ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ‘নজিরবিহীন’ ড্রোন হামলা চাকরি হারালেন ১৮৬৮ গার্মেন্টকর্মী, প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এমপিদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য হতে হবে গণমুখী: জামায়াত আমির এলপিজি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের ৬ শান্তিরক্ষী এরদোগানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৫ স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ‘নজিরবিহীন’ ড্রোন হামলা

চাকরি চাই না, অন্তত একটা চোখের আলো ফিরিয়ে দিন: সিদ্দিকুর

আপডেট সময় ০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘চোখের আলো ফিরিয়ে দিন, আমি পৃথিবীর আলো দেখতে চাই, প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ চাই। আমার সরকারি চাকরির দরকার নেই। প্রয়োজনে আমি যেকোনো কাজ করে খাব। গায়ে খাটব। তাও আমি অন্তত একটা চোখের আলো ফেরত চাই।’

ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর এভাবেই তাঁর বন্ধু শেখ ফরিদের কাছে সোমবার এই আকুতি জানান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সিদ্দিকুর দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বাঁ চোখেও দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া আপাতত তাঁর চোখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাও নেই। ফলে সিদ্দিকুর বেশ বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তার বন্ধু শেখ ফরিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১১ জুলাই শুক্রবার সিদ্দিকুর দেশে ফিরবেন।

শেখ ফরিদ জানান, ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার আবার সিদ্দিকুরকে দেখবেন। আগামী চার-পাঁচ সপ্তাহ চোখে ওষুধ দেওয়া আর পর্যবেক্ষণে রাখা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে আলো ফিরবে কি না, এর পরই তা বোঝা যাবে। দেশের হাসপাতালে রেখেও এ পর্যবেক্ষণ চলতে পারে। তাই সিদ্দিকুরকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাখা হবে।

শেখ ফরিদ আরো জানান, চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা জানিয়েছেন, রেটিনা মূলত চোখে আলো দেয়। সেই রেটিনার ৯০ শতাংশই একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে সিদ্দিকুরের। এ ছাড়া বেশির ভাগ নার্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চোখ প্রতিস্থাপনের সুযোগও নেই। যদি পরে আরো উন্নত চিকিৎসা করা যায়, তাহলে বোঝা যাবে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ আছে কি না।

গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা চেয়ে বিক্ষোভের সময় শাহবাগে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।