ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর বনানী আবাসিক এলাকাটি নীরব এলাকা হিসেবে পরিবেশ অধিদফতরে তালিকাভুক্ত হলেও এখানে যানবাহনের হর্নের শব্দে এক স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয় না। তবে রাজধানীসহ পুরো দেশের অবস্থা অনেকটা এমনই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দগ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদফতরের গত বছরের জরিপে দেখা যায়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবল ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি।-খবর বিবিসি বাংলার।

শব্দদূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে উঠে এসেছে, রাজধানীর পল্টন, শাহবাগ ও ফার্মগেট, মতিঝিল, রামপুরাসহ কয়েকটি এলাকার নাম।

যানবাহনের হর্ন, ভবনের নির্মাণকাজ, কলকারখানা এবং মাইকিংয়ে শব্দদূষণ ছড়ায়। বিশেষ করে সিগন্যালগুলোতে একসঙ্গে কয়েকশ গাড়ি হর্ন বাজানোকে শব্দদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন পথচারীরা।

মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদফতরের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে আসে।

সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা।

এক্ষেত্রে শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানান পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ। এক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে ২০০৬ সালের বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেটি রয়েছে শুধু কাগজকলমে।

বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়ের সামনে এবং আবাসিক এলাকায় হর্ন বাজানো, মাইকিং করা সেই সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জোরে শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে সেই আইনের কোনো প্রয়োগ নেই।

শব্দদূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে একেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে।

শব্দদূষণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর হিয়ারিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ ১৯৯৬ সাল থেকে শব্দ সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। তবে বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শব্দদূষণে বধির হওয়ার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

আপডেট সময় ১২:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর বনানী আবাসিক এলাকাটি নীরব এলাকা হিসেবে পরিবেশ অধিদফতরে তালিকাভুক্ত হলেও এখানে যানবাহনের হর্নের শব্দে এক স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয় না। তবে রাজধানীসহ পুরো দেশের অবস্থা অনেকটা এমনই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দগ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদফতরের গত বছরের জরিপে দেখা যায়, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় শব্দের মানমাত্রা ১৩০ ডেসিবল ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি।-খবর বিবিসি বাংলার।

শব্দদূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে উঠে এসেছে, রাজধানীর পল্টন, শাহবাগ ও ফার্মগেট, মতিঝিল, রামপুরাসহ কয়েকটি এলাকার নাম।

যানবাহনের হর্ন, ভবনের নির্মাণকাজ, কলকারখানা এবং মাইকিংয়ে শব্দদূষণ ছড়ায়। বিশেষ করে সিগন্যালগুলোতে একসঙ্গে কয়েকশ গাড়ি হর্ন বাজানোকে শব্দদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন পথচারীরা।

মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে বলে পরিবেশ অধিদফতরের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে আসে।

সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা।

এক্ষেত্রে শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানান পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ। এক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।

শব্দদূষণ প্রতিরোধে ২০০৬ সালের বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেটি রয়েছে শুধু কাগজকলমে।

বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়ের সামনে এবং আবাসিক এলাকায় হর্ন বাজানো, মাইকিং করা সেই সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে জোরে শব্দ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে সেই আইনের কোনো প্রয়োগ নেই।

শব্দদূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে একেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে।

শব্দদূষণ রোধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর হিয়ারিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ ১৯৯৬ সাল থেকে শব্দ সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। তবে বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে দিবসটি পালন শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে।