ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

আইনজীবীদের পরামর্শেই আদালতে আসেন না খালেদা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের পরামর্শে আদালতে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে তিনি এই দাবি করেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে উঠলে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, খালেদা জিয়া অসুস্থ জানিয়ে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী রমজানের পর ধার্যেরও আবেদন করেন।

এরপর দুদকের প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘মামলাটিতে আজ (বৃহস্পতিবার) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। মামলার প্রধান আসামি কারাগার। তিনি আদালতে আসেননি। এর আগের চারটি ধার্য তারিখে একই অবস্থা। তিনি অসুস্থার কথা বলে আদালতে আসতে চান না। অথচ তিনি একই অবস্থায় গত ১০ বছর আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কারাগার থেকে গাড়িতে ওঠার পথ পর্যন্ত হাঁটতে চান না। হুইল চেয়ার দিলেও নিতে চান না। আমার লার্নেড ফ্রেন্ডরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) ঘনঘন তার সঙ্গে দেখা করে যেভাবে তাকে পরামর্শ দেন সেভাবেই তিনি চলছেন। মামলার বিচার যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এজন্যই তিনি মূলত আদালতে আসছেন না। তিনি সম্মানিত মানুষ, তাই তাকে আদালতে আনতে জোর করাও যাচ্ছে না।’

দুদক প্রসিকিউটরের এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে পাল্টা কোনো বক্তব্য দেননি এবং তাকে হাজির করার বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেননি। শুনানি শেষে বিচারক রমজান মাসের মধ্যেই আগামী ৬ জুন পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় একই আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। একই বিচারক অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

আইনজীবীদের পরামর্শেই আদালতে আসেন না খালেদা

আপডেট সময় ০২:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের পরামর্শে আদালতে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে তিনি এই দাবি করেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে উঠলে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, খালেদা জিয়া অসুস্থ জানিয়ে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী রমজানের পর ধার্যেরও আবেদন করেন।

এরপর দুদকের প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘মামলাটিতে আজ (বৃহস্পতিবার) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। মামলার প্রধান আসামি কারাগার। তিনি আদালতে আসেননি। এর আগের চারটি ধার্য তারিখে একই অবস্থা। তিনি অসুস্থার কথা বলে আদালতে আসতে চান না। অথচ তিনি একই অবস্থায় গত ১০ বছর আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কারাগার থেকে গাড়িতে ওঠার পথ পর্যন্ত হাঁটতে চান না। হুইল চেয়ার দিলেও নিতে চান না। আমার লার্নেড ফ্রেন্ডরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) ঘনঘন তার সঙ্গে দেখা করে যেভাবে তাকে পরামর্শ দেন সেভাবেই তিনি চলছেন। মামলার বিচার যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এজন্যই তিনি মূলত আদালতে আসছেন না। তিনি সম্মানিত মানুষ, তাই তাকে আদালতে আনতে জোর করাও যাচ্ছে না।’

দুদক প্রসিকিউটরের এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে পাল্টা কোনো বক্তব্য দেননি এবং তাকে হাজির করার বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেননি। শুনানি শেষে বিচারক রমজান মাসের মধ্যেই আগামী ৬ জুন পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় একই আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। একই বিচারক অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।