অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
তারেক রহমান একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সে বিদেশের মাটিতে রয়েছে, সেখানে বসে প্রতিদিন তারা দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরণের আসামীকে নিয়ে এসেছি। আমরা নিশ্চই তারেককেও নিয়ে আসবো বলে আবারো জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন একথা বলেন তিনি।
তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলছে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে। কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রেয় নিলে নিয়মেই আছে সে আর নিজ দেশে ফিরতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে আবেদনে উল্লেখ করতে হয় সে যে দেশের পাসপোর্ট নিয়ে এসেছে সে দেশে ফিরতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটেনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে দেশের আইন অনুযায়ী যেভাবে সম্ভব আমরা তাকে ফিরিয়ে আনবো।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রশংসা হয়েছে, সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গা বিষয়ক অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে। যেটা আমাদের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকার যে প্রশংসা হয়েছে, তা সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য।
সফরে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসাও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নারীর অধিকার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম আমাদের সংবিধানে নারীদের জন্য সমান অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গেছেন।
এসময় অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল সামিট অন উইমেনে প্রাপ্ত ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দেশের নারী সমাজের প্রতি উৎসর্গ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এর আগে বিকেল চারটায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সম্প্রতি বিদেশ সফরের চিত্র তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে উপস্থিতি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশেন্র জবাব দেন তিনি।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ৮ দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে যান। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আল জুবাইল প্রদেশে অনুষ্ঠেয় ‘গালফ শিল্ড-১’ নামের একটি যৌথ সামরিক মহড়ার কুচকাওয়াজ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এরপর কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগদানের জন্য ১৬ এপ্রিল লন্ডনে যান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি ১৭ এপ্রিল সকালে ওয়েস্টমিনস্টারের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ নারী ফোরামের ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার: মেকিং ইকুইটেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন আ রিয়েলিটি ফর গার্লস অ্যাক্রোস দ্য কমনওয়েলথ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
১৮ এপ্রিল শেখ হাসিনা এশীয় নেতাদের ‘ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোইং?’ রাউন্ড টেবিলে অংশ নেন। ১৯ এপ্রিল শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের (সিএইচওজিএম) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তিনটি ‘রিট্রিট সেশন’ ও শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী কার্যনির্বাহী অধিবেশনে অংশ নেন এবং ২১ এপ্রিল তিনি রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি (আরসিএস) আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সরকারপ্রধানদের জন্য সংবর্ধনা এবং রানির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ২৩ এপ্রিল তিনি দেশে ফেরেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়া যান। সিডনির আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) এক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণ করেন তিনি।
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ শেখ হাসিনাকে এ সম্মাননা দেয়। ওই সফর শেষে তিনি গত ২৯ এপ্রিল দেশে ফেরেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















