনা হয়।

প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে সরকার তাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশবাসীও এই সাফল্যে উজ্জীবিত। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসার সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি এটাকে বিএনপির সংকীর্ণ মনা রাজনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির সূচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আমলেই এদেশ মধ্যআয়ের পথে হাঁটে। ব্যাংকব্যবস্থা উন্নত হয়। অথচ আজ মহাকাশে স্যাটেলাইটসহ সবকিছু নাকি তারাই (আওয়ামী লীগ) করেছে। সবকিছু নাকি তাদেরই অবদান। এই যে স্যাটেলাইট তার মালিকানাও চলে গেছে দুজনের কাছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির ৩৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। অথচ এসময় তিনি কারাগারে। তার মতো এরকম ত্যাগী রাজনীতিবিদ আর নেই। তিনি স্বামী, বাস্তভিটা, সন্তান সবই হারিয়েছেন। তারপরও তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে এই ৭৩ বছর বয়সে কারাগারে বন্দী।’

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন। তাহলেই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের হাত পা খুলে দিন। তারপরই আমরা নির্বাচন করবো। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তিনি দেশের সবচেয়ে ত্যাগী নেত্রী। তাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’

ফখরুল এসময় মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। গোটা মানুষকে এক করতে হবে। ধর্ম বর্ণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই ভয়াবহ দানবকে সরাতে হবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফখরুল। ভারতের সঙ্গে পাঁচটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর গণমাধ্যমে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি করার অধিকারটা তাকে (প্রধানমন্ত্রী) কে দিয়েছে? কারণ এই পার্লামেন্ট তো নির্বাচিত নয়। জনগণের পক্ষে যত চুক্তি করেন আপনি, সেই চুক্তি তো জনগণের চুক্তি নয়।’

ফখরুল বলেন, ‘সব চুক্তি আমরা দেখব। যেমন মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, একটা লোকও (রোহিঙ্গা) যেতে পারেনি। যেটা আমার সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই তিস্তার পানি চুক্তি এখন পর্যন্ত হয়নি।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ও ডা. শামীউল আলম সুহান এর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ড্যাব।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদাদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ড্যাবের মহাসচিব ড. এজেড এ জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেল শিশু, চলছে উদ্ধার চেষ্টা

স্যাটেলাইটটি আগে ঘুরে আসুক, তারপর কিছু বলব: ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্যাটেলাইটটি আগে ঘুরে আসুক, তারপর কিছু বলব।’ তিনি বলেন, ‘মহাকাশে স্যাটেলাইট যাচ্ছে কিন্তু দেশের মানুষ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ড্যাব আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে স্যাটেলাইট বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটটি বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাত ২টা ৪৭ মিনিটে এক টুকরো বাংলাদেশকে রেখে আসে তার নিজস্ব কক্ষপথে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার সূচনা হয়।

প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে সরকার তাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশবাসীও এই সাফল্যে উজ্জীবিত। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসার সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি এটাকে বিএনপির সংকীর্ণ মনা রাজনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির সূচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আমলেই এদেশ মধ্যআয়ের পথে হাঁটে। ব্যাংকব্যবস্থা উন্নত হয়। অথচ আজ মহাকাশে স্যাটেলাইটসহ সবকিছু নাকি তারাই (আওয়ামী লীগ) করেছে। সবকিছু নাকি তাদেরই অবদান। এই যে স্যাটেলাইট তার মালিকানাও চলে গেছে দুজনের কাছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির ৩৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। অথচ এসময় তিনি কারাগারে। তার মতো এরকম ত্যাগী রাজনীতিবিদ আর নেই। তিনি স্বামী, বাস্তভিটা, সন্তান সবই হারিয়েছেন। তারপরও তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে এই ৭৩ বছর বয়সে কারাগারে বন্দী।’

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন। তাহলেই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের হাত পা খুলে দিন। তারপরই আমরা নির্বাচন করবো। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তিনি দেশের সবচেয়ে ত্যাগী নেত্রী। তাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’

ফখরুল এসময় মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। গোটা মানুষকে এক করতে হবে। ধর্ম বর্ণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই ভয়াবহ দানবকে সরাতে হবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফখরুল। ভারতের সঙ্গে পাঁচটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর গণমাধ্যমে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি করার অধিকারটা তাকে (প্রধানমন্ত্রী) কে দিয়েছে? কারণ এই পার্লামেন্ট তো নির্বাচিত নয়। জনগণের পক্ষে যত চুক্তি করেন আপনি, সেই চুক্তি তো জনগণের চুক্তি নয়।’

ফখরুল বলেন, ‘সব চুক্তি আমরা দেখব। যেমন মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, একটা লোকও (রোহিঙ্গা) যেতে পারেনি। যেটা আমার সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই তিস্তার পানি চুক্তি এখন পর্যন্ত হয়নি।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ও ডা. শামীউল আলম সুহান এর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ড্যাব।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদাদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ড্যাবের মহাসচিব ড. এজেড এ জাহিদ হোসেন প্রমুখ।