ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিজের সমস্যা বেড়েছে, হাঁটুতেও কষ্ট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিজের সমস্যাটা বেশ বেড়ে গেছে। তার হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে। এজন্য তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার বলে জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, কারাগারে সত্যিকার অর্থেই খালেদা জিয়া অসুস্থ। দুঃখজনক হলেও সত্য, ওই চিকিৎসা এখনও তিনি পাচ্ছেন না। কারণ তাকে যারা চিকিৎসা করতেন, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এখনও দেখা করতে দেয়া হয়নি। তবে খালেদা জিয়ার মনোবল অনেক শক্ত। তিনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ। চেয়ারপারসন চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান বিএনপি মহাসচিব। প্রায় এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল এ তথ্য জানান। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেমন দেখলেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বন্দিজীবনে খালেদা জিয়া অভ্যস্ত নন। তাকে যখন বন্দি করে রাখা হয়, তখন চাপ পড়েই। তবে উনার মনোবল অনেক শক্ত। উনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন, আমার জন্য আপনারা ভাববেন না। আমি ভালো আছি, আমি শক্ত আছি।’

খালেদা জিয়ার বার্তা কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে যে সংকট বিরাজ করছে, সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি মনে করেন, একমাত্র পথ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখতে বলেছেন। তিনি মনে করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই হল একমাত্র পথ।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও মহাসচিবের একান্ত সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের এক বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে বেশকিছু বিষয়ে খালেদা জিয়ার মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিবের সাক্ষাতে দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করা, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করণীয়, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গঠন প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের কয়েকজন নেতা কথা বলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতারা এসব তথ্য জানান।

এর আগে ২৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয় বিএনপিনেত্রীর অসুস্থতার কারণে। সর্বশেষ ৭ মার্চ মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাত নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ওইদিন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এমবিএম আবদুস সাত্তারও ছিলেন ফখরুলের সঙ্গে। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তার ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর, স্ত্রী কানিজ ফাতিমাসহ পরিবারের সদস্যরাও কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও দুই দফা কারাগারে দেখা করেছেন তার সঙ্গে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিজের সমস্যা বেড়েছে, হাঁটুতেও কষ্ট

আপডেট সময় ১০:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিজের সমস্যাটা বেশ বেড়ে গেছে। তার হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে। এজন্য তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার বলে জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, কারাগারে সত্যিকার অর্থেই খালেদা জিয়া অসুস্থ। দুঃখজনক হলেও সত্য, ওই চিকিৎসা এখনও তিনি পাচ্ছেন না। কারণ তাকে যারা চিকিৎসা করতেন, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এখনও দেখা করতে দেয়া হয়নি। তবে খালেদা জিয়ার মনোবল অনেক শক্ত। তিনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ। চেয়ারপারসন চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান বিএনপি মহাসচিব। প্রায় এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল এ তথ্য জানান। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেমন দেখলেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বন্দিজীবনে খালেদা জিয়া অভ্যস্ত নন। তাকে যখন বন্দি করে রাখা হয়, তখন চাপ পড়েই। তবে উনার মনোবল অনেক শক্ত। উনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন, আমার জন্য আপনারা ভাববেন না। আমি ভালো আছি, আমি শক্ত আছি।’

খালেদা জিয়ার বার্তা কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে যে সংকট বিরাজ করছে, সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি মনে করেন, একমাত্র পথ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখতে বলেছেন। তিনি মনে করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই হল একমাত্র পথ।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও মহাসচিবের একান্ত সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের এক বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে বেশকিছু বিষয়ে খালেদা জিয়ার মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিবের সাক্ষাতে দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করা, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের করণীয়, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গঠন প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের কয়েকজন নেতা কথা বলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতারা এসব তথ্য জানান।

এর আগে ২৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয় বিএনপিনেত্রীর অসুস্থতার কারণে। সর্বশেষ ৭ মার্চ মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাত নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ওইদিন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এমবিএম আবদুস সাত্তারও ছিলেন ফখরুলের সঙ্গে। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তার ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর, স্ত্রী কানিজ ফাতিমাসহ পরিবারের সদস্যরাও কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও দুই দফা কারাগারে দেখা করেছেন তার সঙ্গে।