ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

খালেদাকে লক্ষ্য করে আমাদের হয়রানি: তাবিথ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকে ১২৫ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ তথ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির হওয়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হয়রানি বলেছেন। তার দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য রেখে তাকে এবং দলের অন্য সাত নেতাকে হয়রানি করছে দুদক।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় দুদক কার্যালয়ে যান তাবিথ। সকাল ১০টায় শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। দুদকের উপপরিচালক এস এম আকতার হামিদ ভূঁইয়া বেলা দেড়টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাবিথ বের হয়ে এসে কথা বলেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে।

এক প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের মূল হয়রানির মানে হচ্ছে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হয়রানি। মূলত তাকে লক্ষ্য করে আমাদের এভাবে হয়রানি করার হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমি মনে করি সকল অ্যাকশনেই (কাজে) সরকারের একটা প্রভাব রয়েছে।’

এপ্রিলের শুরুতে একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। মোর্শেদ খানের ছেলে খান ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও চলছে এই অনুসন্ধান।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়, মার্চ মাসে বিএনপির এই আট নেতা ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। আর এই লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

এই খবর প্রকাশের পর ২ এপ্রিল দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমকে এই বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে দলের চার নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল আউয়াল মিণ্টু দুদকের তীব্র সমালোচনা করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নোংরা রসিকতা করছে দুদক।’

বিএনপি নেতাদের এই প্রতিক্রিয়ার পর জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিএনপি নেতাদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ ওঠলে আমাদেরকে সেটা নিতেই হবে। এখন ওই অভিযোগের ভিত্তি আছে কি নাই সেটা তো দেখবার সুযোগ (অনুসন্ধানের সময়) দেবেন।… এখানে অনুসন্ধানের কী রিপোর্ট আসে সেটা পাওয়ার পর আমি বলতে পারব বিস্তারিত। এর আগে আমিও তেমন কিছু বলতে পারি না। তবে কারোর প্রতি অন্যায় হোক এটা আমরা চাই না।’

বিএনপির এই আট নেতার মধ্যে দুদক প্রথম কথা বলল তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দুদক কী জানতে চেয়েছে, জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, ‘দুদকের সাথে সুষ্ঠু কথাবার্তা হয়েছে, এখন অনুসন্ধান হচ্ছে তাই সেভাবে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।’

তবে দুদকের এই উদ্যোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি মনে করি এগুলো আমাদের সর্বোচ্চ পর্যান্ত সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈকিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হচ্ছে।’

দুদকের এই অনুসন্ধান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নও ছিল তাবিথের কাছে। তিনি বলেন, ‘ওই ইলেকশনটা বর্তমানে স্টে (স্থগিত) আছে। আইনিভাবে আমি এখনও প্রার্থী। আশা করছি এই বিষয়টি সেখানে প্রভাব পড়বে না।’

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এই ভোটে বিএনপি তাবিথকে প্রার্থী করেছিল। তবে ১৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদনে স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

খালেদাকে লক্ষ্য করে আমাদের হয়রানি: তাবিথ

আপডেট সময় ০৪:০৯:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যাংকে ১২৫ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ তথ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির হওয়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হয়রানি বলেছেন। তার দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য রেখে তাকে এবং দলের অন্য সাত নেতাকে হয়রানি করছে দুদক।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় দুদক কার্যালয়ে যান তাবিথ। সকাল ১০টায় শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। দুদকের উপপরিচালক এস এম আকতার হামিদ ভূঁইয়া বেলা দেড়টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাবিথ বের হয়ে এসে কথা বলেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে।

এক প্রশ্নে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের মূল হয়রানির মানে হচ্ছে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হয়রানি। মূলত তাকে লক্ষ্য করে আমাদের এভাবে হয়রানি করার হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমি মনে করি সকল অ্যাকশনেই (কাজে) সরকারের একটা প্রভাব রয়েছে।’

এপ্রিলের শুরুতে একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। মোর্শেদ খানের ছেলে খান ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও চলছে এই অনুসন্ধান।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়, মার্চ মাসে বিএনপির এই আট নেতা ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। আর এই লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

এই খবর প্রকাশের পর ২ এপ্রিল দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমকে এই বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে দলের চার নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল আউয়াল মিণ্টু দুদকের তীব্র সমালোচনা করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নোংরা রসিকতা করছে দুদক।’

বিএনপি নেতাদের এই প্রতিক্রিয়ার পর জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিএনপি নেতাদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ ওঠলে আমাদেরকে সেটা নিতেই হবে। এখন ওই অভিযোগের ভিত্তি আছে কি নাই সেটা তো দেখবার সুযোগ (অনুসন্ধানের সময়) দেবেন।… এখানে অনুসন্ধানের কী রিপোর্ট আসে সেটা পাওয়ার পর আমি বলতে পারব বিস্তারিত। এর আগে আমিও তেমন কিছু বলতে পারি না। তবে কারোর প্রতি অন্যায় হোক এটা আমরা চাই না।’

বিএনপির এই আট নেতার মধ্যে দুদক প্রথম কথা বলল তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দুদক কী জানতে চেয়েছে, জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, ‘দুদকের সাথে সুষ্ঠু কথাবার্তা হয়েছে, এখন অনুসন্ধান হচ্ছে তাই সেভাবে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।’

তবে দুদকের এই উদ্যোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি মনে করি এগুলো আমাদের সর্বোচ্চ পর্যান্ত সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈকিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হচ্ছে।’

দুদকের এই অনুসন্ধান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নও ছিল তাবিথের কাছে। তিনি বলেন, ‘ওই ইলেকশনটা বর্তমানে স্টে (স্থগিত) আছে। আইনিভাবে আমি এখনও প্রার্থী। আশা করছি এই বিষয়টি সেখানে প্রভাব পড়বে না।’

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এই ভোটে বিএনপি তাবিথকে প্রার্থী করেছিল। তবে ১৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদনে স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন।