ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা ‘ভারতের চাপে আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানবো না’:আসিফ নজরুল পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়েছে: শেখ বশির উদ্দীন ক্ষমতায় গেলে দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে যোগ্যদের মন্ত্রী বানাবে জামায়াত: তাহের চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি আমার পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির উপজেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে: নুর তেহরান যদি আক্রমণ করে,‘এমন শক্তি দিয়ে হামলা চালাবো, যা সে কখনও চোখে দেখেনি’:নেতানিয়াহু উত্তর কোরিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন কিম জং উন ঋণের অর্থ ছাড়াই শক্তিশালী রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ: গভর্নর

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ বলের ছক্কায় কোয়ালিফায়ারে সিলেট, রংপুরের বিদায়

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

আপডেট সময় ০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।