অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভারব্রিজটি তুলে নেয়া হচ্ছে। বিকল্প না থাকায় দ্রুতগতিতে চলা যানবাহনের এই সড়ক ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পথচারীদের। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি র্যাম্প উঠবে বলে ফুটওভার ব্রিজটি খুলে নেয়া হয়।
স্থানীয়রা বলেন, সোমবার ফুটওভারব্রিজটি খুলে নেয়া হচ্ছে। দুপাশের সিঁড়ি এখনও রয়ে গেছে। প্রতিরাতে খুলে নেয়ার কাজটি করা হয়। বারিধারা ডিওএইচএস, শেওড়া, জোয়ারসাহারা, কুড়িল, কালাচাঁদপুরের লোকজন শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন।
বাসস্ট্যান্ডের এক দোকানি বলেন, হুনছি এইখানে এই ব্রিজ রাখব না। কেন, তা বলতে পারব না। দেখা গেছে, ফুটওভারব্রিজ না থাকায় বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হতে সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকছেন লোকজন।
এর পর সুযোগ খুঁজে দৌড়ে কিংবা হেঁটে সড়কের মাঝের বিভাজকের কাছে চলে যান। উঁচু বিভাজক পার হতে আবার অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সুযোগ নিয়ে সড়কের বাকি অংশ পার হচ্ছেন।
অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে দ্রুতগামী যানবাহনের সামনে দিয়েও অনেককে রাস্তা পার হতে দেখা যাচ্ছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ গলফ ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কালাচাঁদপুরের বাসিন্দা জানে আলম। যানবাহনের চাপ কমলে দৌড়ে সড়ক বিভাজকের কাছে যান তিনি।
অনেক কসরত করে বিভাজক পার হয়ে সেখানে গিয়ে আরও কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। বিমানবন্দরের দিক থেকে আসা যানবাহনের চাপ কমলে মেয়েকে নিয়ে অনেকটা দৌড়ে সড়কের শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের ডিওএইচএস প্রান্তে আসেন তিনি।
রাস্তা পার হতে খুব কষ্টের কথা জানিয়ে জানে আলম বলেন, এই রাস্তাটা অনেক প্রশস্ত, গাড়িগুলাও খুব দ্রুত যায়। আবার ডিভাইডারে কোনো ফাঁকা না থাকায় ওপরে উঠতে হয়। ফলে ঝুঁকি তো আছেই।
তিনি বলেন, কিন্তু কী করব, গাড়ি এখানে নামিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া কুড়িল দিয়ে পার হলে আবার আধা কিলোমিটার পথ হেঁটে আসতে হয়। এখানে একটা বিকল্প রাখা দরকার ছিল।
আরেক পথচারী ডিওএইচএস এলাকার শাহজাহান সাজু বলেন, ফুটওভারব্রিজ উঠিয়ে নেয়ায় এই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমি অনেক কষ্টে পার হইছি। কিন্তু এমনিতে তো প্রতিদিন পার হওয়া যাবে না। দিনের বেলা গাড়ি সামনের পথচারীদের দেখতে পায় বলে থামিয়ে দেয়। কিন্তু রাতে পার হব কেমন করে?
ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, এইটা তো রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টপেজ। কোনো বিকল্প না রাইখা ওভারব্রিজটা সরাইল কেমনে? ডিওএইচএস এলাকার একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সৈয়দ আবু ওবায়েদ চৌধুরী বলেন, ফুটওভারব্রিজ ওঠানোর আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
আরেক পথচারী জোয়ার সাহারার বাসিন্দা জাকির হোসেন ঝুঁকি দেখে কুড়িল বিশ্বরোড ঘুরে এসেছেন। তিনি বলেন, ফুটওভারব্রিজ না থাকায় রাস্তা দিয়া পার হতে ভয় লাগে।
পথচারীদের পারাপারের সময় কোনো ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকেও সেখানে দেখা যায়নি। শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের একজন উপপরিদর্শক বলেন, ফুটওভারব্রিজ খুলে নেয়া হবে, তা তারাও জানতেন না। এখন পথচারীদের পারাপারে খুবই সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখানে রাস্তায় যানবাহন খুব দ্রুতগতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা খুব কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে পার হয়। দুর্ঘটনার ভয় থাকে। আবার লোকজন পার হওয়ায় যানবাহন থেমে যাওয়ায় যানজট তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবালের মোবাইলে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তিনি দেশের বাইরে আছেন বলে জানান উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী খান।
তিনি বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি র্যাম্প উঠবে বলে শেওড়ার ওভারব্রিজ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেটি বনরূপা আবাসিক এলাকার সামনে সড়কে স্থাপন করা হবে।
এখান থেকে সরিয়ে সেটি এমইএসে স্থাপন করার চিন্তা থাকলেও তা করা হচ্ছে না বলে জানান সিনথিয়া। তিনি বলেন, সেখানে আর্মিদের একটা আন্ডারপাস প্রকল্প আছে। সে কারণে আমরা বনরূপায় নিয়ে গেছি।
শেওড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারীদের পারাপারে কী হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পথচারীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, এটা ঠিক। কিন্তু এই সড়কে অনেক উন্নয়নকাজ হচ্ছে। এ কারণে আমাদের যেভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেভাবে কাজ করছি।
বিস্তারিত জানতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
পথচারীদের পারাপারে শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে কিনা- জানতে চাইলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক কাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, পাশে আরেকটি বানিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, এখন যেখানে আছে সেখান থেকে পঞ্চাশ মিটারের মতো সরিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের প্ল্যান ছিল যে আগে একটা ওভারব্রিজ বানিয়ে তারপর এটি সরানো হবে। কিন্তু সরিয়ে নিতে কোনো কারণে একটু সময় বেশি লেগেছে। এদিকে আমাদের কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় এটি সরিয়ে নিতে হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























